শিক্ষাব্যবস্থা রক্ষায় চাই কঠোর পদক্ষেপ
প্রকাশ : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

গত ১৭ বছরে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডে বিনামূল্যের বই নিয়ে টেন্ডার কারসাজি, নিম্নমানের কাগজ ব্যবহার, অযৌক্তিক প্রাক্কলিত দর বৃদ্ধি, চাহিদার অতিরিক্ত বই ছাপানো ছাড়াও প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়মবহির্ভূত সম্মানি গ্রহণের যে কাণ্ড ঘটেছে, তাতে শুধু রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়ই হয়নি, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও তা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
ক্ষমতাচ্যুত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আড়াই হাজার কোটি টাকারও বেশি আর্থিক অনিয়মের তথ্য সম্প্রতি শিক্ষা অডিট অধিদপ্তরের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে উন্মোচিত হয়েছে। বলা বাহুল্য, কোটি কোটি কোমলমতি শিক্ষার্থীর হাতে মানসম্মত বই পৌঁছে দেওয়া রাষ্ট্রের অন্যতম মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু বিগত সরকারের আমলে একটি প্রভাবশালী মুদ্রণ সিন্ডিকেট এবং এনসিটিবির অসাধু চক্রের যৌথ যোগসাজশে শিক্ষা খাতকে অনৈতিক লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করা হয়েছিল। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করলে এই কায়েমী স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর প্রভাব এখনও বহাল রয়েছে। এমনকি আসন্ন শিক্ষাবর্ষের দরপত্রেও উচ্চ দর হেঁকে সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
পাঠ্যপুস্তক সরবরাহ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি ফেরাতে হলে কঠোর ও কার্যকর পদক্ষেপের বিকল্প নেই বলে মনে করি আমরা। একইসঙ্গে অডিট প্রতিবেদনে অভিযুক্ত এনসিটিবির কর্মকর্তা এবং চিহ্নিত মুদ্রণ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে চলমান তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নেওয়ারও প্রয়োজন রয়েছে। পাশাপাশি ই-টেন্ডারিং প্রক্রিয়াকে উচিত সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক করা। শুধু দরপত্র নিয়ন্ত্রণেই শেষ নয়, বইয়ের গুণগত মান নিশ্চিত করতে থার্ড-পার্টি প্রি-ডেলিভারি ইনস্পেকশন সংস্থাসমূহের কাজের মান যাচাইয়ে একটি স্বাধীন ‘পাঠ্যপুস্তক মাননিয়ন্ত্রণ সেল’ প্রতিষ্ঠা করাও প্রয়োজন, যেন কোনোভাবেই নিম্নমানের বই কোমলমতি শিক্ষার্থীদের হাতে না পৌঁছায়। একইসঙ্গে এনসিটিবির প্রশাসনিক সংস্কার এনে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মবহির্ভূত সুযোগ-সুবিধাও অবিলম্বে বন্ধ করা দরকার। সামগ্রিক কেনাকাটা প্রক্রিয়াকেও পরিচালিত করতে হবে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন অনুযায়ী।
পাঠ্যপুস্তক নিয়ে অনিয়ম মূলত আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মেধা ও শিক্ষার মানের সঙ্গে এক ধরনের প্রতারণা। দুর্নীতিমুক্ত ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশ গড়ার যে অঙ্গীকার জাতির সামনে রয়েছে, তার সূচনা হওয়া উচিত শিক্ষা প্রশাসনে থাকা অনৈতিক সিন্ডিকেট পুরোপুরি নির্মূলের মাধ্যমে। শিক্ষা খাতকে কলঙ্কমুক্ত করতে সরকার সর্বাত্মক দৃঢ়তা দেখাবে, এটাই প্রত্যাশা।
