যে কারণে কৃষি গবেষণায় দ্বিতীয় প্রজন্মের সংস্কার জরুরি

কৃষিবিদ ড. মো. আল-মামুন

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একটি দেশ তার কৃষির ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ করতে পারবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে তার গবেষণাগারে আজ কী কাজ হচ্ছে তার ওপর। মাঠে কৃষক যে বীজ বুনছেন, যে জাত চাষ করছেন, যে প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন— তার পেছনে থাকে বছরের পর বছর গবেষণা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিজ্ঞানীদের শ্রম। অথচ কৃষি যখন জলবায়ু পরিবর্তন, আবাদযোগ্য জমি কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি ও নিরাপদ খাদ্যের মতো নতুন বাস্তবতার মুখোমুখি, তখন আমাদের কৃষি গবেষণা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ-বিজ্ঞানীদের ক্যারিয়ার ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে আমরা কতটা ভাবছি?

এই প্রশ্ন এখন আর শুধু গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ কোনো প্রশাসনিক প্রশ্ন নয়; এটি খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের আয় এবং জাতীয় অর্থনীতির প্রশ্ন। কারণ আগামী দিনের কৃষিতে শুধু বেশি উৎপাদন করাই যথেষ্ট হবে না; কম জমিতে, কম পানি ও কম খরচে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও বেশি এবং নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করতে হবে। লবণাক্ততা, খরা, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও জলাবদ্ধতার মতো ঝুঁকি এরইমধ্যে কৃষির বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ফলে কৃষির পরবর্তী সাফল্য আরও বেশি নির্ভর করবে বিজ্ঞান, গবেষণা ও উদ্ভাবনের ওপর।

বিশ্বের কৃষি গবেষণাও এই পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে। জিনোমিক্স, জিন এডিটিং, বায়োটেকনোলজি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিগ ডেটা, রিমোট সেন্সিং ও নির্ভুল কৃষি গবেষণার নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। আগামী দিনের কৃষি প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকেও এসব প্রযুক্তিতে সক্ষমতা বাড়াতে হবে। কিন্তু আধুনিক যন্ত্রপাতি ও গবেষণাগার দিয়ে এই কাজ একা সম্ভব নয়; প্রয়োজন সেগুলো পরিচালনা ও কাজে লাগানোর মতো দক্ষ, মেধাবী ও উৎসাহী বিজ্ঞানী। আর সেই বিজ্ঞানীদের গবেষণায় ধরে রাখতে হলে প্রয়োজন এমন একটি প্রাতিষ্ঠানিক পরিবেশ, যেখানে মেধা ও গবেষণার সাফল্য স্বীকৃতি পাবে এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

গবেষণার জন্য আমরা অবকাঠামো তৈরি করছি, প্রকল্প নিচ্ছি, অর্থ ব্যয় করছি; কিন্তু গবেষককে ধরে রাখার জন্য আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা কি একই গতিতে আধুনিক হয়েছে? একজন বিজ্ঞানী বছরের পর বছর গবেষণা করে নতুন জাত উদ্ভাবন করলেন, প্রযুক্তি তৈরি করলেন, আন্তর্জাতিক মানের গবেষণাপত্র প্রকাশ করলেন কিংবা কৃষকের মাঠে কার্যকর কোনো সমাধান পৌঁছে দিলেন। কিন্তু তার ক্যারিয়ার অগ্রগতি যদি শেষ পর্যন্ত একটি অনুমোদিত পদ খালি হওয়ার ওপর নির্ভর করে, তাহলে গবেষণায় উৎকর্ষের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক প্রণোদনা কতটা কার্যকর থাকে?

