বন্যা ও বাংলাদেশ : জলবায়ু, কূটনীতি ও প্রস্তুতির ত্রিমাত্রিক চ্যালেঞ্জ
জুবাইয়া বিন্তে কবির
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বাংলাদেশের আকাশে যখন কালো মেঘ জমে, তখন শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাসই আসে না আসে উৎকণ্ঠা, অজানা আশঙ্কা আর নদীঘেরা মানুষের বুকভরা দুশ্চিন্তা। এই ভূখণ্ডের মানুষ বরাবরই প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে থাকার ইতিহাস রচনা করেছে। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাত, দুর্বল অবকাঠামো এবং আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার জটিলতায় সেই লড়াই দিন দিন আরও কঠিন হয়ে উঠছে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এরইমধ্যে সতর্ক করেছে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও তা এরইমধ্যে শুরু হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য বন্যা নতুন কিছু নয়। বরং এই নদীমাতৃক ভূখণ্ডের জন্মই হয়েছে বন্যার পলি ও পানির দীর্ঘ ভূতাত্ত্বিক ইতিহাসের মধ্য দিয়ে। কিন্তু যে বন্যা একসময় জমিকে উর্বর করত, নদীকে জীবন্ত রাখত এবং প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখত আজ সেই বন্যাই পরিণত হয়েছে ভয়াবহ মানবিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ে। কারণ, আজকের বন্যা শুধু প্রাকৃতিক নয়; এটি জলবায়ু পরিবর্তনের নির্মম অভিঘাত, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী ভরাট, জলাবদ্ধতা, বন উজাড়, পাহাড় কাটা এবং আন্তঃসীমান্ত পানি ব্যবস্থাপনার রাজনৈতিক সংকটের সম্মিলিত ফল।
সাম্প্র্রতিক তথ্য অনুযায়ী, মৌলভীবাজারের মনু নদী এবং নেত্রকোণার ভুগাই-কংস নদীর পানি এরইমধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। সুনামগঞ্জের মধ্যনগরে বাঁধ ভেঙে হাওরের ফসল ক্ষতির মুখে পড়েছে। হাওরাঞ্চলে কৃষকদের বুকজুড়ে এখন একটাই আতঙ্ক মাঠে দাঁড়িয়ে থাকা শেষ ধানটুকু কি ঘরে তুলতে পারবেন? নাকি পানির স্রোতে সব ভেসে যাবে? হাওরের কৃষক জানেন, একটি মৌসুমের ধানই তার পুরো বছরের জীবনরসদ। একটি ফসল নষ্ট হওয়া মানে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়; মানে সন্তানের পড়াশোনা থেমে যাওয়া, ঋণের বোঝা বেড়ে যাওয়া, খাদ্যসংকট, অনিশ্চয়তা এবং নতুন করে বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
সিলেট অঞ্চলের মানুষ এখনও ভুলতে পারেননি ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যা। লাখো মানুষ পানিবন্দী হয়েছিল, শহর-গ্রাম ডুবে গিয়েছিল, বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছিল, খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে নাজেহাল হয়েছিল পুরো অঞ্চল। সেই স্মৃতি এখনও শুকায়নি, তার মধ্যেই নতুন করে বন্যার পূর্বাভাস মানুষের মনে পুরোনো আতঙ্ক ফিরিয়ে এনেছে। বন্যা নিয়ে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তুতির কথা বলা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খুলেছে। দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে সমন্বয় করছে। মাঠপর্যায়ে ধান কাটতে উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার নির্দেশনা এসেছে। এসব উদ্যোগ অবশ্যই ইতিবাচক। কিন্তু প্রশ্ন হলো প্রতিবার দুর্যোগের মুখে এসে কেন আমাদের প্রস্তুতি শুরু হয়? কেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এখনও অনেকাংশে প্রতিক্রিয়ামূলক, পূর্বপ্রস্তুতিমূলক নয়?
