প্রবীণদের সঙ্গে প্রতারণা বন্ধ হোক
প্রকাশ : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠান, বাইগাম, দেশের প্রবীণ মানুষের জন্য দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে বহু প্রবীণ মানুষের আশা ও আস্থা জড়িয়ে আছে। সেই প্রতিষ্ঠানের বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুতর। কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কয়েক মাসের বেতন বকেয়া থাকার কথা বলা হয়েছে। নিয়ম না মেনে আত্মীয়স্বজনকে গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। টেন্ডার ছাড়া প্রায় ৯৫ লাখ টাকার যন্ত্রপাতি কেনার অভিযোগ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ও অর্থ ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। মুদ্রণকাজে পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে সুবিধা দেওয়ার অভিযোগ আছে। হাসপাতালের বিনামূল্যের চিকিৎসাসেবা নিয়েও বৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে নারী সদস্য ও কর্মীদের সঙ্গে অশালীন আচরণের অভিযোগ। এসব অভিযোগ সত্য হলে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। একটি জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কোনো ব্যক্তির কাছ থেকেই এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়। তবে অভিযোগ উঠেছে বলেই কাউকে অপরাধী বলা যায় না। অভিযুক্ত মহাসচিব অভিযোগগুলোকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলেছেন। তিনি বলেছেন, তিনি নীতিতে অটল। এ বক্তব্যও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। অভিযোগ এবং পাল্টা বক্তব্য দুটোই নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করতে হবে। সত্য বের করে আনার এটাই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নটি হলো প্রবীণদের অধিকার। প্রবীণ মানুষের জীবনের একটি বড় অংশ কেটেছে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কাজ করে। জীবনের শেষ সময়ে তাদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, চিকিৎসা, সম্মান ও মানবিক সেবা নিশ্চিত করা সমাজের দায়িত্ব। সেই দায়িত্ব পালনের জন্য যে প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে, সেখানে অনিয়ম হলে ক্ষতিগ্রস্ত হন প্রবীণরাই। প্রবীণদের সঙ্গে প্রতারণা কোনো বিবেচনাতেই গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের জন্য বরাদ্দ অর্থ বা সামগ্রী আত্মসাৎ মানবিকতার চরম লঙ্ঘন। প্রবীণদের চিকিৎসাসেবা নিয়ে বৈষম্য করা হলে সেটিও গুরুতর অন্যায়। তাদের অসহায় অবস্থার সুযোগ নেওয়া কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এখানে আরও একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ। একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ব্যক্তিদের বেতন দীর্ঘদিন বকেয়া থাকলে তার প্রভাব সেবার ওপর পড়ে। কর্মীরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় থাকলে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। তাই বেতন বকেয়া থাকার অভিযোগও দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। আমরা মনে করি, বাইগামের বিরুদ্ধে ওঠা প্রতিটি অভিযোগ দ্রুত স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। প্রয়োজন হলে আর্থিক নিরীক্ষা করতে হবে। নিয়োগ প্রক্রিয়া পরীক্ষা করতে হবে। ক্রয়-সংক্রান্ত নথি যাচাই করতে হবে। হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার হিসাবও পরীক্ষা করা দরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি বা পদধারীকে ছাড় দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে নির্দোষ কেউ যেন হয়রানির শিকার না হন, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। বাইগাম প্রবীণদের প্রতিষ্ঠান। এটি কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। প্রবীণ মানুষের আস্থা এবং জনস্বার্থের সঙ্গে এই প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব জড়িত। তাই এখানে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতেই হবে। প্রবীণদের জীবনের শেষ সময়টি যেন অবহেলা ও প্রতারণার মধ্যে না কাটে, তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র এবং সমাজের। অভিযুক্তদের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। প্রকাশ করা হোক সত্য। অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে শাস্তি নিশ্চিত করা হোক। এটাই প্রবীণদের প্রতি ন্যূনতম ন্যায়বিচার।
