পানি সংকটে সিলেট নগরী দ্রুত প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রয়োজন

প্রকাশ : ১৬ জুন ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরীর অন্যতম প্রধান নাগরিক শর্ত হলো বাসিন্দাদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ সুপেয় পানির নিশ্চয়তা। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য, সিলেট এখন তীব্র পানি সংকটে ধুঁকছে। একটি বিভাগীয় শহরের অর্ধেকের বেশি মানুষ যখন নিয়মিত সুপেয় পানির অধিকার থেকে বঞ্চিত থাকেন, তখন নগর কর্তৃপক্ষের ভূমিকা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক। পানিসংকটের এই নির্মম বাস্তবতা নগরবাসীর দৈনন্দিন জীবনকে কেবল বিপর্যস্তই করছে না, বরং তাদের জনস্বাস্থ্যকেও চরম ঝুঁকিতে ফেলছে।

২০০২ সালে মাত্র ২৭টি ওয়ার্ড নিয়ে সিটি কর্পোরেশনের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে তা ৪২টি ওয়ার্ডে সম্প্রসারিত হয়েছে এবং জনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখে। অথচ দুঃখজনকভাবে ২০২১ সালে অন্তর্ভুক্ত হওয়া নতুন ১৫টি ওয়ার্ডের বাসিন্দারা আজ পর্যন্ত সিটি করপোরেশনের পানির কোনো সংযোগ ব্যবস্থাই পাননি। তারা সম্পূর্ণ ট্যাক্স বা কর পরিশোধ করেও ন্যূনতম নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাধ্য হয়ে মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলন করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশ ও পানির স্তরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। পুরোনো ২৪টি ওয়ার্ডে যেখানে পানির সংযোগ আছে, সেখানেও লোডশেডিংয়ের অজুহাতে নিয়মিত এবং পর্যাপ্ত পানি মিলছে না। কোনো কোনো এলাকায় দিনে মাত্র একবার পানি দেওয়া হচ্ছে, তা-ও আবার সঠিক সময়ে নয়। এর ওপর অবৈধ সংযোগের কারণে পানির অপচয় ও সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে।

এই তীব্র সংকটের মাঝেও সিটি কর্পোরেশনের পানি শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার ‘নগরে এখন সেই অর্থে পানির সংকট নেই’- এমন অবাস্তব ও উদাসীন মন্তব্য নগরবাসীকে ক্ষুব্ধ ও হতাশ করেছে। তবে আশার কথা হলো, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক শহরতলির চেঙ্গেরখাল নদে একটি নতুন পানি শোধনাগার (ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট) নির্মাণের সব প্রক্রিয়া শেষ করার কথা জানিয়েছেন এবং কুশিয়ারা নদীকে উৎস করে আরেকটি শোধনাগারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। আমরা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই; কিন্তু আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা বলে, আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় এ ধরনের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো প্রায়ই ঝুলে থাকে। আশা করি, নতুন পানি শোধনাগার নির্মাণের ক্ষেত্রে তা হবে না।

চেঙ্গেরখাল নদের প্রস্তাবিত পানি শোধনাগার প্রকল্পের কাজ কাগজের ফাইল থেকে বের করে অতি দ্রুত মাঠে দৃশ্যমান করা হোক। নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১৫টি ওয়ার্ডে জরুরি ভিত্তিতে পাইপলাইন স্থাপনের কাজ শুরু করতে হবে। নগরের ভেতরের অবৈধ পানির সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করতে নিতে হবে কঠোর আইনি পদক্ষেপ। সিলেটকে একটি প্রকৃত অর্থেই বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কালক্ষেপণ না করে প্রতিটি ওয়ার্ডে সুপেয় পানির সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে হবে।