বাংলাদেশে প্রতি বছর বন্যা হবে এটি নতুন তথ্য নয়। বরং এটি একটি পূর্বানুমেয় বাস্তবতা। তাহলে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, অবকাঠামো উন্নয়ন, নদী ব্যবস্থাপনা, টেকসই বাঁধ সংস্কার, খাল খনন, জলাধার পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা নিরসন ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাকে কেন আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে না? বন্যা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আন্তঃসীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনার প্রসঙ্গ এড়ানো যায় না। বাংলাদেশ ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদীর নিম্ন অববাহিকায় অবস্থিত। ফলে উজানের দেশ ভারতের পানি ব্যবস্থাপনা বাংলাদেশের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একটি প্রশ্ন ঘুরেফিরে আসে- ভারত কি হঠাৎ পানি ছেড়ে দিয়েছে? যদিও এ প্রশ্ন প্রায়ই আবেগ ও রাজনৈতিক বক্তব্যে ঘেরা থাকে, বাস্তবতা আরও জটিল। উত্তর-পূর্ব ভারতের ভারি বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢল, বাঁধ ব্যবস্থাপনা এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ- সব মিলিয়ে বাংলাদেশের নদীগুলোতে দ্রুত পানি বৃদ্ধি পায়।
তবে একটি বিষয় অনস্বীকার্য- আন্তঃসীমান্ত তথ্য বিনিময় এবং আগাম সতর্কতা আরও কার্যকর হওয়া জরুরি। যৌথ নদী কমিশনকে আরও সক্রিয় ও ফলপ্রসূ করতে হবে। পানি শুধু কূটনীতির বিষয় নয়; এটি মানবিক নিরাপত্তার বিষয়, খাদ্য নিরাপত্তার বিষয় এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচারের বিষয়। আজকের পৃথিবীতে পানি-রাজনীতি আর শুধু নদীর প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি কৌশলগত সম্পদ, আঞ্চলিক সম্পর্ক এবং জাতীয় নিরাপত্তার অংশ। দক্ষিণ এশিয়ায় টেকসই নদী ব্যবস্থাপনা ছাড়া ভবিষ্যতের স্থিতিশীলতা কল্পনা করা কঠিন। বাংলাদেশেরও নিজেদের ঘর গোছাতে হবে। নদী দখল ও দূষণ বন্ধ না করে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ নিয়ন্ত্রণ না করে, জলাধার ভরাট বন্ধ না করে শুধু প্রতিবেশীকে দায়ী করলে সমাধান মিলবে না। ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ফেনীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সামান্য ভারি বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়া আমাদের নগর পরিকল্পনার সীমাবদ্ধতাকে স্পষ্ট করে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা দুর্বল, খাল ভরাট, নালা দখল এসব মিলিয়ে বৃষ্টি যেন শহরের জন্যও অভিশাপ হয়ে উঠেছে। এবারের বৃষ্টিপাতে চট্টগ্রামে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় শহরের বিভিন্ন এলাকা ডুবে গেছে। কুমিল্লা ও ফেনীতেও অস্থায়ী জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। অর্থাৎ, বন্যা আর শুধু নদীভাঙা গ্রামাঞ্চলের সমস্যা নয়; এটি এখন জাতীয় অবকাঠামোগত সংকট।
এ অবস্থায় করণীয় কী? প্রথমত, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে আরও বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে। স্থানীয় সরকার, ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা প্রশাসন, স্বেচ্ছাসেবক দল, স্কুল-কলেজ এবং স্থানীয় কমিউনিটিকে দুর্যোগ প্রস্তুতির মূল অংশীদার করতে হবে। দ্বিতীয়ত, আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করতে হবে। মোবাইল এসএমএস, কমিউনিটি রেডিও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, স্থানীয় মাইকিং এবং রিয়েল-টাইম ডাটা শেয়ারিংয়ের মাধ্যমে দ্রুত তথ্য