প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ২৭ জুলাই, ২০২৬
দশ মাস ১০ দিন ধরে গর্ভধারণ- জেমসের কণ্ঠে গাওয়া এ গানটি শুনে বড় হয়েছি। তবে গানটির মর্মার্থ গভীরভাবে বুঝতে পেরেছি নিজে গর্ভধারণ করার পর। তখন উপলব্ধি করেছি, একজন মায়ের জন্য গর্ভকাল কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কতটা উদ্বেগ, অপেক্ষা ও ভালোবাসায় পূর্ণ। মা-বাবা এবং তাদের পরিবারের সবাই অনাগত শিশুর আগমনের পথ চেয়ে থাকেন। তাদের সবচেয়ে বড় চাওয়া ভবিষ্যতের পৃথিবীকে গড়ে তোলার মানুষটি যেন পৃথিবীর বুকে নিরাপদে ভূমিষ্ঠ হয়।
প্রতিটি শিশুর জন্মের সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্নেরও জন্ম হয়। সেই স্বপ্নে থাকে শিশুর নিরাপদে বেড়ে ওঠা, ভেজালমুক্ত খাবার, নিরাপদ সড়ক ও বাসস্থান, নিশ্চিন্ত ঘুম, সময়মতো সুচিকিৎসা এবং ভবিষ্যতের পৃথিবী গড়ার প্রস্তুতি হিসেবে সুশিক্ষা। এই স্বপ্নের সঙ্গে শুধু একটি পরিবারের নয়, একটি দেশের ভবিষ্যৎও জড়িয়ে থাকে।
আজকের শিশুই আগামী দিনের শিক্ষক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, শিল্পী, কৃষিবিজ্ঞানী, উদ্যোক্তা কিংবা রাষ্ট্রনায়ক। তাই শিশুর নিরাপত্তা শুধু একটি পরিবারের ব্যক্তিগত উদ্বেগ নয়; এটি একটি জাতির উন্নয়ন এবং সামগ্রিকভাবে পৃথিবীর অস্তিত্ব ও অগ্রযাত্রার ভিত্তি।
দুঃখজনক হলেও সত্য, আমাদের দেশে বিভিন্ন সময় এমন অনেক ঘটনা ও দুর্ঘটনা ঘটে, যেখানে শিশুদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ে।
কখনো সড়ক দুর্ঘটনা, কখনো পানিতে ডুবে মৃত্যু, কখনো হাম বা অন্যান্য সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব, কখনও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কিংবা জনসমাগমস্থলে অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা, প্রতিটি ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে আরও সুপরিকল্পিতভাবে এগোনোর প্রয়োজন রয়েছে।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনা, যার মধ্যে মাইলস্টোন স্কুলের ঘটনাও রয়েছে, আমাদের আবারও ভাবতে বাধ্য করেছে, আমরা কি শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য এ দেশে যথেষ্ট নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে পেরেছি?
এ ধরনের ঘটনার পর আমরা প্রায়ই দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের খোঁজ করি। জবাবদিহিতা অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু দায় নির্ধারণ করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা, ভবিষ্যতে একই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ, নিরাপদ নগর পরিকল্পনা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোরতা এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বৈজ্ঞানিক গবেষণা, সবকিছুকেই সমান গুরুত্ব দিতে হবে।
রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব হলো প্রতিটি দুর্ঘটনা থেকে শিক্ষা নেওয়া এবং সেই শিক্ষাকে নীতিমালা, অবকাঠামো ও দৈনন্দিন চর্চায় রূপ দেওয়া। শুধু সিদ্ধান্ত গ্রহণ করলেই হবে না; সিদ্ধান্তগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, তারও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন প্রয়োজন।
বিবেচনায় রাখতে হবে, শিশুর নিরাপত্তা কোনো একক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্থানীয় সরকার, দুর্যোগব্যবস্থাপনা, সড়ক পরিবহন, নগর পরিকল্পনা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গণমাধ্যম এবং সামাজিক প্রতিষ্ঠান সবাইকে নিয়ে এটি একটি সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগ।
আমরা যদি শিশুদের নিরাপত্তাকে বিচ্ছিন্ন কিছু দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে দেখি, তাহলে সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে না। বরং শিশু নিরাপত্তাকে একটি জাতীয় সংস্কৃতিতে পরিণত করতে হবে। রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব যখন শিশুদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কল্যাণকে দৃশ্যমানভাবে অগ্রাধিকার দেয়, তখন তা প্রশাসন ও সমাজের জন্য একটি শক্তিশালী ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠে।
একটা শিশুর দিন শুরু হয় ঘর থেকে। এরপর সে যায় বিদ্যালয়ে, খেলার মাঠে, রাস্তায়, হাসপাতালে কিংবা বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে। অর্থাৎ তার নিরাপত্তা একাধিক পরিবেশের সঙ্গে জড়িত। একটি নিরাপদ পরিবার, নিরাপদ বিদ্যালয়, নিরাপদ সড়ক এবং নিরাপদ সমাজ সবকিছু মিলিয়েই গড়ে ওঠে একটি নিরাপদ শৈশব।
বিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও নিরাপত্তাকে পাঠ্যবইয়ের বাইরের বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। ভবনের নিরাপত্তা, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, জরুরি নির্গমনপথ, নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া, শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও দুর্যোগব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ এবং শিক্ষার্থীদের বয়সোপযোগী নিরাপত্তা শিক্ষা এসব শিক্ষাব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ করতে হবে। নিরাপত্তা কোনো অতিরিক্ত সুবিধা নয়; এটি প্রতিটি শিশুর মৌলিক অধিকার।
স্বাস্থ্য নিরাপত্তার বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। টিকাদান কর্মসূচি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, বিশুদ্ধ পানি, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে অনেক শিশুর জীবন রক্ষা করা সম্ভব। হামের মতো প্রতিরোধযোগ্য রোগে একটি শিশুর মৃত্যু আমাদের মনে করিয়ে দেয়, জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতিটি দুর্বলতা শেষ পর্যন্ত শিশুদের ওপরই সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
এর পাশাপাশি শিশুদের বিভিন্ন ধরনের জীবনদক্ষতা শেখানো এবং বাস্তব জীবনে তার চর্চা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই শিক্ষা পরিবারে যেমন প্রয়োজন, তেমনি বিদ্যালয়েও প্রয়োজন। ভালো ও খারাপ স্পর্শ সম্পর্কে সচেতনতা, জরুরি প্রয়োজনে ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা, বিপদের সময় সাহায্য চাওয়া, অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণের প্রতিবাদ করা, বিশ্বস্ত বড়দের কাছে ঘটনা জানানো এবং প্রাথমিক নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলা এসব শিশুদের বয়স অনুযায়ী শেখাতে হবে।
শিশুরা বয়স ও অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে সব ধরনের ঝুঁকি সঠিকভাবে শনাক্ত বা মোকাবিলা করতে পারে না। তাই তাদের নিরাপত্তার প্রধান দায়িত্ব বড়দের হলেও, শিশুদেরও বয়সোপযোগী আত্মরক্ষা, সচেতনতা ও জীবনদক্ষতার শিক্ষা দিতে হবে।
বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশু মৃত্যুও একটি বড় জনস্বাস্থ্য সমস্যা। সচেতনতা বৃদ্ধি, নিরাপদ খেলার জায়গা, অভিভাবকের তত্ত্বাবধান, কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগ এবং সাঁতার শেখানোর কার্যক্রম অনেক জীবন বাঁচাতে পারে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে শিশুদের সাঁতার শেখার সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। তাই বিদ্যালয়, স্থানীয় সরকার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর যৌথ উদ্যোগে নিরাপদ সাঁতার শিক্ষার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে।
একইভাবে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিদ্যালয়কেন্দ্রিক নিরাপদ জোন, নির্ধারিত পারাপারব্যবস্থা, গতিনিয়ন্ত্রণ, ফুটপাত, ট্রাফিক সচেতনতা এবং চালকদের দায়িত্বশীল আচরণ অপরিহার্য। একটি শিশু নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারবে কি না, সেটিও রাষ্ট্রের উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হওয়া উচিত।
শিশুদের জন্য নিরাপদ খেলার জায়গার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। খেলার মাঠ কেবল বিনোদনের স্থান নয়; এটি শিশুর শারীরিক, মানসিক, সামাজিক ও আবেগীয় বিকাশের ক্ষেত্র। নিরাপদ খেলার জায়গা না থাকলে শিশুরা রাস্তা, নির্মাণাধীন ভবন কিংবা অন্য ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে চলে যেতে পারে। তাই শিশুর খেলার অধিকার নিশ্চিত করাও শিশু নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
