পদমর্যাদার বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব বড়
রেজাউল করিম খোকন
প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
দাপ্তরিক যোগাযোগে ও নথিপত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে 'মহামান্য' ও 'মাননীয়' বা অন্য কোনো সম্মানজনক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার না করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক পরিপত্রে এ কথা জানানো হয়। পরিপত্রে বলা হয়েছে , রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে 'মহামান্য' ও 'মাননীয়' শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশের অতীতের প্রধানমন্ত্রীরা তার দায়িত্ব পালনের সময় তার নিজ দপ্তর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রচলিত কাগজের খাতায় স্বাক্ষর করতেন।
এই প্রথম সরকারি দাপ্তরিক কাজে শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী তার নিজ দপ্তরে প্রবেশের সময় প্রচলিত কাগজের খাতার পরিবর্তে নিয়মিত ডিজিটাল বা অনলাইন হাজিরা প্রদান করছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। এ কাজটির মাধ্যমে দেশের ইতিহাসে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্মরণীয় হয়ে থাকছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগান সামনে রেখে একাধিক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি গাড়ি, চালক ও জ্বালানি ব্যবহার না করে নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চলাচল, প্রটোকল কমানো এবং শনিবারেও অফিস করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী। তার এসব উদ্যোগ সারাদেশে প্রশংসিত হচ্ছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই রাষ্ট্র পরিচালনায় ব্যতিক্রমী সব উদ্যোগ নিয়ে আলোচনায় এসেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। গতানুগতিক ধারার বাইরে গিয়ে জনকল্যাণমুখী ও সাহসী কিছু পদক্ষেপ নেয়ায় সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে তার সরকার। বিশেষ করে নির্বাচনী ইশতেহারে দেয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন এবং প্রশাসনিক ব্যয় সংকোচনে তার কঠোর অবস্থান সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপ ও কঠোর নির্দেশনা জনজীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে প্রশাসনে।
সচিবালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো নিজেও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী। এটা যুগান্তকারী অনুশাসন। তিনি জনগণের সরকারপ্রধান। জনগণের মতো অফিস করতে ভালোবাসেন। প্রধানমন্ত্রী মাঠ প্রশাসন সংস্কার ও আধুনিকায়নে নির্দেশনা দিয়ে বলেছেন সরকার জনগণের, আর প্রশাসনের কর্মকর্ত-কর্মচারীরা যেন জনগণের সেবার জন্য কাজ করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যুগান্তকারী পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়নের জন্য মাঠ প্রশাসনে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তার প্রশাসনের নীতি হলো, সরকারি সেবা থেকে জনগণকে কোনোভাবেই বঞ্চিত করা যাবে না। এসব কারণে দেশের ইতিহাসে একজন ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্যের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে স্মরণীয় বরণীয় হয়ে থাকবেন।
মাননীয় বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের দপ্তর থেকেই বাস্তবায়ন শুরু করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও আড়ম্বর কমানোর উদ্যোগ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও এরই মধ্যে একাধিক পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় তার ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তার চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী দেশে ও দেশের বাইরে রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া পতাকাবাহী গাড়ি ব্যবহার করছেন না। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এমন একটি বার্তা দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল পদে থাকা ব্যক্তি বিশেষ সুবিধা বা বিশেষ সম্বোধনের পরিবর্তে নিয়ম ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থার অংশ হিসেবেই দায়িত্ব পালন করবেন।
এরইমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সব ধরনের ফাইল, নথি ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে তার পদবির আগে 'মাননীয়' শব্দ বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা পরিপত্রে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে 'মহামান্য' 'মাননীয়' বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই নির্দেশনা কেবল কাগজে সীমাবদ্ধ না রেখে প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়েই তা বাস্তবায়ন শুরু করেছেন। তার কাছে উপস্থাপন করা ফাইল ও অন্যান্য সরকারি নথিতে 'মাননীয় প্রধানমন্ত্রী' না লিখে শুধু 'প্রধানমন্ত্রী' ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
'মাননীয়' শব্দ বাদ দেয়ার সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক ইতিবাচক উদ্যোগের অংশ। এর মাধ্যমে পদমর্যাদার আনুষ্ঠানিক বিশেষণের চেয়ে দায়িত্ব, জনসেবা এবং দেশ ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে সামনে আনার বার্তা দিচ্ছেন তিনি। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়িত্ব নয়, প্রাতিষ্ঠানিক শৃঙ্খলা ও দায়িত্বশীলতাই যে মুখ্য, সেই দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী। দাপ্তরিক শৃঙ্খলার ক্ষেত্রেও নজির তৈরির চেষ্টা করছেন প্রধানমন্ত্রী। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মতো তিনিও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ছাড়ার সময়ও নির্ধারিত পদ্ধতিতে বের হওয়ার হাজিরা দিয়ে অফিস ত্যাগ করছেন।
সরকারপ্রধান হয়েও দাপ্তরিক নিয়ম নিজের ক্ষেত্রে প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ম মেনে চলার বার্তা দিতে চাইছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি প্রশাসনে সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের অংশ। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তিই যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর 'সবার আগে বাংলাদেশ' স্লোগান সামনে রেখে একাধিক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এখন পর্যন্ত নতুন প্রধানমন্ত্রী ব্যতিক্রমী যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছেন সেগুলো হচ্ছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ব্যক্তিগত গাড়ি, নিজস্ব চালক ও নিজের কেনা জ্বালানি ব্যবহার করবেন তার চলাচলের জন্য। জনদুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে আগে ১৩-১৪টি গাড়ি থাকতো সেই বহরে গাড়ি কমিয়ে ৪টিতে নামিয়ে আনা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর চলাচলের সময় সড়কের দুই পাশে পুলিশের সারিবদ্ধ অবস্থান নিতে হতো আগে, সেই প্রথা বাতিল করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান ছাড়া সাধারণ চলাচলে গাড়িতে জাতীয় পতাকা ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। জনভোগান্তি কমাতে মন্ত্রিসভার বৈঠক অধিকাংশ সময় সচিবালয়ে আয়োজন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ ছাড়া প্রশাসনিক কাজে গতি আনতে শনিবারও অফিস করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মাঠ প্রশাসনকে অধিকতর জনবান্ধব, স্বচ্ছ, দক্ষ, সেবামুখী ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে সরকার বিদ্যমান নীতি ও ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়নের কার্যক্রম গ্রহণ করেছে।
মাঠ প্রশাসনকে জনবান্ধব ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে বর্তমানে সেবা সহজীকরণ, ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, কর্মসম্পাদন পরিবীক্ষণ, পদ্ধতি সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। মাঠ প্রশাসনের কার্যক্রমকে অধিকতর স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে প্রতি মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বিভাগের সঙ্গে অনলাইনে সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, ভবিষ্যতে মাঠ প্রশাসনকে আরও জনবান্ধব ও নাগরিককেন্দ্রিক করার লক্ষ্যে সেবা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সহজীকরণ, প্রযুক্তিনির্ভরতা বৃদ্ধি, কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও তথ্যপ্রকাশ, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি এবং কর্মসম্পাদনের ফলাফলভিত্তিক পরিবীক্ষণ জোরদার করার মাধ্যমে বিদ্যমান নীতি ও ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন অব্যাহত থাকবে। অতি সম্প্রতি জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যে পতিত ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান। ২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং শহিদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো বিভেদ না রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক; কিন্তু বৈরিতা বা শত্রুতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। জাতীয় সংসদ থেকে পতিত ফ্যাসিবাদী অপশক্তির বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে দেশের সর্বস্তরের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারেক রহমান।
