মাছ-মাংস-ডিম অধরা গরিব কীভাবে পাবে প্রোটিন
প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চাল ও ভোজ্যতেলের বাজারে কারসাজির পর অসাধু ব্যবসায়ীচক্র এবার নজর দিয়েছে মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারে। বলা যেতে পারে- প্রোটিনের বাজারে। অজুহাত দেওয়া হচ্ছে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বৃষ্টির। ব্যস, বেড়ে গেল এসব খাদ্যপণ্যের দাম। পাঙাশ ও তেলাপিয়ার কেজি ২২০ টাকায় উঠে গেছে। প্রতি ডজন ডিম কিনতে লাগছে ১৫০ টাকা। ওদিকে গরুর মাংস ৮০০ ও খাসি ১২০০ টাকা কেজি। বাজারে যত প্রকার মাছ ওঠে, সেগুলোর মধ্যে তেলাপিয়া, পাঙাশ সবচেয়ে সস্তায় পাওয়া যাচ্ছিল। এ দুই প্রকার মাছও এখন গরিবের নাগালের বাইরে। বলা হয়ে থাকে, ডিম হলো গরিবের প্রোটিন। সেই ডিমের বাজারে যেতে পারছে না গরিবকুল। প্রতি ডজন বাদামি রঙের ফার্মের ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ টাকায়। পাড়া-মহল্লায় কিনতে গেলে ১৪৫-১৫০ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও যা পাওয়া যেতে ১১০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগি, পাকিস্তানি কক-সবক্ষেত্রেই মূল্য চড়া।
এক কথায় বলতে গেলে, দরিদ্র লোক এখন পর্যাপ্ত প্রোটিন পায় না। মাছ-মাংস কিনতে ব্যর্থ হয়ে তারা মুরগির পা-পাখা, গলা-মাথা ইত্যাদি কম দামে কিনে বাড়ি ফিরছে। সমাজে নানা শ্রেণির মানুষ বাস করছে-উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত, বিত্তহীন। আবার আয়ের প্রশ্নে স্বল্প-আয়, সীমিত আয়ের মানুষ রয়েছে। দেখা যাচ্ছে, স্বল্প ও সীমিত আয়ের মানুষ এখন এক প্রকার সংকটময় জীবন পার করছে। আমাদের কথা হলো, দুমুঠো চাল জোগাড় করাই বড় কথা নয়, ভাতের সঙ্গে যদি প্রোটিনযুক্ত খাবার না থাকে অথবা ভাতটুকু গলাধঃকরণের জন্য কোনো ব্যঞ্জন না মেলে, সেই ভাত পেটে যাবে কীভাবে? আমরা লক্ষ্য করছি, একটি নির্বাচিত সরকার পাওয়া গেলেও বাজার সিন্ডিকেট আগের মতোই ক্রিয়াশীল রয়েছে।
বাজার নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা ভোক্তার স্বার্থে। কিন্তু সেই স্বার্থ এখন অসাধু ব্যবসায়ীদের। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কেন বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না, এটা এক বড় প্রশ্ন। সিন্ডিকেট ভাঙার কথা শুনে আসছি আমরা বছরের পর বছর; বলা যায়, দশকের পর দশক। কিন্তু কোনোভাবেই অসাধু ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট ভাঙা যাচ্ছে না। তবে কি সিন্ডিকেটগুলো সরকারের চেয়ে শক্তিশালী? সরকারের প্রতি আমাদের জোর দাবি থাকবে, বাজার যেন সব শ্রেণির মানুষের কাছে সহনীয় থাকে। আয় যেহেতু বাড়েনি, তাই খাদ্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে মানুষের কষ্টের সীমা থাকে না। এই কষ্ট লাঘব করতেই হবে।
