বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের সংকট
আরিফুল ইসলাম রাফি
প্রকাশ : ২১ মে ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
একসময় পৃথিবী বিশ্বাস করত, ইতিহাসের দীর্ঘ রাজনৈতিক বিবর্তনের শেষ গন্তব্য সম্ভবত গণতন্ত্র। রাজতন্ত্র, সাম্রাজ্যবাদ, ঔপনিবেশিকতা, সামরিক শাসন কিংবা একদলীয় কর্তৃত্ববাদ; সবকিছুর বিরুদ্ধে মানুষের দীর্ঘ সংগ্রামের পর গণতন্ত্রকে মনে করা হয়েছিল মানবসভ্যতার সবচেয়ে পরিণত রাজনৈতিক ব্যবস্থা। বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতন, পূর্ব ইউরোপে সমাজতান্ত্রিক শাসনের অবসান এবং বিশ্বের বহু দেশে বহুদলীয় রাজনীতির বিস্তার দেখে পশ্চিমা রাজনৈতিক তাত্ত্বিকরা পর্যন্ত ঘোষণা দিয়েছিলেন, গণতন্ত্রের জয় চূড়ান্ত। মনে করা হয়েছিল, পৃথিবী এখন এমন এক সময়ের দিকে এগোচ্ছে যেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার একমাত্র বৈধ ভিত্তি হবে জনগণের মতামত, নাগরিক স্বাধীনতা ও আইনের শাসন।
কিন্তু একবিংশ শতাব্দীর তৃতীয় দশকে এসে সেই আশাবাদী ধারণা গভীর প্রশ্নের মুখে দাঁড়িয়েছে। পৃথিবীর নানা প্রান্তে আজ গণতন্ত্রের কাঠামো টিকে থাকলেও তার প্রাণশক্তি ক্রমশ ক্ষয়প্রাপ্ত হচ্ছে। নির্বাচন আছে, সংসদ আছে, সংবিধান আছে; কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই নেই জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের নিরাপত্তা কিংবা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা। কোথাও নির্বাচন পরিণত হয়েছে ক্ষমতা বৈধ করার আনুষ্ঠানিকতায়, কোথাও বিরোধী মতকে দমন করা হচ্ছে আইনের আড়ালে, কোথাও সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক চাপ দিয়ে, আবার কোথাও প্রযুক্তি ও তথ্যযুদ্ধ মানুষের স্বাধীন চিন্তাকেই প্রভাবিত করছে। বর্তমান বিশ্বে গণতন্ত্রের সংকট তাই শুধু কোনো একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়; এটি এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এই সংকট অনেক ক্ষেত্রে গণতন্ত্রের বাইরের শক্তি থেকে নয়, বরং গণতন্ত্রের ভেতর থেকেই তৈরি হচ্ছে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারই যখন প্রতিষ্ঠান দুর্বল করে, বিচারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে, সংবাদমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করে কিংবা জনগণের ভিন্নমতকে ‘রাষ্ট্রবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করতে শুরু করে, তখন গণতন্ত্রের বাহ্যিক কাঠামো থাকলেও তার ভেতরের চেতনা ধীরে ধীরে নিঃশেষ হতে থাকে।
বিশ্ব রাজনীতির সবচেয়ে প্রভাবশালী রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্রের দিকে তাকালেই এই সংকটের গভীরতা বোঝা যায়। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে গণতন্ত্রের আদর্শ রূপ হিসেবে বিশ্বের সামনে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির রাজনৈতিক বাস্তবতা এমন এক মেরুকরণের জন্ম দিয়েছে, যেখানে জনগণের একাংশ আর নির্বাচন, বিচারব্যবস্থা কিংবা গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতার ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। ২০২১ সালের ক্যাপিটল হিলে হামলা ছিল কেবল একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি ছিল সেই গভীর রাজনৈতিক বিভাজনের প্রতীক, যেখানে ক্ষমতার লড়াই গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে পর্যন্ত বিপন্ন করে তুলেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ষড়যন্ত্রতত্ত্ব, নির্বাচনি ফলাফল নিয়ে অবিশ্বাস এবং রাজনৈতিক ঘৃণার সংস্কৃতি দেখিয়েছে, পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো গণতন্ত্রগুলোর একটিও আজ অনিশ্চয়তার বাইরে নয়। ইউরোপেও পরিস্থিতি খুব ভিন্ন নয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ইউরোপ একসময় উদার গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও বহুসাংস্কৃতিক সমাজব্যবস্থাকে নিজেদের রাজনৈতিক ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলেছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অভিবাসন সংকট, অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জ্বালানি সমস্যা এবং সাংস্কৃতিক নিরাপত্তাহীনতাকে কেন্দ্র করে উগ্র জাতীয়তাবাদী রাজনীতির উত্থান ঘটেছে। ফ্রান্স, ইতালি, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস কিংবা হাঙ্গেরির মতো দেশগুলোতে ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তিগুলো জনগণের ভয় ও ক্ষোভকে ব্যবহার করে নিজেদের জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই তারা বিচারব্যবস্থা, সংবাদমাধ্যম ও নাগরিক অধিকারকে জাতীয় স্বার্থের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে জনসমর্থন অর্জনের চেষ্টা করছে। ফলে গণতন্ত্রের মূল চেতনা; সহনশীলতা, বহুত্ববাদ ও মানবিক মূল্যবোধ চাপের মুখে পড়ছে।