২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থান এবং শহিদদের রক্তের মর্যাদা রক্ষা করতে গণতন্ত্রপন্থী শক্তিগুলোর মধ্যে কোনো বিভেদ না রাখার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মতপার্থক্য ও প্রতিযোগিতা স্বাভাবিক; কিন্তু বৈরিতা বা শত্রুতা কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিগত ২০০১ সালের জুনে দেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন বানিয়ে জুলাই মাসে রাষ্ট্র ক্ষমতা থেকে বিদায় নিয়েছিল তৎকালীন আওয়ামী শাসকগোষ্ঠী। এরপর দেশের জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছিল এবং ২০০১ থেকে ২০০৬ সালের মেয়াদে বিএনপির সরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বাংলাদেশকে দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে মুক্ত করেছিল। তবে পরবর্তী সময়ে ২০০৯ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আবারও রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে জনগণের মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়।
২০২৪ সালের আগস্টে দেশ ছেড়ে পালানোর আগ পর্যন্ত তাদের দুঃশাসন, লুটপাট ও অর্থ পাচারের কারণে বাংলাদেশকে ঋণখেলাপির অপবাদ সইতে হয়েছে। ফ্যাসিবাদী সরকারের রেখে যাওয়া অর্থনৈতিক জালিয়াতির তথ্য ফাঁস হয়েছে। ২০২৪ সালে পতিত সরকার খেলাপি ঋণের পরিমাণ মাত্র ১১ শতাংশ দেখিয়েছিল। তবে ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পরিচালনা করা ফরেনসিক অডিটে বেরিয়ে আসে প্রকৃত খেলাপি ঋণ ছিল ৩৫ দশমিক ৫ শতাংশ। বর্তমানে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গৃহীত নানা কার্যকর পদক্ষেপের ফলে খেলাপি ঋণের অনুপাত কমে ৩২ দশমিক ৬ শতাংশে নেমে এসেছে। পরিস্থিতি দ্রুত উন্নতির দিকে যাচ্ছে। আমাদের দৃঢ় প্রত্যাশা, অতীতের মতো বর্তমান সরকারও দেশের এই খেলাপি ঋণের কলঙ্ক দূর করতে সক্ষম হবে। দেশ ছেড়ে অনেকে পালিয়ে গেলেও তাদের রেখে যাওয়া ঋণের দায়ভার দেশের সাধারণ জনগণের ওপর এসে পড়েছে। এ অবস্থায় ভঙ্গুর অর্থনীতি সত্ত্বেও বর্তমান বিএনপি সরকার বিগত ছয় মাসে বৈদেশিক ঋণের আসল ও সুদ বাবদ রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লক্ষ মার্কিন ডলার পরিশোধ করেছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য খাত, ব্যাংক-বিমা, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ভঙ্গুর অবস্থায় ফেলে গিয়েছিল পতিত স্বৈরাচারী স্বেচ্ছাচারি সরকার।
ফ্যাসিবাদী আমলে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ব্যাপক অবক্ষয় ঘটেছিল। বর্তমানে দেশে একটি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ও মুক্ত পরিবেশ বিরাজ করছে। যেখানে বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে এই স্বাধীনতার সুযোগে শালীনতার সীমা যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেদিকে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। রাজনৈতিক দলগুলোকে শিষ্টাচার ও বক্তব্যের রুচিশীলতা বজায় রাখতে হবে। সরকার এবং বিরোধীদল উভয়পক্ষকে সৌজন্যতার নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে। যে ভাষা বা শব্দ পরিবারে ব্যবহারে আমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি না, তা কেন আমরা জনপরিসরে ব্যবহার করব? রাজনৈতিক গালিগালাজের অপসংস্কৃতি বন্ধ করে একটি গঠনমূলক ও কল্যাণকর রাষ্ট্র গঠনে বিরোধী দলসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে যেতে হবে। এর মাধ্যমে নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিকাশ ঘটাতে হবে। এখন দেশের স্বাধীনতা, জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নেসরকার ও বিরোধী দল সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ, গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তিগুলোর নিজস্ব বিভেদ ও বিরোধ মূলত বিতাড়িত ফ্যাসিস্ট অপশক্তিকেই পুনর্জীবিত করার পথকে সুগম করতে পারে। তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও শহিদদের রক্তের ঋণ পরিশোধে 'সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ' নীতির ভিত্তিতে রাষ্ট্র মেরামতের কাজ ঐক্যবদ্ধভাবে চালিয়ে যেতে হবে।
লেখক : কথাসাহিত্যিক, কলাম লেখক
