ঢাকা বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

চাঁদাবাজ নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স, দৃষ্টান্ত স্থাপন জরুরি

চাঁদাবাজ নিয়ন্ত্রণে জিরো টলারেন্স, দৃষ্টান্ত স্থাপন জরুরি

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বেপরোয়া চাঁদাবাজি। ফুটপাত থেকে শুরু করে বড় শিল্পকারখানা, গণপরিবহন ও নির্মাণাধীন ভবন- সবখানেই সিন্ডিকেটের তৎপরতা দৃশ্যমান। এই জনদুর্ভোগ নিরসনে তারেক রহমানের সরকার যে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘অলআউট’ অ্যাকশনে নামার নির্দেশ দিয়েছে, তা নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ।

পুলিশ ও র‌্যাবের হালনাগাদ করা তালিকায় সারা দেশে প্রায় ৪ হাজার চাঁদাবাজের নাম উঠে এসেছে এবং এর মধ্যে অন্তত ৬৫০ জন ‘গডফাদার’ বা পৃষ্ঠপোষক হিসেবে চিহ্নিত। বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, এসব পৃষ্ঠপোষকের বেশির ভাগেরই রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। অতীতে দেখা গেছে, রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় থাকার কারণে মূল হোতারা সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে। তবে বর্তমান সরকারের অধীনে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতির আটক হওয়ার ঘটনাটি একটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। যদিও মুচলেকা নিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে, তবুও নিজ দলের নেতার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা গ্রহণ নেতাকর্মীদের প্রতি একটি কড়া বার্তা প্রদান করে যে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয় এমন কোনো অপরাধ বরদাশত করা হবে না। সরকারের নির্দেশনায় এরইমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যৌথ অভিযান শুরু করেছে এবং গত কয়েকদিনে শুধু ঢাকা মহানগরীতেই ১৩৩ জন চাঁদাবাজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি পাড়ায় পাড়ায় ‘শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষা কমিটি’ বা বিট পুলিশিংয়ের আদলে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ার উদ্যোগটিও প্রশংসার দাবি রাখে।

আমরা মনে করি, চাঁদাবাজিমুক্ত দেশ গড়তে হলে শুধু পুলিশি অভিযান যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছার ধারাবাহিকতা। একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের মূলোৎপাটন করা এখন সময়ের দাবি। জনস্বার্থে শুরু হওয়া এই চিরুনি অভিযান যেন কোনোভাবেই শিথিল না হয়, সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত