খরখরিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন জরুরি
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ক্লাসরুমের অভাবে দিনের পর দিন শহিদ মিনারের বেদিতে নিতে হচ্ছে ক্লাস! স্থানটি বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত সীমান্তবর্তী জেলা কুড়িগ্রাম। জেলার চিলমারী উপজেলার রমনা মডেল ইউনিয়নের খরখরিয়া ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এ করুণ দশা। এ বিদ্যালয়ে শিশু শ্রেণিসহ শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ২০০। স্কুলটির পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ বিধায় ভেঙে ফেলা হয়। দুই কক্ষের একটি ভবন নির্মাণ হলেও তা সব শ্রেণির জন্য অপ্রতুল। ফলে বাধ্য হয়ে স্কুলের আঙিনায় শহিদ মিনারের বেদিতে চলছে চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঠদান।
জানা যায়, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে ভবনটির একটি কক্ষ অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। অন্যটি তৃতীয় শ্রেণির ক্লাসরুম হিসেবে। তবে পুরোনো ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় ২০২৫ সালে নিলামের মাধ্যমে ভেঙে ফেলা হয়। পুরোনো ভবনটি অপসারণের প্রায় এক বছর হয়ে গেলেও নতুন ভবন নির্মাণ না করায় খোলা আকাশের নিচে পাঠদান করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।
খোলা আকাশের নিচে কোমলমতি শিশুদের ক্লাস নেওয়ার কারণে ভোগান্তি, কষ্ট, স্বাস্থ্যগত জটিলতার পাশাপাশি আরও নানা ধরনের কষ্টের কথা বলা যায়। শিক্ষার স্বাভাবিক কার্যক্রম চরমভাবে ব্যহত হচ্ছে বলে স্বীকার করা যায়। শিক্ষকদের যন্ত্রণা লাঘবের কথা তুলে ধরা যায়। রাষ্ট্রের স্থানীয় শিক্ষাসংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায় নতুন ভবন নির্মাণের জন্য। কিন্তু এসবই কি যথেষ্ট? আমরা মনে করি, শুধু ভোগান্তির কথা তুলে ধরাই যথেষ্ট ও যথার্থ নয়। বরং যথার্থ হওয়া উচিত শিক্ষার মতো একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সামগ্রিক উদাসীনতার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা। চোখে আঙুল দিয়ে দেখানো যে, যারা আগামীর কর্ণধার, যারা ভবিষ্যতে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির চালিকাশক্তি, তাদের শিক্ষার ক্ষেত্রে এ উদাসীনতা কেন? অত্যন্ত হতাশার বিষয় হচ্ছে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি কিংবা সরকারি শিক্ষা প্রশাসনের নিজ থেকে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। যদি তা-ই হতো, তাহলে নিশ্চয়ই এতদিন এই পরিস্থিতির পরিবর্তন হতো। সংকটের সমাধান হতো। উপরন্তু, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে স্থানীয়দের বারংবার আবেদন-নিবেদন সত্ত্বেও কাজের কাজ এখনও হয়নি; হয়নি কোনো স্থায়ী সমাধান। এটাই নির্মম বাস্তবতা। বিস্ময়কর হলেও সত্য, এই বাস্তবতাই লক্ষ্য করা যায় দেশের শিক্ষায় বাজেটের পরিমাণসহ সামগ্রিক শিক্ষায় দেশের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের সুদীর্ঘ উদাসীনতা ও খামখেয়ালিপনায়।
সুতরাং, দেশের এক কোনায় অবস্থিত কুড়িগ্রামের এ ঘটনা একটি ছোট্ট চিত্র হতে পারে; কিন্তু রাষ্ট্রের তরফ থেকে এটি কতখানি গুরুত্ব পাচ্ছে, এটাই তাৎপর্যবহ। প্রাথমিক শিক্ষার মতো মৌলিক স্তরে এ উদাসীনতা মরমি সাধক লালন ফকিরের একটি গানের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়, গাছ যদি হয় বীজের গুণে, তাতে ফল ধরে না...।