শিশুদের আমরা বড়রাই কখনো কখনও নির্বিচারে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করি। বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুদের বেঁধে মারধর, কর্মক্ষেত্রে নির্যাতন, শারীরিক নিপীড়ন কিংবা অবহেলার দৃশ্য সামনে আসে। কোথাও নিষ্ঠুর আচরণে, কোথাও ভুল চিকিৎসায়, কোথাও অনিরাপদ কর্মপরিবেশে শিশুর প্রাণহানি ঘটে। এসব ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়; এগুলো শিশুদের প্রতি আমাদের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং সুরক্ষা ব্যবস্থার দুর্বলতার ইঙ্গিত দেয়।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয়গুলোর একটি হলো ভেজাল খাদ্য, অনিরাপদ ওষুধ এবং ভুল চিকিৎসার কারণে শিশুদের ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া। এসব ক্ষতি সব সময় তাৎক্ষণিকভাবে দৃশ্যমান হয় না। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি, মস্তিষ্কের বিকাশ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা ও ভবিষ্যৎ জীবনের ওপর এর গভীর প্রভাব পড়ে। এই নীরব ক্ষয়ও একধরনের ‘সাইলেন্ট ডেথ’। শিশু বলেই এসব ঘটনা ক্ষুদ্র বা সাময়িক মনে করে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
অনেক দেশে বড় কোনো দুর্ঘটনার পর শুধু তদন্ত হয় না; সেই ঘটনার আলোকে নতুন নিরাপত্তা মানদণ্ডও তৈরি হয়। ভবন নির্মাণবিধি পরিবর্তন করা হয়, প্রশিক্ষণ বাড়ানো হয়, নতুন প্রোটোকল চালু করা হয় এবং বাস্তবায়ন পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফলে একই ধরনের দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা কমে।
আমাদের দেশেও নির্মাণাধীন ভবন থেকে বস্তু পড়ে মানুষের মৃত্যু, অগ্নিকাণ্ড, ভবনধস, বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা এবং অনিরাপদ অবকাঠামোর কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এসব থেকে শিক্ষা নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের পথে হাঁটতে হবে। শুধু ঘটনার পর শোক প্রকাশ নয়, দুর্ঘটনার আগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিশ্চিত হওয়া উচিত রাষ্ট্র ও সমাজের প্রধান লক্ষ্য।
আজ সময় এসেছে শিশুদের নিরাপত্তাকে একটি জাতীয় সূচক হিসেবে বিবেচনা করার। যেমন আমরা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি কিংবা মাথাপিছু আয় নিয়ে কথা বলি, তেমনি একটি দেশের উন্নয়নের অন্যতম মানদণ্ড হওয়া উচিত, সেই দেশে শিশুরা কতটা নিরাপদ, কতটা সুস্থ এবং কতটা মর্যাদার সঙ্গে বেড়ে উঠতে পারছে।
শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় শিশুদের কণ্ঠও শোনা প্রয়োজন। বিদ্যালয়, পরিবার ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানে তারা কোথায় অনিরাপদ বোধ করে, কোন আচরণ তাদের ভয় পাইয়ে দেয়, কোথায় সাহায্য চাইতে দ্বিধা করে এসব জানার ব্যবস্থা থাকতে হবে। শিশুদের মতামত গ্রহণ এবং নিরাপদ অভিযোগ জানানোর সুযোগ সৃষ্টি করলে অনেক ঝুঁকি আগেই শনাক্ত করা সম্ভব।
শিশুরা ভবিষ্যৎ, এই কথাটা আমরা প্রায়ই বলি। এটি শুধু আবেগপূর্ণ বাক্য নয়; বরং গভীর বাস্তবতা। কিন্তু সেই ভবিষ্যৎকে নিরাপদ রাখার জন্য আমরা প্রতিদিন কী করছি, সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
একটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হয়, যখন সেই দেশের প্রতিটি শিশু নিরাপদে বিদ্যালয়ে যেতে পারে, নিশ্চিন্তে খেলতে পারে, সুস্থভাবে বেড়ে উঠতে পারে এবং পরিবারের মানুষ প্রতিদিন আতঙ্ক নয়, স্বস্তি নিয়ে তাদের ঘরে ফেরার অপেক্ষা করতে পারে।
এসব নিশ্চিত করতে জন্ম থেকে কৈশোর পর্যন্ত শিশুর শারীরিক, মানসিক, স্বাস্থ্যগত, সামাজিক ও পরিবেশগত নিরাপত্তাকে কেন্দ্র করে একটি সমন্বিত ‘জাতীয় শিশু নিরাপত্তা কাঠামো’ প্রয়োজন। এতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব, নিরাপত্তার মানদণ্ড, পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা এবং জবাবদিহি স্পষ্টভাবে নির্ধারিত থাকতে হবে।
একই সঙ্গে জাতীয় বাজেটে বিদ্যালয় নিরাপত্তা, শিশুস্বাস্থ্য, নিরাপদ খাদ্য, সাঁতার শিক্ষা, খেলার জায়গা, জরুরি চিকিৎসা, জীবনদক্ষতা এবং শিশু সুরক্ষা প্রশিক্ষণের জন্য দৃশ্যমান ও পর্যাপ্ত বরাদ্দ রাখতে হবে। বাজেটে শিশু নিরাপত্তা গুরুত্ব পেলে সেটি শুধু ব্যয় হবে না; বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগে পরিণত হবে।
শিশুর নিরাপত্তা কোনো বিশেষ দিবসের আলোচনা নয়। এটি হওয়া উচিত রাষ্ট্র, পরিবার ও সমাজের প্রতিদিনের অঙ্গীকার। কারণ একটি শিশুর জীবন রক্ষা মানে শুধু একটি প্রাণ রক্ষা করা নয়; একটি পরিবারের স্বপ্ন, একটি সমাজের আশা এবং একটি দেশের ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা। উন্নয়নের প্রতিটি সিদ্ধান্তের কেন্দ্রে তাই থাকুক শিশুর জীবন, নিরাপত্তা, শৈশব ও মর্যাদা।
ফারহানা মান্নান
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী শৈশব; শিক্ষাবিষয়ক গবেষক