মশার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ ডেমরাবাসী
মো. মিজানুর রহমান
প্রকাশ : ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত ডেমরা। মশার এক মহা স্বর্গরাজ্য। এখানকার বাসিন্দারা মশাদের কাছে জিম্মি বললেই চলে। রাত-দিন সমানে কামড়ায় মশা। পবিত্র রমজান মাসেও মানুষের কষ্টের সীমা ছিল না। ইবাদতের সময় মশার যন্ত্রণা ছিল অসহ্যকর। অনেক সময় খাবারের সঙ্গে বিশেষ সালাদ হিসাবেও মশা মুখে অভক্তি থাকা শত্ত্বেও চলে যায়। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ ব্যাহত হয়। যেমন কিছু দিন পরেই শুরু হবে এসএসসি পরীক্ষা। এছাড়াও শিশু, বৃদ্ধ, গর্ভবতী মা, অসুস্থ, মুমূর্ষু, রোগীদের জন্য মশা এক বিদ্যমান আতঙ্ক।
ডেমরায় বিশেষ করে ৬৬, ৬৭ ও ৬৮নং ওয়ার্ড মশা উৎপাদনের কারখানা বলা চলে। কেননা এই ওয়ার্ডগুলোর বুক চিরে ছুটে গেছে ডিএনডি খাল বা ঢাকা নারায়ণগঞ্জ ডেমরা কৃত্রিম খাল। এই খাল আর এখন খাল নেই। এর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে হয়েছে বেদখল। হয়েছে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়, এছাড়াও বাসাবাড়ি, কলকারখানার সুয়ারেজ লাইন সরাসরি খালে স্থাপন ও জলাবদ্ধতা, যা মশার জন্য এক অভয়াশ্রম বলা যায়। মশার কামড়ে ছড়াচ্ছে বিভিন্ন মশাবাহিত রোগ জীবাণু যেমন : ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়া, জিকা ভাইরাস, ফাইলেরিয়াসিস ইত্যাদি যা মানবদেহের জন্য প্রাণঘাতী। প্রতিবছর মশাবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়ে বহু মানুষ হাসপাতালের বেডে শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে ও মৃত্যুও ঘটছে।
প্রচলিত ঘরোয়াভাবে মশা তাড়ানো জন্য দোকানপাটে যে-সব দ্রব্যাদি পাওয়া যায়, যেমন : মশার কয়েল, স্প্রে, শরীরের মাখার মলম তা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। মানহীন বিভিন্ন কেমিক্যাল দ্বারা তৈরি যা শিশু, বয়স্ক, গর্ভবতী, অথবা শ্বাসকষ্টের রোগীদের জন্য সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যগত হুমকিস্বরূপ। বাজারে কিছু ইলেকট্রিক মশা মারার ব্যাট পাওয়া যায় যা ব্যবহারে রয়েছে ইলেকট্রিক শর্ট খাওয়ার ঝুঁকি। এধরনের ইলেকট্রনিক যন্ত্র কখনও কারেন্ট গেলে চার্জ না দিতে পারায় বন্ধ হয়ে যায়। এছাড়াও কয়েকদিন ব্যবহারের পরে কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যায়। মশা নিধনে এলাকাবাসীরও প্রয়োজন সচেতন হওয়া, বাড়িঘর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা, কাপড়চোপড় গুছিয়ে ভাঁজ করে রাখা। বাড়ির আঙিনা, চারপাশ, ঝোপঝাড়, জঙ্গল, আগাছা কেটে পরিষ্কার করে রাখা, জলাবদ্ধতা নিরসন করা, ময়লা আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে তা ঢেকে রাখা, সম্ভব হলে মাটি চাপা দেওয়া। ছাদে বা বাড়ির চারপাশে টবে লাগানো গাছের গোড়ায় জমা অতিরিক্ত পানি, বিশেষ করে বৃষ্টি হলে জমা পানি থাকলে তা ফেলে পরিষ্কার রাখা। ডাবের খোলস, পরিত্যক্ত গাড়ির টায়ার, বিভিন্ন বোতল, ডিবা পড়ে থাকলে তার মধ্যে জমে থাকে বৃষ্টির পানি, যা মশার ডিম পারার নিরাপদ স্থল, তাই এসব ফেলে দেওয়া পরিত্যক্ত জিনিসপত্র যেখানে সেখানে ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। নাগরিক হিসেবে যত সচেতন হবে, নগর ততই পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও উন্নত হবে।
মশা নিধনে নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কাছে চাই দ্রুত কার্যকরী শক্ত পদক্ষেপ। একই সঙ্গে ডিএনডি খালের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিবেশবান্ধব করে গড়ে তোলা হয়। যাতে ডেমরাবাসী স্বস্তিতে শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থতার সঙ্গে বসবাস করতে পারে। প্রয়োজন হলে ডিএনডি খাল রক্ষার্থে পানি আইন ২০১৩ অনুযায়ী কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।
মো. মিজানুর রহমান
সরকারি তোলারাম কলেজ