পৌঁছে দিতে হবে। তৃতীয়ত, কৃষকদের জন্য বিশেষ সুরক্ষা প্যাকেজ জরুরি। বন্যাপ্রবণ এলাকায় ফসল বীমা, জলসহনশীল ধানের জাত, বিকল্প জীবিকা, কৃষিঋণ পুনঃতফসিল এবং দ্রুত ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থার বিকল্প নেই। চতুর্থত, আশ্রয়কেন্দ্র, বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন, শুকনো খাবার, ওষুধ ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। বন্যা-পরবর্তী সময়েই সবচেয়ে বেশি ছড়ায় ডায়রিয়া, কলেরা, টাইফয়েড, চর্মরোগ ও হেপাটাইটিস। তাই দুর্যোগ মোকাবিলার পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। পঞ্চমত, নদী ব্যবস্থাপনায় বিজ্ঞানভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। শুধু বাঁধ নির্মাণই সমাধান নয়; কোথাও নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া, কোথাও রিটেনশন এরিয়া তৈরি, কোথাও খাল পুনঃখনন, কোথাও জলাধার সংরক্ষণ এসব সমন্বিতভাবে করতে হবে। বাংলাদেশ প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে জিততে পারবে না। কিন্তু প্রকৃতির সঙ্গে সহাবস্থান শিখতে পারবে। বন্যা পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব নয়, প্রয়োজনও নয়। কারণ বন্যা এই ভূখণ্ডের স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। প্রয়োজন হলো ক্ষয়ক্ষতি কমানো, প্রস্তুতি বাড়ানো এবং মানুষের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত রাখা।
বন্যা মোকাবিলায় উন্নত বিশ্বের অভিজ্ঞতা আজ বাংলাদেশের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার ভাণ্ডার। নেদারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই সমুদ্রপৃষ্ঠের নিচে অবস্থান করেও বন্যাকে নিয়ন্ত্রণে রেখেছে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে। তাদের ‘ডেল্টা ওয়ার্কস’ প্রকল্প বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পানি ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ প্রমাণ করেছে, পরিকল্পিত অবকাঠামো, বৈজ্ঞানিক পূর্বাভাস এবং কঠোর রক্ষণাবেক্ষণ কিভাবে একটি জাতিকে দুর্যোগের হাত থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। নদী ও সমুদ্রের পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে স্বয়ংক্রিয় স্লুইসগেট, শক্তিশালী বাঁধ এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিং সিস্টেম ব্যবহার করে তারা ঝুঁকি কমিয়ে এনেছে সর্বনিম্ন পর্যায়ে। একইভাবে জাপান তাদের শহরাঞ্চলে ভূগর্ভস্থ বিশাল জলাধার ও টানেল নির্মাণ করেছে যা অতিবৃষ্টি বা হঠাৎ পানি বৃদ্ধির সময় অতিরিক্ত পানি ধারণ করে শহরকে রক্ষা করে। টোকিওর নিচে বিস্তৃত ‘মেট্রোপলিটন এরিয়া আউটার আন্ডারগ্রাউন্ড ডিসচার্জ চ্যানেল’ যেন এক নীরব রক্ষাকবচ, যা শহরবাসীকে অদৃশ্যভাবে নিরাপদ রাখে। এসব উদাহরণ আমাদের মনে করিয়ে দেয়- প্রকৃতির বিরুদ্ধে যুদ্ধ নয়, বরং বিজ্ঞানের সহায়তায় সহাবস্থানই টেকসই সমাধান।
বন্যা ব্যবস্থাপনায় শুধু অবকাঠামো নয়, বরং জনসচেতনতা ও আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাও উন্নত বিশ্বের বড় শক্তি। যুক্তরাষ্ট্রের ‘ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস’ ও ‘ফেমা’ সমন্বিতভাবে আধুনিক স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ও ডেটা অ্যানালিটিক্স ব্যবহার করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে আগেভাগেই সতর্ক করে। ফলে মানুষ সময়মতো নিরাপদ স্থানে সরে যেতে পারে এবং প্রাণহানি কমে আসে। অন্যদিকে জার্মানির নদী অববাহিকা ব্যবস্থাপনায় ‘রিভার রিস্টোরেশন’ ও ‘ফ্লাডপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট’ পদ্ধতি অনুসরণ করে যেখানে নদীকে তার স্বাভাবিক বিস্তারের সুযোগ দেওয়া হয়, যাতে অতিরিক্ত পানি চাপ কমে। স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে নিয়মিত মহড়া, প্রশিক্ষণ এবং জরুরি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হয়। এই সমন্বিত উদ্যোগগুলো দেখায়, শুধু সরকার নয় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে সফল করে তোলে। বাংলাদেশের জন্য এই অভিজ্ঞতাগুলো শুধু অনুকরণ নয়, বরং বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে প্রয়োগের এক অপরিহার্য আজ যখন আকাশের বুক ভারী হয়ে ওঠে, নদীর জল ধীরে ধীরে সীমা অতিক্রমের ইঙ্গিত দেয়, আর হাওরের কৃষক অনিশ্চয়তার চোখে দিগন্তের দিকে তাকিয়ে থাকেন তখন আমাদের উপলব্ধি করতে হয়, বন্যা শুধু প্রকৃতির একটি ঘটনা নয়; এটি রাষ্ট্রের সামগ্রিক সক্ষমতার এক গভীর পরীক্ষাক্ষণ। এই পরীক্ষা নীতিনির্ধারণের প্রজ্ঞা, প্রস্তুতির দৃঢ়তা, আঞ্চলিক সহযোগিতার আন্তরিকতা এবং মানবিক দায়বদ্ধতার গভীরতাকে একসঙ্গে যাচাই করে। প্রকৃতি কখনও নির্মম, কখনও উদার; তার এই দ্বৈত রূপ আমরা বদলাতে পারি না, কিন্তু তার অভিঘাতে মানুষের অসহায়ত্ব কমিয়ে আনা এ দায়িত্ব আমাদেরই। এই প্রেক্ষাপটে বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে থাকা তারেক জিয়া-এর প্রতি আজ জনগণের প্রত্যাশা এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। একজন রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে তাঁর বিচক্ষণতা, সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এই সংকটময় সময়ে হয়ে উঠতে পারে আশার আলোকবর্তিকা। এরইমধ্যে সরকারের বিভিন্ন প্রস্তুতি ও তৎপরতা সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের আস্থা সৃষ্টি করেছে; এখন প্রয়োজন সেই উদ্যোগকে আরও দ্রুত, আরও কার্যকর ও আরও মানবিক পরিসরে বিস্তৃত করা। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য শক্ত নির্দেশনা, দ্রুত ত্রাণ ও উদ্ধার কার্যক্রম, এবং ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে তাৎক্ষণিক সহায়তা এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় দাবি। কারণ এই দেশের কোটি কোটি মানুষ আজ শুধু নিরাপত্তা চায় না, চায় আশ্বাস যে রাষ্ট্র তাদের পাশে আছে। যদি এই সংকটকালে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে মানুষকে বন্যার ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করা যায়, তবে তা শুধু একটি প্রশাসনিক সাফল্য হবে না; তা হয়ে উঠবে জনমানুষের হৃদয়ে এক গভীর আস্থার ভিত্তি। তখন নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা কৃষক, প্লাবিত গ্রামের মানুষ, কিংবা শহরের উদ্বিগ্ন নাগরিক সকলেই একসঙ্গে কৃতজ্ঞতার ভাষায় উচ্চারণ করবে রাষ্ট্রের প্রতি তাদের বিশ্বাসের কথা। বন্যার জল যেমন পলি বয়ে এনে মাটিকে উর্বর করে তোলে, তেমনি সঠিক নেতৃত্ব ও মানবিক উদ্যোগ এই সংকটকে রূপ দিতে পারে এক নতুন সম্ভাবনায়। আজকের এই পূর্বাভাস তাই নিছক আবহাওয়ার বার্তা নয় এটি সময়ের আহ্বান। প্রস্তুতির বিকল্প নেই, দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। আর যদি এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা যায়, তবে দেশের মানুষ শুধু নিরাপদই হবে না তারা কৃতজ্ঞতা, ভালোবাসা ও প্রার্থনায় স্মরণ করবে সেই নেতৃত্বকে, যিনি দুর্যোগের মুখে দাঁড়িয়ে তাদের পাশে থেকেছেন দৃঢ়ভাবে।
জুবাইয়া বিন্তে কবির
অর্থনীতিবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও কলামিস্ট
