দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজন সড়ক ব্যবস্থার সার্বিক উন্নয়ন
মুহিবুল হাসান রাফি
প্রকাশ : ০১ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঈদযাত্রার ১৫ দিনে দেশের সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন ৩৯৪ জন। আহত হয়েছেন ১ হাজার ২৮৮ জন। এর মধ্যে শুধু সড়কেই ৩৪৬টি দুর্ঘটনায় ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৬ জন।
বেসরকারি সংস্থা বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশন বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে জানিয়েছে, এবারের আটদিনের ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনায় ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, ঈদযাত্রার অধিকাংশ দুর্ঘটনাই বাইক দুর্ঘটনা। এছাড়া বড় কিছু মর্মান্তিক দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, এগুলো হলো প্রাথমিক তথ্য। এখন ছুটি শেষে যখন কর্মক্ষেত্র চালু হয়েছে, তখন আনও তথ্য পাওয়া যাবে। ঈদের ছুটির আগে সড়কে আমরা তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক দেখলেও ফিরতি যাত্রায় এমন ভয়াবহ চিত্র কেন দেখা যায়। কারণটি বোঝা জরুরি। ঈদের আগে সরকারের নজরদারি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর যে কঠোরতা সড়কে থাকে, তা ঈদের পর দেখা যায় না। হাইওয়ে পুলিশ, বিআরটিএ ও স্থানীয় প্রশাসনে সরকারের দায়িত্বশীলরা ঈদযাত্রার মধ্যে বাড়ি যাওয়ার সময়ই বেশি গুরুত্ব দেন। ঈদের পর থেকে ফিরতি যাত্রার সময়ে ছুটির আমেজটা গাঢ় হয়ে যায়। এ সময়ে মানুষের ফেরার পরিকল্পনায় হেরফের ঘটে আর মানুষের মধ্যে বাড়তি তাড়া দেখা দেয়। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। সড়কে সমন্বিতভাবে নিয়ন্ত্রণ না থাকায় আমরা যাত্রী ভোগান্তির নিরিখে দুর্ঘটনা ঘটতে দেখেছি। ট্রেন দুর্ঘটনা অতীতের তুলনায় অনেক বেশিই বলা যায়। যাত্রী ভোগান্তি এড়ানোর ক্ষেত্রে কঠোর তদারকির প্রয়োজন ছিল। বিশেষত আমাদের রেলগুলো জরাজীর্ণ। শিডিউল বিপর্যয় এড়ানোর বিষয়টি আমাদের মূল সমস্যা নয়। জরাজীর্ণ অধিকাংশ রেলের ধারণ সক্ষমতা কম। তাছাড়া রেললাইন ও পারিপার্শ্বিক অনেক কিছুতে সমস্যা আছে। এসব সমস্যা নিয়ে ভাবতে হবে এবং কাজ করতে হবে। কারণ সামনে আরেকটি ঈদ। সে সময়ও যেন এসব দিক মোকাবেলা করা যায় তা ভাবতে হবে।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধে গত ১৫ দিনে হতাহত বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
এতে বলা হয়, ঈদ উপলক্ষে যাত্রা শুরুর দিন ১৪ মার্চ থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরার দিন ২৮ মার্চ পর্যন্ত ১৫ দিনে ৩৪৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৫১ জন নিহত ও ১ হাজার ৪৬ জন আহত হয়েছেন। সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে ২ হাজার ১৭৮ জন জাতীয় অর্থোপেডিক (পঙ্গু) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরে ৩১৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত ও ৮২৬ জন আহত হন। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবারের ঈদে সড়ক দুর্ঘটনা ৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ, প্রাণহানি ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ এবং আহত ২১ শতাংশ বেড়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে রেলপথে ২৩টি দুর্ঘটনায় ৩৫ জন নিহত ও ২২৩ জন আহত হয়েছেন। নৌপথে ৮টি দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১৯ জন আহত ও ৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সব মিলিয়ে সড়ক, রেল ও নৌপথে ৩৭৭টি দুর্ঘটনায় ৩৯৪ জন নিহত এবং ১ হাজার ২৮৮ জন আহত হয়েছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিশ্লেষণে দেখা যায়, গত কয়েক বছরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল।
মুহিবুল হাসান রাফি
সাংবাদিক ও কলামিস্ট
