অনিয়ন্ত্রিত ব্যাটারিচালিত যান : সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিন
প্রকাশ : ১৭ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সাম্প্রতিক সময়ে প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে শুরু করে শহরাঞ্চলের নতুন বাস্তবতা হলো- ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দৌরাত্ম্য। বেশ কিছুদিন ধরে বিশেষজ্ঞ মহল বলে আসছে, এসব অটোরিকশার কাঠামোগত ত্রুটি রয়েছে। এতে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বেশি। তারপরও অলিগলি থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত আজ অটোরিকশার দাপট। মানছে না কোনো নিয়মণ্ডকানুন। অতীতে নানা সময় এসব যান নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগের কথা বলা হলেও তা কাজে দেয়নি। এ অবস্থায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আবারও বলা হয়েছে, ব্যাটারিচালিত যান নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসছে। বিষয়টি নিয়ে জাতীয় সংসদে আলোচনা হয়েছে। গত সোমবার অধিবেশনে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানান, সারা দেশে ব্যাটারিচালিত যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য সরকার সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নে কাজ করছে। তিনি জানান, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা বন্ধ নয়, বরং কীভাবে এগুলোকে নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনার আওতায় আনা যায়, তা নিয়ে নিরীক্ষা চলছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার প্রধান সমস্যা হলো, প্রয়োজনীয় ফিটনেস নেই। গতির নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং ব্রেকিং সিস্টেমও ত্রুটিপূর্ণ। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হালকা অবকাঠামোয় অতিরিক্ত ক্ষমতার মোটরযুক্ত করা হয়, এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়।
নেই চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, দরকার পড়ছে না অন্য মোটরযানচালিত গাড়ির মতো লাইসেন্স। এসব ব্যাটারিচালিত যান যখন হাইওয়ে বা শহরের প্রধান সড়কে অন্য দ্রুতগতির যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলে, তখন তা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া ব্যাটারি চার্জিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে। ব্যাটারি উৎপাদন ও বর্জ্য অব্যবস্থাপনার কারণে মারাত্মক পরিবেশ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
অন্যদিকে একশ্রেণির মানুষের কাছে অটোরিকশা সাশ্রয়ী হওয়ায় দৈনন্দিন যাতায়াতে অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করেছে এই অটোরিকশা। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, কাঠামোগত মানোন্নয়ন করে, সড়ক ও এলাকা নির্ধারণ করে দিলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে।
বিজ্ঞান বলছে, জীবাশ্ম জ্বালানির দিন শেষ। আগামী দিনে এই ব্যাটারিচালিত যানই হবে প্রধান বাহন। কাজেই এসব যানের মানোন্নয়ন এখন সময়ের দাবি। আমরা মনে করি, চালকদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও লাইসেন্সের নিয়ম চালু করে নজরদারি নিশ্চিত করা দরকার। এজন্য সরকারের সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও তার বাস্তবায়ন কাম্য।
