বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহে খরা : অর্থনীতি সচল রাখতে প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ

প্রকাশ : ১২ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহের সাম্প্রতিক চিত্র দেশের সার্বিক অর্থনীতির জন্য এক গভীর উদ্বেগের বার্তা দিচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে এপ্রিল পর্যন্ত ১০ মাসে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ বেড়েছে মাত্র ৩ দশমিক ২০ শতাংশ, যা সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন। বলাবাহুল্য, একটি উন্নয়নশীল দেশের অর্থনীতির চালিকাশক্তি যেখানে বেসরকারি খাত, সেখানে ঋণের এ খরা শিল্প উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিকে অবধারিতভাবেই নিম্নমুখী করে তুলবে।

পরিসংখ্যান বলছে, করোনার সময় থেকেই বেসরকারি খাতে ঋণের গতি কমছিল। পরবর্তী সময়ে ২০২২ সালের বৈশ্বিক মন্দা এবং ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ আন্দোলনের ধাক্কায় এ প্রবাহ আরও সংকুচিত হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই শুরু হয় মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ, যা বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে আরও উসকে দিয়েছে। ফলে দীর্ঘসময় ধরে এ খাতে গতি ফেরানোর মতো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দৃশ্যমান হয়নি। উদ্যোক্তাদের মতে, বিনিয়োগ স্থবিরতার পেছনে শুধু নীতিমালার অভাব নয়, বরং মাঠপর্যায়ের বাস্তব সংকটগুলোই প্রধান বাধা। ব্যাংকগুলো থেকে আমদানির জন্য পর্যাপ্ত ডলার না পাওয়া আর এলসি খোলার আগে ডলারের আগাম সংস্থান করার বাধ্যবাধকতা তো আছেই; এর চেয়েও বড় সংকট চলছে জ্বালানি খাতে। শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারের কোনো স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা না থাকায় উদ্যোক্তারা নতুন বিনিয়োগের ক্ষেত্রে হাত গুটিয়ে বসে আছেন।

সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র দেখা যাচ্ছে রপ্তানিমুখী খাতের ব্যাক-টু-ব্যাক এলসিতে, যেখানে চলতি অর্থবছরে এলসি খোলা কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ এবং আমদানি কমেছে ৭ শতাংশের বেশি। কাঁচামাল আমদানির এ পতন সরাসরি আঘাত করছে আমাদের রপ্তানি আয়ে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সরকারকে অবিলম্বে শিল্প খাতে গ্যাস ও বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন জোগান নিশ্চিত করতে হবে। একইসঙ্গে ডলার সংকটের টেকসই সমাধান এবং ব্যাংক খাতের আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। মনে রাখা দরকার, বেসরকারি খাতকে সচল না করে অর্থনীতির গতি ফেরানো অসম্ভব। তাই কালবিলম্ব না করে সরকার ঋণ প্রবাহ বৃদ্ধির জন্য সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে- এটাই কাম্য।