অর্থনীতি ও সমাজকে রক্ষা করতে অনলাইন জুয়া বন্ধ হোক
প্রকাশ : ১১ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এর সঙ্গে বাড়ছে প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ। অনলাইন জুয়া, ডিজিটাল প্রতারণা এবং অবৈধ ভিওআইপির মাধ্যমে একটি চক্র বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। এসব অপরাধ এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আন্তর্জাতিক চক্র। দেশের মাটিতে বসে তারা কোটি কোটি টাকা সংগ্রহ করছে এবং সেই অর্থ পাচার করছে বিদেশে। রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি ছয়তলা ভবনে অভিযান চালিয়ে তিন চীনা নাগরিক ও এক বাংলাদেশি নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ডিবির তথ্য অনুযায়ী, ওই ভবনের চতুর্থ ও পঞ্চম তলায় অনলাইন জুয়া, অবৈধ ভিওআইপি এবং ডিজিটাল প্রতারণার কার্যক্রম চলত। অভিযানে বিপুলসংখ্যক ল্যাপটপ, স্মার্টফোন, সিমকার্ড, সিম ধারণক্ষমতার স্লট এবং জিএসএম গেটওয়ে উদ্ধার হয়েছে। এসব সরঞ্জাম দেখে বোঝা যায়, চক্রটি ছোট পরিসরে কাজ করছিল না। একটি গেটওয়ে ব্যবহার করেই প্রতি মাসে ২০০ থেকে ২৫০ কোটি টাকা সংগ্রহ করে বিদেশে পাচার করা হতো। এ তথ্য সত্য হলে তা দেশের অর্থনীতির জন্য ভয়াবহ ক্ষতির ইঙ্গিত দেয়। এত বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ তৈরি হয়। দেশের অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ কমে যায়। অর্থনীতির স্বাভাবিক প্রবাহও বাধাগ্রস্ত হয়। অর্থ পাচার রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি অপরাধীদের আরও শক্তিশালী করে। অনলাইন জুয়ার সামাজিক ক্ষতিও কম নয়। জুয়া মানুষের মধ্যে দ্রুত ধনী হওয়ার প্রবণতা তৈরি করে। অনেক মানুষ সহজে টাকা পাওয়ার আশায় নিজের সঞ্চয় হারান। কেউ ঋণ করেন। কেউ পরিবারের প্রয়োজনীয় অর্থ জুয়ায় ব্যয় করেন। এতে পরিবারে অশান্তি তৈরি হয়। অনেকে নিঃস্ব হয়ে যান। কেউ কেউ মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তরুণ সমাজের ওপর এর প্রভাব আরও ভয়াবহ। প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে মোবাইল ফোনেই এখন জুয়ার আসর বসছে। ফলে জুয়ার বিস্তার ঠেকানো আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। আরও উদ্বেগজনক একটি বিষয় এসেছে। চক্রটি অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করত। একসঙ্গে পরিচালনা করত একাধিক সিম। সফটওয়্যারের মাধ্যমে আইএমইআই নম্বর পরিবর্তন করা হতো। এতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি এড়িয়ে যেত। অপরাধীরা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে। আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে তাই আরও দক্ষ হতে হবে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সাইবার অপরাধ শনাক্তে বিশেষায়িত জনবল তৈরি করতে হবে। একজন চীনা নাগরিক বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের অতিথি শিক্ষক হিসেবে পরিচয় দিলেও শিক্ষকতার গ্রহণযোগ্য প্রমাণ দিতে পারেননি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখতে হবে। বাংলাদেশে বিদেশি নাগরিকদের অবস্থান ও কর্মসংস্থানের তথ্য যথাযথভাবে যাচাই করা জরুরি। কোনো বিদেশি নাগরিক অপরাধে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে এ ধরনের অপরাধে কোনো দেশি সহযোগী থাকলে তাকেও আইনের আওতায় আনতে হবে। বসুন্ধরার এ অভিযান আমাদের জন্য একটি সতর্কবার্তা। অপরাধীরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে দেশের অর্থনীতি ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। ভেঙে দিতে হবে অনলাইন জুয়া ও ডিজিটাল প্রতারণার নেটওয়ার্ক। বন্ধ করতে হবে অর্থসপাচারের প্রতিটি পথ। এ অপরাধে জড়িত দেশি ও বিদেশি সবাইকে আইনের আওতায় আনতে হবে। রাষ্ট্রের অর্থনীতি ও সমাজকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