বাংলাদেশের কৃষি আজকের অবস্থানে পৌঁছেছে কৃষকের নিরলস শ্রমের পাশাপাশি জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের (এনএআরএস) বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের গবেষণা ও অবদানের মাধ্যমেও। নতুন জাত উদ্ভাবন, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, উৎপাদন প্রযুক্তি, কৃষিযান্ত্রিকীকরণ, জলবায়ু-সহনশীল কৃষি এবং উৎপাদন ব্যয় কমানোর মতো নানা ক্ষেত্রে গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) ও বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে গড়ে ওঠা এনএআরএস দেশের কৃষি গবেষণার অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

সময় বদলেছে, বদলেছে কৃষির চ্যালেঞ্জও। যে গবেষণা কাঠামো একসময় দেশের খাদ্য উৎপাদনের ঘাটতি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, এখন সেই কাঠামোকেই মোকাবিলা করতে হচ্ছে আরও জটিল ও বহুমাত্রিক বাস্তবতা। জলবায়ু পরিবর্তন, কৃষিজমি হ্রাস, উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, নিরাপদ খাদ্যের চাহিদা, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর চাপ এবং আন্তর্জাতিক কৃষিবাজারের পরিবর্তন সব মিলিয়ে কৃষি গবেষণার সামনে এখন নতুন ধরনের প্রশ্ন। এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুধু গবেষণার পরিমাণ নয়, গবেষণার গতি, মান, সমন্বয় এবং উদ্ভাবনী সক্ষমতাও বাড়াতে হবে।

একটি অত্যাধুনিক ল্যাবরেটরি তৈরি করা যায় কয়েক বছরে; কিন্তু একজন দক্ষ বিজ্ঞানী তৈরি করতে লাগে দীর্ঘ সময়। উচ্চশিক্ষা, প্রশিক্ষণ, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও মাঠপর্যায়ের কাজের মধ্য দিয়ে একজন বিজ্ঞানী ধীরে ধীরে একটি প্রতিষ্ঠানের মূল্যবান সম্পদে পরিণত হন। তার সঙ্গে চলে গেলে শুধু একজন কর্মী হারান না, হারিয়ে যায় বহু বছরের জ্ঞান, অভিজ্ঞতা, গবেষণা-নেটওয়ার্ক ও প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতি। তাই বিজ্ঞানীদের ক্যারিয়ারকে শুধু প্রশাসনিক বিষয় হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; এটি গবেষণা নীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। যে ব্যবস্থায় ভালো গবেষণা করেও ক্যারিয়ারে এগিয়ে যাওয়ার সুস্পষ্ট সুযোগ থাকে না, সেখানে দীর্ঘমেয়াদে গবেষণার উৎকর্ষ ধরে রাখা কঠিন।

একজন বিজ্ঞানীর পদোন্নতি শুধু চাকরির বয়স বা শূন্য পদের ওপর নির্ভর করবে-এমন কাঠামোর পরিবর্তে গবেষণার সাফল্য, দক্ষতা ও অবদানকে অধিকতর গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে গবেষণার সাফল্যও শুধু প্রকাশনার সংখ্যা দিয়ে মাপা উচিত নয়। একটি গবেষণাপত্র প্রকাশ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ; কিন্তু একটি নতুন জাত যদি কৃষকের উৎপাদন বাড়ায়, একটি প্রযুক্তি যদি উৎপাদন ব্যয় কমায় কিংবা কোনো উদ্ভাবন যদি জলবায়ুর অভিঘাত মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখে, তার সামাজিক ও অর্থনৈতিক মূল্য আরও বেশি। তাই গবেষণা মূল্যায়নে প্রকাশনার পাশাপাশি গবেষণার গুণগত মান, ব্যবহারিক প্রয়োগ, উদ্ভাবন এবং বাস্তব প্রভাবকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

মেধাবী বিজ্ঞানীদের গবেষণা পেশায় ধরে রাখা, পেশাটিকে আরও আকর্ষণীয় করা এবং গবেষণালব্ধ জ্ঞান ও প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশ সময়ের সঙ্গে তাদের কৃষি গবেষণা ব্যবস্থায় নানা ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রণোদনামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। দেশভেদে কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পার্থক্য থাকলেও গবেষণা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও উদ্ভাবনকে আরও সমন্বিত করার একটি সাধারণ প্রবণতা লক্ষ করা যায়। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও এসব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজস্ব বাস্তবতা ও প্রয়োজনের আলোকে উপযোগী সংস্কারের সুযোগ রয়েছে।

ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর) কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে সমন্বিতভাবে একটি বিস্তৃত জাতীয় কৃষি গবেষণা নেটওয়ার্ক পরিচালনা করে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সমন্বিত গবেষণা কর্মসূচি রয়েছে এবং বিজ্ঞানীদের জন্য ক্যারিয়ার উন্নয়ন ও গবেষণাভিত্তিক মূল্যায়নের ব্যবস্থাও চালু আছে। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন ও চীনের কৃষি গবেষণা ব্যবস্থাতেও গবেষণা সমন্বয়, মানবসম্পদ উন্নয়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও উদ্ভাবনকে আরও কার্যকর করার বিভিন্ন উদ্যোগ দেখা যায়। দেশভেদে কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় পার্থক্য থাকলেও একটি বিষয় স্পষ্ট, কৃষি গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে শুধু গবেষণাগার ও অর্থায়ন নয়, দক্ষ বিজ্ঞানী এবং তাদের জন্য কার্যকর ক্যারিয়ার কাঠামোও সমান গুরুত্বপূর্ণ।

এশিয়ার এসব দেশের অভিজ্ঞতা এবং বাংলাদেশের কৃষির পরিবর্তিত বাস্তবতার আলোকে এনএআরএসভুক্ত কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞানীদের জন্য একটি সমন্বিত বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা সার্ভিস (বিএআরএস) প্রতিষ্ঠার ধারণা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা যেতে পারে। বিএআরএস-এর উদ্দেশ্য কোনো বিদ্যমান গবেষণা প্রতিষ্ঠান বিলুপ্ত করা বা একীভূত করা নয়। প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের স্বাতন্ত্র্য, নিজস্ব গবেষণা ম্যান্ডেট ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো অক্ষণ্ণ রেখে বিজ্ঞানীদের জন্য একটি অভিন্ন, আধুনিক, মেধাভিত্তিক ও মর্যাদাপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সার্ভিস কাঠামো গড়ে তোলাই হতে পারে এর মূল লক্ষ্য। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে গবেষণা সমন্বয়, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময় এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা আরও জোরদার করা যেতে পারে। শুধু সার্ভিস কাঠামো পরিবর্তন করলেই কৃষি গবেষণা শক্তিশালী হবে না। মেধাবী তরুণদের গবেষণায় আকৃষ্ট ও ধরে রাখতে পিএইচডি, পোস্টডক্টরাল গবেষণা, আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও যৌথ গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে। জিনোমিক্স, জিন এডিটিং, বায়োইনফরমেটিকস, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও জলবায়ু-স্মার্ট কৃষিতে বিনিয়োগ এখন অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে বিএআরএসের অধীনে গবেষণা ও উচ্চশিক্ষা ফান্ড গঠন করে প্রতিযোগিতামূলক অনুদান, আন্তর্জাতিক গবেষণার সুযোগ এবং উৎকর্ষ ও উদ্ভাবনের জন্য স্বীকৃতি ও নীতিসম্মত প্রণোদনার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রেও নতুনভাবে ভাবার সুযোগ রয়েছে। অবসরের সঙ্গে একজন বিজ্ঞানীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতার অবসান হওয়া উচিত নয়। যোগ্য অবসরপ্রাপ্ত বিজ্ঞানীদের গবেষণা পরামর্শক বা মেন্টর হিসেবে যুক্ত রাখলে তাদের অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের কাজে লাগানো সম্ভব। একই সঙ্গে গবেষণা প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বেও বৈজ্ঞানিক যোগ্যতা ও নেতৃত্বদক্ষতাকে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান শুধু প্রশাসক নন, তিনি একজন বৈজ্ঞানিক নেতা। তাই নেতৃত্ব নির্বাচনে গবেষণা-অবদান, বৈজ্ঞানিক নেতৃত্ব, প্রশাসনিক দক্ষতা ও ভবিষ্যৎ গবেষণা কৌশল প্রণয়নের সক্ষমতা বিবেচনা করা উচিত। কৃষি গবেষণাকে শুধু ব্যয়ের খাত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একটি উন্নত জাত কৃষকের আয় বাড়াতে পারে, জলবায়ু-সহনশীল প্রযুক্তি ফসল রক্ষা করতে পারে এবং নতুন উদ্ভাবন উৎপাদন ব্যয় ও আমদানি নির্ভরতা কমাতে পারে। তাই কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ আসলে খাদ্যনিরাপত্তা, কৃষকের আয়, জলবায়ু অভিযোজন ও জাতীয় অর্থনীতির ভবিষ্যতে বিনিয়োগ। প্রশ্ন হওয়া উচিত শুধু কত টাকা ব্যয় হলো তা নয়; বরং সেই বিনিয়োগ থেকে দেশ কতটা জ্ঞান, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক মূল্য তৈরি করতে পারল।