বিশ্বের বৃহত্তম গণতন্ত্র হিসেবে পরিচিত ভারতও বর্তমানে নানা বিতর্কের কেন্দ্রে। স্বাধীনতার পর দেশটি ধর্মনিরপেক্ষতা, সাংবিধানিক বহুত্ববাদ ও গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণের যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েছিল, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি হয়েছে। বিরোধী দলগুলোর ওপর চাপ, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ, ভিন্নমতের কণ্ঠস্বরকে সীমিত করার অভিযোগ এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন আন্তর্জাতিক মহলেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভারতের অভ্যন্তরে ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ এবং জাতীয়তাবাদী রাজনীতির বিস্তার দেখিয়েছে, গণতন্ত্র শুধু ভোটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নাগরিক স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় ভারসাম্যের প্রশ্নও। দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশেও গণতন্ত্র প্রায়শই ব্যক্তি, দল ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বে বন্দি হয়ে পড়ে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, প্রশাসনের দলীয়করণ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা এবং দুর্বল প্রতিষ্ঠান গণতন্ত্রকে কার্যকর হতে বাধা দিচ্ছে। জনগণ ভোট দিলেও অনেক সময় রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের প্রকৃত অংশগ্রহণ সীমিত থেকে যায়। ফলে গণতন্ত্র মানুষের কাছে আশার প্রতীক না হয়ে কখনো কখনও শুধু রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার একটি বাহ্যিক রূপে পরিণত হয়। মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাস গণতন্ত্রের সংকটকে আরও নির্মমভাবে সামনে আনে। ২০১১ সালের আরব বসন্ত ছিল এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যখন তিউনিসিয়া, মিসর, লিবিয়া, সিরিয়া, ইয়েমেনসহ বিভিন্ন দেশের মানুষ স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমেছিল। তরুণ প্রজন্মের কণ্ঠে তখন স্বাধীনতা, মর্যাদা ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন উচ্চারিত হচ্ছিল। কিন্তু সেই স্বপ্নের অধিকাংশই শেষ পর্যন্ত সহিংসতা, সামরিক হস্তক্ষেপ কিংবা গৃহযুদ্ধের অন্ধকারে হারিয়ে যায়। মিসরে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়, সিরিয়ায় গণআন্দোলন রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে পরিণত হয়, লিবিয়া ও ইয়েমেন দীর্ঘস্থায়ী অস্থিতিশীলতার শিকার হয়। আরব বসন্ত বিশ্বকে শিখিয়েছে, গণতন্ত্র শুধু শাসক পরিবর্তনের নাম নয়; এটি টিকে থাকতে হলে প্রয়োজন শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও আইনের শাসন। আফ্রিকার অনেক দেশেও একই ধরনের বাস্তবতা দেখা যায়। ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের পর বহু রাষ্ট্র গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করলেও দারিদ্র্য, দুর্নীতি, সামরিক প্রভাব ও দুর্বল প্রশাসনিক কাঠামো গণতন্ত্রকে স্থিতিশীল হতে দেয়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেশ কয়েকটি দেশে সামরিক অভ্যুত্থান দেখিয়েছে, জনগণের হতাশা কখনও কখনও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতিই আস্থা হারিয়ে ফেলছে। যখন রাষ্ট্র মানুষের মৌলিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতি নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তখন অনেকেই শক্তিশালী নেতৃত্বের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে, যদিও তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাধীনতার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
বর্তমান বিশ্বের গণতান্ত্রিক সংকটের পেছনে প্রযুক্তির ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একসময় ধারণা করা হয়েছিল, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তথ্যপ্রবাহকে মুক্ত করবে, মানুষের মতপ্রকাশের সুযোগ বাড়াবে এবং গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, প্রযুক্তি যেমন মানুষকে সংযুক্ত করেছে, তেমনি বিভক্তও করেছে। ফেসবুক, এক্স, টিকটক কিংবা ইউটিউবের অ্যালগরিদম মানুষকে এমন এক ডিজিটাল জালের মধ্যে আটকে ফেলছে, যেখানে তারা শুধু নিজেদের মতের সঙ্গে মিল থাকা তথ্যই বেশি দেখতে পাচ্ছে। ফলে ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা কমছে, রাজনৈতিক মেরুকরণ বাড়ছে। এছাড়া ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর প্রচারণা এখন গণতন্ত্রের অন্যতম বড় হুমকি। নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে সংগঠিত ভুয়া প্রচারণা, ডিপফেক প্রযুক্তি, বট অ্যাকাউন্ট ও তথ্যযুদ্ধ ব্যবহার করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য নির্ধারণে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে। এর ফলে গণতন্ত্রের মূল ভিত্তি ও তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক বৈষম্যও গণতন্ত্রের সংকটকে গভীর করেছে। বিশ্বায়নের ফলে পৃথিবীতে সম্পদের পরিমাণ বেড়েছে; কিন্তু সেই সম্পদের বণ্টন হয়েছে অত্যন্ত অসমভাবে। অল্পসংখ্যক মানুষের হাতে বিপুল সম্পদ কেন্দ্রীভূত হয়েছে, অন্যদিকে কোটি কোটি মানুষ বেকারত্ব, মূল্যস্ফীতি ও অনিশ্চিত জীবনের সঙ্গে লড়াই করছে। যখন সাধারণ মানুষ মনে করে রাষ্ট্র কেবল ধনী ও ক্ষমতাবানদের জন্য কাজ করছে, তখন তাদের গণতন্ত্রের প্রতি আস্থা কমে যায়। এই হতাশাকে কাজে লাগিয়ে জনপ্রিয়তাবাদী নেতারা আবেগঘন বক্তব্য দিয়ে জনগণের সমর্থন আদায় করেন এবং পরে অনেক সময় গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে তোলেন। বিশ্ব রাজনীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রগুলোর আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি। চীন অর্থনৈতিক উন্নয়নকে এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন রাজনৈতিক স্বাধীনতা ছাড়া উন্নয়ন সম্ভব। তাদের মডেল অনেক উন্নয়নশীল দেশের কাছে আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে, কারণ সেখানে দ্রুত অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণকে কার্যকর হিসেবে দেখানো হয়। ফলে প্রশ্ন উঠছে, মানুষ কি স্বাধীনতার চেয়ে স্থিতিশীলতাকে বেশি গুরুত্ব দিতে শুরু করেছে?
একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে দ্বৈত মানদণ্ডও গণতন্ত্রের বিশ্বাসযোগ্যতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। কোথাও মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে জোরালো অবস্থান নেওয়া হলেও, কৌশলগত স্বার্থের কারণে অন্য কোথাও নীরবতা দেখা যায়। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো প্রায়ই নিজেদের ভূরাজনৈতিক স্বার্থ অনুযায়ী গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ভাষা ব্যবহার করে। এর ফলে ছোট রাষ্ট্রগুলোতে গণতন্ত্রের প্রশ্নটি অনেক সময় নীতিগত না হয়ে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত হয়। তবে এই অন্ধকারের মধ্যেও আশা পুরোপুরি হারিয়ে যায়নি। বিশ্বের নানা প্রান্তে তরুণ প্রজন্ম এখনও অন্যায়, বৈষম্য ও দমন-পীড়নের বিরুদ্ধে সোচ্চার। ইরানে নারীদের স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন, আফ্রিকায় দুর্নীতিবিরোধী তরুণদের প্রতিবাদ, লাতিন আমেরিকায় সামাজিক ন্যায়ের দাবিতে বিক্ষোভ কিংবা ইউরোপ-আমেরিকায় বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলন প্রমাণ করে মানুষ এখনও মর্যাদা, স্বাধীনতা ও অংশগ্রহণমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি সম্ভবত এখানেই, এটি নিখুঁত নয়; কিন্তু আত্মসমালোচনার সুযোগ রাখে। স্বৈরতন্ত্র ভয় দেখিয়ে নীরবতা তৈরি করতে পারে, কিন্তু মানুষের ভেতরের স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষাকে পুরোপুরি হত্যা করতে পারে না। ইতিহাসের প্রতিটি যুগে মানুষ অধিকার আদায়ের জন্য লড়েছে, ভবিষ্যতেও লড়বে।
আজ বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের সংকট আমাদের সামনে একটি মৌলিক প্রশ্ন তুলে ধরছে, গণতন্ত্র কি শুধু নির্বাচন, নাকি এর চেয়েও গভীর কিছু? যদি রাষ্ট্রে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা না থাকে, যদি সাংবাদিক নিরাপদ না থাকে, যদি বিচারব্যবস্থা নিরপেক্ষ না থাকে, যদি জনগণ সত্য তথ্য না পায়, তবে শুধু ভোটের আয়োজন কি গণতন্ত্র নিশ্চিত করতে পারে? সম্ভবত না। গণতন্ত্র আসলে একটি সংস্কৃতি, যেখানে ভিন্নমতকে শত্রু নয়, সহাবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হয়; যেখানে রাষ্ট্র ক্ষমতার নয়, জবাবদিহিতার প্রতীক; যেখানে জনগণ শুধু ভোটার নয়, সক্রিয় নাগরিক। বিশ্ব আজ এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে গণতন্ত্রের বাহ্যিক কাঠামো হয়তো অনেক জায়গায় টিকে থাকবে, কিন্তু তার আত্মা রক্ষার লড়াই আরও কঠিন হয়ে উঠবে। আর সেই লড়াই শুধু রাজনীতিবিদদের নয়; এটি নাগরিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, তরুণ সমাজ থেকে শুরু করে সবারই। কারণ গণতন্ত্র হারিয়ে গেলে সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় মানুষের স্বাধীনতার, আর স্বাধীনতার মূল্য মানুষ সাধারণত তখনই বোঝে, যখন তা ধীরে ধীরে হাতছাড়া হয়ে যেতে থাকে।
আরিফুল ইসলাম রাফি
শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা, বিভাগ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
