সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার বাড়াতে হবে

আবিদ হাসান

প্রকাশ : ০৬ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সৌরবিদ্যুৎ বর্তমান বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নবায়নযোগ্য জ্বালানি উৎস। সূর্যের আলো থেকে উৎপন্ন এই শক্তি পরিবেশবান্ধব, অফুরন্ত এবং টেকসই। জীবাশ্ম জ্বালানির মতো এটি ফুরিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা নেই, বরং প্রতিদিন সূর্যের আলো থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে শক্তি আহরণ করা সম্ভব। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সৌরবিদ্যুৎ একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে কার্বন নিঃসরণ কমানো সম্ভব, যা পরিবেশ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সহায়ক। তাই টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।

বর্তমান বিশ্ব এক গভীর জ্বালানি সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে। ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, শিল্পায়ন এবং প্রযুক্তির বিস্তারের ফলে জ্বালানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কিন্তু প্রচলিত জীবাশ্ম জ্বালানি যেমন তেল, গ্যাস ও কয়লা সীমিত এবং পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে আমেরিকা, ইসরায়েল ও ইরানকে ঘিরে সংঘাতময় পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলেছে। মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলের অস্থিরতা তেল সরবরাহে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে, ফলে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং অনেক দেশ অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে বিকল্প জ্বালানির গুরুত্ব আরও বেড়ে গেছে।

নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌরবিদ্যুৎ, এই সংকট মোকাবিলায় একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলো এরইমধ্যে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। ইউরোপ, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্রে বড় পরিসরে সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, পাশাপাশি গৃহস্থালি পর্যায়েও সৌর প্যানেল ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এর ফলে তারা জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে স্বনির্ভরতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, অনেক উন্নয়নশীল দেশও নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ঝুঁকছে, কারণ এটি দীর্ঘমেয়াদে অর্থনৈতিক ও পরিবেশগতভাবে লাভজনক। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমাদের দেশে এই খাতে প্রত্যাশিত অগ্রগতি দেখা যায় না। নবায়নযোগ্য শক্তির সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও তা পুরোপুরি কাজে লাগানো হচ্ছে না। বরং বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যয়বহুল পদ্ধতি যেমন নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্টের দিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। যদিও নিউক্লিয়ার শক্তি উৎপাদন সক্ষমতা বেশি, তবে এর সঙ্গে জড়িত নিরাপত্তা ঝুঁকি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং উচ্চ ব্যয় বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। এর বিপরীতে সৌরবিদ্যুৎ নিরাপদ, সহজলভ্য এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায় এটি আরও বেশি গুরুত্ব পাওয়া উচিত ছিল।

সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্যতম বড় সুবিধা হলো এর খরচ তুলনামূলকভাবে কম এবং রক্ষণাবেক্ষণ সহজ। একবার সৌর প্যানেল স্থাপন করা হলে দীর্ঘ সময় ধরে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

বিশেষ করে শহরাঞ্চলে ভবনের ছাদে এবং গ্রামাঞ্চলে খোলা জায়গায় সৌরপ্যানেল স্থাপন করে সহজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। এতে বিদ্যুতের উপর নির্ভরতা কমে এবং লোডশেডিং সমস্যাও অনেকাংশে হ্রাস পায়। দূরবর্তী অঞ্চলে যেখানে জাতীয় গ্রিড পৌঁছায়নি, সেখানে সৌরবিদ্যুৎ একটি কার্যকর সমাধান হিসেবে কাজ করতে পারে। ফলে দেশের সার্বিক বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ভারসাম্য রক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি।

আবিদ হাসান

শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়