বাংলাদেশের কৃষি এখন এমন এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে, যেখানে অতীতের সাফল্য দিয়ে ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেওয়া যাবে না। নতুন জাতের পাশাপাশি দরকার নতুন জ্ঞান, নতুন প্রযুক্তির পাশাপাশি নতুন গবেষক এবং আধুনিক গবেষণাগারের পাশাপাশি এমন একটি পরিবেশ, যেখানে একজন মেধাবী তরুণ জানবেন গবেষণায় ভালো করলে তার সামনে এগিয়ে যাওয়ার পথ আছে; একজন অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীও অনুভব করবেন— তার জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অবদানের যথাযথ মূল্য রয়েছে। কৃষি গবেষণার দ্বিতীয় প্রজন্মের সংস্কারের অর্থ তাই শুধু নতুন কোনো সার্ভিস চালু করা নয়; এর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত গবেষণাকে রাষ্ট্রীয় অগ্রাধিকারের আরও উচ্চতর পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া।

কৃষি গবেষণার দক্ষতা ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশের বাস্তবতা ও ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন। জাতীয় কৃষি গবেষণা সিস্টেমের সমন্বিত গভর্নেন্স, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলের কার্যকর ভূমিকা, বিজ্ঞানীদের যোগ্যতা ও কর্মদক্ষতাভিত্তিক ক্যারিয়ার উন্নয়ন, স্বচ্ছ নিয়োগ ও নেতৃত্ব নির্বাচন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং উদীয়মান গবেষণা ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সক্ষমতা গড়ে তোলার বিষয়গুলো গুরুত্ব পেতে পারে। একই সঙ্গে গবেষণা অর্থায়ন, কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের কার্যকারিতা এবং গবেষণা ব্যবস্থাপনায় দক্ষ নেতৃত্বের সুযোগ আরও শক্তিশালী করার বিষয়টিও বিবেচনা করা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা সার্ভিসকে কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর চাকরিগত সুবিধার প্রস্তাব হিসেবে না দেখে জাতীয় কৃষি গবেষণার মানবসম্পদ ও মেধা ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের একটি সম্ভাব্য কাঠামো হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল, এনএআরএসভুক্ত গবেষণা প্রতিষ্ঠান, বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে জাতীয় পর্যায়ে একটি নীতিগত আলোচনা হতে পারে। কারণ গবেষকের মেধা, অভিজ্ঞতা ও উদ্ভাবনী সক্ষমতার সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করাই কৃষির ভবিষ্যৎ সক্ষমতা বাড়ানোর অন্যতম শর্ত। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা সার্ভিস সেই লক্ষ্য অর্জনের একমাত্র পথ নয়; তবে সময়ের প্রয়োজন বিবেচনায় এটি হতে পারে আরও বিস্তৃত পর্যালোচনা ও নীতিগত আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচনা।

 

লেখক : প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা

বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট