পাখিমারা খালের ওপর নির্মিত সেতুটির পুনঃর্নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক
প্রকাশ : ২৬ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সেতুটি যোগাযোগব্যবস্থাকে যেকোনো অঞ্চলের সার্বিক উন্নয়ন ও জনজীবনের স্বস্তির অন্যতম মূল শর্ত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। অস্বীকার করার উপায় নেই যে, দেশে বিগত দেড় দশকে অবকাঠামো উন্নয়ন হয়েছে অভাবনীয় পর্যায়ে। তার পরও প্রত্যন্ত অঞ্চলের এমন কিছু অবহেলিত চিত্র মাঝেমধ্যেই সামনে আসে, যা সত্যিকারই দুঃখজনক। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলায় একটি টেকসই সেতুর অভাবে সাত গ্রামের হাজার হাজার মানুষকে প্রতিদিন যে চরম দুর্ভোগ ও মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়, এ চিত্র সেই অবহেলারই প্রতিফলন।
উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পাখিমারা খালের ওপর নির্মিত এ জরাজীর্ণ ভাসমান সেতুটি। সাতটি গ্রামের মানুষের পারাপারের একমাত্র মাধ্যমটি এখন স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক আতঙ্কের নাম, বিশেষত কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের জন্য জীবন্ত মরণফাঁদ!
জানা যায়, ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে নির্মিত হয় একটি আয়রন সেতু। পুরোনো সেতুটি ২০২০ সালের মার্চ মাসে প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে খালে ভেঙে পড়ে। এরপর বিকল্প সমাধান হিসেবে কাঠ, বাঁশ ও প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে একটি অস্থায়ী ভাসমান সেতু তৈরি করা হয়। সাময়িক সংকট সমাধানের উদ্দেশ্যে নির্মিত এ নড়বড়ে কাঠামো পার হয়েই কেটে গেছে দীর্ঘ অর্ধযুগ। কৃষিনির্ভর এ অঞ্চলের সাতটি গ্রামের মানুষ এবং গামইরতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু পার হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষাকালে বা জোয়ারের সময় দোলনার মতো দুলতে থাকা এ সেতু থেকে ছিটকে পড়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিশুরা। প্রায়ই আহত হওয়ার পাশাপাশি নষ্ট হয় সঙ্গে বহন করা প্রয়োজনীয় উপকরণ। বিপজ্জনক এ ভাসমান কাঠামোর কারণে অভিভাবকরা সারাক্ষণ যে সন্তানদের নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় দিন অতিবাহিত করছেন, তা সংশ্লিষ্টদের ভাবাতে পারেনি, এটা দুঃখজনক।
প্রশ্ন হচ্ছে, দীর্ঘ এ সময়ে একটি জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি টেকসই পারাপারের ব্যবস্থা গড়ে না ওঠার কী কারণ? স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারের সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরইবা (এলজিইডি) কী করেছে? এটা নিশ্চিত যে, ওই এলাকার একাধিক পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি এ বিষয়ে দায়িত্বশীল ছিলেন না। দায় এড়িয়ে গেছেন তারা। পাশাপাশি গ্রামীণ অঞ্চলের অবকাঠামো নির্মাণে সহায়তা প্রদান করার দায়িত্বে থাকা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরও তাদের দায় এড়িয়ে গেছে।
অত্যন্ত জনঘনিষ্ঠ এ বিষয়টি স্থানীয় অবকাঠামোগত তদারকি ও উন্নয়ন ব্যবস্থাপনার চরম উদাসীনতাই দায়ী। অঞ্চলটির কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ থেকে শুরু করে দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় প্রতিদিনের ভোগান্তিকে দায়িত্বরত সংশ্লিষ্টরা যে নিজেদের দায়িত্ব বলে বিবেচনা করেননি বা চরম অবহেলা করেছেন, তা বলাই বাহুল্য। অবশ্য বিলম্বে হলেও স্থানীয় প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে ইতিবাচক। আমরা আশা করি, এটি শুধু কথা বা আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। কোমলমতি শিশুদের জীবন রক্ষা এবং সাত গ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে কালক্ষেপণ না করে পাখিমারা খালের ওপর একটি স্থায়ী ও টেকসই ব্রিজ নির্মাণ করে সংশ্লিষ্টরা তাদের দায়িত্ব পালন করবেন। আমাদের প্রত্যাশা, দ্রুততম সময়ে সেতুটি পুনঃর্নির্মাণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
