জ্বালানি সক্ষমতা দরকার

প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দেশে প্রায় ১ মাসব্যাপী শুরু হয়েছে জ্বালানি সংকট। চলমান সংকট দেশের জ্বালানি ব্যবস্থার সামগ্রিক দুর্বলতাকেই নতুন করে সামনে হাজির করেছে। বলাবাহুল্য, উদ্ভুত পরিস্থিতি নিজস্ব জ্বালানি সক্ষমতা গড়ে তোলার পরিষ্কার বার্তা হিসেবে নেওয়াই শ্রেয়। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ঝুঁকি এড়াতে এ বার্তা সরকার ও নীতিনির্ধারণী মহলের অবশ্যই বোধগম্য হতে হবে।

দেশব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব প্রকট। প্রায় সব বিভাগ ও শ্রেণির মানুষ এ সংকটের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছেন। গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে সারা দেশে চলছে তীব্র লোডশেডিং। শিল্পকারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। এরই মধ্যে শত শত শিল্পকারখানা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে বাড়ছে কর্মহীন মানুষের সংখ্যা। বাসাবাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না ঠিকঠাক। বিকল্প উপায় হিসেবে সিলিন্ডার ব্যবহারের পাশাপাশি অনেককে বাইরের খাবারের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। অর্থাৎ পরিবারগুলো বাড়তি আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সিএনজি স্টেশনগুলোয় বাড়ছে ভিড়। গণপরিবহনগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ ট্রিপ দিতে পারছে না। ফলে সড়কে পরিবহন সংকট ও যাত্রীদের বাড়তি ব্যয়ভার বহন করতে হচ্ছে। মোট কথা, প্রাত্যহিক জীবনের পাশাপাশি রাষ্ট্রের প্রতিটি বিভাগকে এ সংকটের ভেতর দিয়ে যেতে হচ্ছে। ফলে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে ক্রমেই উদ্বেগ হচ্ছে ঘনীভূত। সরকারের তরফ থেকে এরই মধ্যে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য মার্কেট-শপিংমলগুলোর সময়সীমা নির্ধারণের মতো নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি থেকে দ্রুত উত্তরণ কীভাবে হবে, সে ব্যাপারে সরকারের দায়িত্বশীল জায়গা থেকেও তেমন কোনো আশাব্যবঞ্জক বার্তা মানুষ পাচ্ছে না। বরং সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ পর্যায় থেকে সমন্বয়হীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কথাবার্তা হতাশা এবং কিছু ক্ষেত্রে বিরক্তির উদ্রেক করছে, যা অগ্রহণযোগ্য। এই যখন পরিস্থিতি, তখন জ্বালানি নিরাপত্তার প্রশ্নটি জোরেশোরে উঠেছে। গতকাল রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একটি অনুষ্ঠানে চলমান সংকটের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন। এ সংকট কয়েকদিনের মধ্যে অনেকাংশে কমে আসবে বলেও আশ্বস্ত করেছেন। তিনি এ খাতকে বিদেশিদের হাতে না দিয়ে দেশি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অনুসন্ধান চালিয়ে নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কারের ওপর জোর দেন। তার অর্থ দাঁড়ায়, অন্যের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি। তার এ বক্তব্য বাস্তবিক ও প্রশংসাযোগ্য। এমনকি দেশের বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট সমাধানে অন্য রাজনৈতিক দল সরকারের চেয়ে ভালো পরিকল্পনা দিলে, তাদের পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নও করা হবে, প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্যও আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ। রোববার কালবেলায় প্রকাশিত এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা আমদানিনির্ভরতা তৈরি করছে। এতে বাড়ছে ভবিষ্যৎ জ্বালানি ঝুঁকি। পাশাপাশি তারা জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টরাসহ দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞরাও সামগ্রিক জ্বালানি ব্যবস্থায় নিজস্ব সক্ষমতা অর্জনের বিষয়টিতেই গুরুত্বারোপ করেছেন। আমরা মনে করি, জ্বালানিতে পরনির্ভরতা কাটিয়ে ওঠার কোনোই বিকল্প নেই। বিরাজমান জ্বালানি সংকট নিঃসন্দেহে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব সক্ষমতার বৃদ্ধির তাগিদকেই গুরুত্ব দেয়। এটা করা না গেলে যে ভবিষ্যৎ ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, তা মোকাবিলা সম্ভব হবে না। অনুমান করা কঠিন কিছু নয়, আমাদের জ্বালানির ভিত কতটা নাজুক যে, একটি টার্মিনাল বন্ধ হলেই বেসামাল অবস্থা হয়ে যায়। ফলে উচিত হচ্ছে, টেকসই নীতি গ্রহণ করা। এ উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাপেক্সকে শক্তিশালী করতে হবে। আমাদের প্রত্যাশা, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।