নিত্যপণ্যের অগ্নিমূল্য তদারকি সংস্থাগুলোকে জবাবদিহি করতে হবে

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

টিসিবির ট্রাক সেলে নিম্নবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তের দীর্ঘ লাইন দেখেই বোঝা যায় নিত্যপণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের অবস্থা কতটা সঙ্গীন। গত এপ্রিলে মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশে। অন্যদিকে নানারকম সিন্ডিকেট করে ক্রেতার পকেট কাটছে একশ্রেণির বিক্রেতা। এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে দুর্ভাগ্যজনক হলো, সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর নির্লিপ্ততা। যখন সাধারণ মানুষের আয় ও ব্যয়ের হিসাব কোনোভাবেই মিলছে না, তখন বাজার তদারকি সংস্থাগুলোর এই রহস্যজনক নীরবতা শুধু হতাশাজনকই নয়, চরম দায়িত্বহীনতার পরিচায়ক।

বাজারে এমন কোনো নিত্যপণ্য নেই যার দাম বাড়েনি। চাল, ডাল, তেল থেকে শুরু করে সবজি ও ডিমের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। সবচেয়ে করুণ অবস্থায় আছে মধ্যবিত্ত শ্রেণি- যারা না পারে লাইনে দাঁড়িয়ে স্বল্পমূল্যে পণ্য কিনতে, না পারে কাউকে মুখ ফুটে অভাবের কথা বলতে। বস্তুত সাধারণ মানুষের আয়ের সিংহভাগই চলে যাচ্ছে খাদ্যদ্রব্য কিনতে। এর ওপর শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে তারা এখন আক্ষরিক অর্থেই নিঃস্ব হওয়ার পথে। অনেক পরিবার এখন তিন বেলার জায়গায় দুই বেলা খেয়ে দিন অতিবাহিত করছে, যা একটি উন্নয়নশীল দেশের জন্য লজ্জাজনক। প্রশ্ন উঠেছে, বাজার নিয়ন্ত্রণের দায়িত্বে থাকা সংস্থাগুলো আসলে কী করছে? বাজারে সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দাপট এখন প্রকাশ্য দিবালোকের মতো স্পষ্ট। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও কঠোর কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যাচ্ছে না।

মাঝেমধ্যে কিছু লোকদেখানো অভিযান চললেও তা বড় দুর্নীতিবাজদের স্পর্শ করতে পারে না। বরং অভিযানের পর পণ্যের দাম আরও বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। সংশ্লিষ্ট তদারকি সংস্থাগুলোর নিস্পৃহতা ও অকার্যকারিতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ব্যবসায়ীরা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে পকেট কাটছে সাধারণ মানুষের।

আমরা দেখে আসছি, আন্তর্জাতিক বাজারে কোনো পণ্যের দাম কমলে দেশের বাজারে তার প্রভাব পড়ে না, কিন্তু বাড়লে মুহূর্তেই তা কার্যকর হয়। এই নৈরাজ্য দূর করার দায়িত্ব সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি, বাজার এখন একরকম অভিভাবকহীন। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।

আমরা মনে করি, এ পরিস্থিতি উত্তরণে শুধু আশ্বাস নয়, প্রয়োজন কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপ। প্রথমত, আমদানিকারক থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রেতা পর্যন্ত প্রতি ধাপে দ্রব্যমূল্যের ক্ষেত্রে নজরদারি বাড়াতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বাজার সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িত রাঘববোয়ালদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তৃতীয়ত, টিসিবির মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে পণ্য সরবরাহ আরও বৃদ্ধি এবং এর পরিধি বিস্তৃত করতে হবে, যাতে মধ্যবিত্ত সহজে এর সুবিধা পেতে পারে। বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সামাজিক অস্থিরতা বাড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। তাই সরকারের প্রতি আমাদের আহ্বান, বাজার তদারকি সংস্থাগুলোকে জবাবদিহিতার আওতায় আনুন এবং দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নিন। জনগণের উন্নত জীবনমান নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।