ভুয়া ফটোকার্ডে অপতথ্য আইনগত ও সামাজিক প্রতিরোধ জরুরি
প্রকাশ : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে একশ্রেণির অসাধু ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘ফটোকার্ড’ ব্যবহার করে গুজব ও বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। এ প্রবণতা শুধু ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি করছে না, বরং তা সামাজিক স্থিতিশীলতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাধারণত সংবাদের মূল চুম্বক অংশ দিয়ে তৈরি ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত তথ্য ছড়ানোর অন্যতম জনপ্রিয় মাধ্যম। কিন্তু এ প্রযুক্তি এখন সাইবার অপরাধীদের প্রধান হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে মূলধারার গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে হুবহু নকল ফন্ট ও গ্রাফিক্সে তৈরি করা হচ্ছে ভুয়া ফটোকার্ড। সাধারণ পাঠক অনেক সময় লোগো দেখে বিভ্রান্ত হয় এবং তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই তা শেয়ার করে। ফলে মুহূর্তের মধ্যে একটি মিথ্যা সংবাদ কয়েক লাখ মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে, যা জনমনে চরম ক্ষোভ বা আতঙ্ক সৃষ্টি করছে।
এ ডিজিটাল সন্ত্রাসের উদ্দেশ্য বহুমুখী। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা উসকে দেওয়া, কিংবা অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরির লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এসব কার্ড ছড়ানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিবিশেষের চরিত্রহননের জন্য কুরুচিপূর্ণ ও ভিত্তিহীন বক্তব্য এসব ফটোকার্ডে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে। যেহেতু ফটোকার্ডের বার্তাটি ছোট এবং সরাসরি হয়, সেহেতু এটি মানুষের মস্তিষ্কে দ্রুত প্রভাব ফেলে। সত্য যখন প্রকাশিত হয়, ততক্ষণে মিথ্যার বিষবাষ্পে সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যায়। কাজেই এ ডিজিটাল সন্ত্রাস প্রতিরোধ করা অত্যন্ত জরুরি। সমস্যা হলো, অনেক দেশেই এআই প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে আইন, নীতিমালা ও দিকনির্দেশনা থাকলেও বাংলাদেশে এখনও এ ধরনের কোনো আইন নেই। আমরা মনে করি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার রোধে অবিলম্বে কঠোর আইন প্রণয়ন করা দরকার। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তৎপর হতে হবে। যারা বিভ্রান্তিমূলক কার্ড তৈরি ও প্রচার করছে, তাদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি মূলধারার গণমাধ্যমগুলোকে তাদের অফিসিয়াল পেজ থেকে নিয়মিত সচেতনতামূলক প্রচারণা চালাতে হবে এবং ভুয়া কার্ড শনাক্ত করার উপায় শিখিয়ে দিতে হবে। সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ‘ফ্যাক্ট-চেক’ বা তথ্য যাচাইয়ের সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। কোনো চাঞ্চল্যকর তথ্য দেখলেই সেটি শেয়ার করার আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট বা ভেরিফায়েড পেজ চেক করা বাধ্যতামূলক হওয়া উচিত। বস্তুত ডিজিটাল সন্ত্রাস দমন শুধু আইন দিয়ে সম্ভব নয়; প্রয়োজন সম্মিলিত সামাজিক প্রতিরোধ।
