প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৬ মে, ২০২৬
২০২৬-২৭ অর্থবছরের আসন্ন বাজেটের যে কর কাঠামোটি সামনে এসেছে, তাতে সাধারণ করদাতার মনে উদ্বেগের কালো মেঘ জমা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। অন্তর্বর্তী সরকার ঘোষিত নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা সামান্য বাড়লেও কর হারের ‘মারপ্যাঁচে’ আদতে করের বোঝা সাধারণ মানুষের ওপর আরও চেপে বসতে যাচ্ছে।
নতুন কাঠামো অনুযায়ী, করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে এটি ইতিবাচক মনে হলেও পরবর্তী স্ল্যাবগুলোর দিকে তাকালে ভিন্নচিত্র স্পষ্ট হয়। আগে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকার পরবর্তী ১ লাখ টাকার ওপর কর ছিল মাত্র ৫ শতাংশ; যা এখন পরবর্তী ৩ লাখ টাকার জন্য সরাসরি ১০ শতাংশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, ৫ শতাংশের করের স্ল্যাবটি পুরোপুরি বিলুপ্ত করে প্রতি ধাপে ৫ শতাংশ হারে কর বাড়ানো হয়েছে।
সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য। এনবিআরের যুক্তি হলো, করমুক্ত আয়সীমা বেশি বাড়ালে একটি বড় অংশ কর জালের বাইরে চলে যাবে, যা কর-সংস্কৃতি গড়ার পথে অন্তরায়। কিন্তু প্রশ্ন জাগে, এই কর-সংস্কৃতি কি শুধু সাধারণ মধ্যবিত্তকে চেপেই গড়ে তুলতে হবে? ধনীদের জন্য ‘সারচার্জের’ পরিবর্তে ‘সম্পদ কর’ প্রবর্তনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা অবশ্যই প্রশংসনীয়। জমির বাজারমূল্য বা মৌজা রেটে সম্পদ কর আদায় করা হলে গুলশান বা বনানীর মতো অভিজাত এলাকার অতিধনীদের কাছ থেকে রাজস্ব বাড়বে এবং বৈষম্য কমবে বলে আশা করা যায়।
আমরা মনে করি, বর্তমান বিশ্ব ও দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এই কর কাঠামো পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। নতুন করদাতাদের জন্য সর্বনিম্ন ১ হাজার টাকা করের সুবিধা যেমন- ভালো উদ্যোগ, তেমনই পুরোনো করদাতাদের ওপর যেন অযৌক্তিক করভার চেপে না বসে, সেদিকেও নজর দিতে হবে। একটি জনবান্ধব ও উন্নয়নমুখী বাজেটে রাজস্ব বৃদ্ধির কৌশলের পাশাপাশি নাগরিক স্বস্তির প্রতিফলন থাকাটা অত্যাবশ্যক। বাজেট ২০২৬-২৭ এ কর কাঠামো যদি সাধারণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে, তবে তা অর্থনীতির জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হবে। কর-সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হলে আস্থা, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।