৭০২টি এজেন্সিকে অনুমতি প্রদান হজ ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা চাই

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আগামী বছরের হজ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ৭০২টি এজেন্সিকে অনুমতি দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। অনুমতি পাওয়া এসব এজেন্সিকে সমন্বয়ের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রুপ বা অ্যালায়েন্স গঠন করতে হবে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৫ মে সৌদি আরবে হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশি হজযাত্রীদের জন্য এবার ৭৮ হাজার ৫০০ জনের কোটা নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর হজের নিবন্ধন শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় বাড়ানোর সুযোগ নেই। হজ মুসলমানদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। জীবনের সঞ্চয় ব্যয় করে, বহুদিনের স্বপ্ন ও আকাঙ্ক্ষা নিয়ে মানুষ পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যান। ফলে হজযাত্রীদের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও হয়রানিমুক্ত ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি সংশ্লিষ্ট সবার নৈতিক দায়িত্বও। বিশেষ করে হজ এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকারের অনুমোদন পাওয়া ৭০২টি এজেন্সির ওপর তাই বড় ধরনের দায়িত্ব বর্তায়। শুধু হজযাত্রী সংগ্রহ ও নিবন্ধন করলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং নিবন্ধন থেকে শুরু করে সৌদি আরবে যাত্রা, আবাসন, পরিবহন, খাবার, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা এবং দেশে ফেরার আগ পর্যন্ত প্রতিশ্রুত সেবা যথাযথভাবে নিশ্চিত করতে হবে। হজযাত্রী ও এজেন্সির মধ্যে যে প্যাকেজ চুক্তিপত্র হিসেবে বিবেচিত হবে, সেখানে সৌদি আরবে প্রদেয় সেবা, অবস্থানকাল, হোটেলের দূরত্ব ও প্যাকেজের মূল্য স্পষ্টভাবে উল্লেখ করার বিষয়টি তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুঃখজনক হলেও সত্য, প্রতিবছরই কোনো না কোনো হজযাত্রীকে এজেন্সির অবহেলা, অনিয়ম বা দায়িত্বহীনতার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। কখনো কখনো এজেন্সির গাফিলতির কারণে হজযাত্রী সময়মতো সৌদি আরব যেতে পারেন না। আবার অনেক সময় অভিযোগ আসে, প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হোটেল বা পরিবহন সুবিধা পাওয়া যায়নি, খাবার বা অন্যান্য সেবা যথাযথভাবে দেওয়া হয়নি কিংবা হজযাত্রীদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়নি। এসব অভিযোগ কোনোভাবেই হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ একজন হজযাত্রীর জন্য হজ শুধু একটি বিদেশভ্রমণ নয়; এটি তার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় সাধনা। বিশেষ করে বয়স্ক ও অসুস্থ হজযাত্রীদের কথা এ ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন। অনেকে প্রথমবারের মতো সৌদি আরবে যান, আরবি ভাষা জানেন না এবং সেখানকার পরিবেশ ও নিয়মকানুন সম্পর্কেও পর্যাপ্ত ধারণা থাকে না। ফলে তাদের নিরাপত্তা, যাতায়াত ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার ক্ষেত্রে এজেন্সির প্রতিনিধিদের দায়িত্ব আরও বেশি। একজন হজযাত্রী যেন অপরিচিত পরিবেশে অসহায় হয়ে না পড়েন, তা নিশ্চিত করা এজেন্সির মৌলিক দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

এবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় প্রত্যেক এজেন্সিকে ন্যূনতম ৪৪ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করতে হবে এবং প্রতি ৪৪ জনের জন্য আরবি ভাষায় দক্ষ, তথ্যপ্রযুক্তিতে জ্ঞানসম্পন্ন ও হজ পরিচালনায় অভিজ্ঞ একজন হজ গাইড নিয়োগ দিতে হবে। এটি নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থা। তবে শুধু নিয়ম প্রণয়ন করলেই হবে না, নিয়ম যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না, সেটিও কঠোরভাবে তদারক করতে হবে। সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কোনো এজেন্সি যেন হজযাত্রীদের সঙ্গে প্রতারণা বা অবহেলা করতে না পারে, সে জন্য নিবন্ধন ও সেবা দেওয়ার প্রতিটি ধাপে নজরদারি প্রয়োজন। এজেন্সিগুলোর দেওয়া প্যাকেজের সঙ্গে বাস্তবে তারা কী সেবা দিচ্ছে, হজযাত্রীদের কাছ থেকে কী পরিমাণ অর্থ নেওয়া হচ্ছে, নির্ধারিত হোটেল ও পরিবহন সুবিধা দেওয়া হচ্ছে কি না— এসব বিষয় নিয়মিত যাচাই করা দরকার। একই সঙ্গে হজযাত্রীদের অভিযোগ জানানোর সহজ ও কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে এবং অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিও নিশ্চিত করতে হবে। ধর্ম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনিবন্ধিত ব্যক্তিকে হজযাত্রী হিসেবে সৌদি আরবে নেওয়ার চেষ্টা করলে লাইসেন্স বাতিলসহ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিধানও রয়েছে।