যোগাযোগ অবকাঠামোয় দূরদর্শী পরিকল্পনা
আধুনিক রেল ও গণপরিবহনের পথে দেশ
প্রকাশ : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন একটি দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, নগরজীবনের স্বাচ্ছন্দ্য এবং মানুষের জীবনমান পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান শর্ত। এ বিবেচনায় রাজধানীর মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ এবং দেশের রেলপথে প্রথমবারের মতো বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর উদ্যোগ বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১২টি প্রকল্প অনুমোদন এবং আরও ১৫টি ছোট প্রকল্পের বিষয়ে অবহিত হওয়ার মধ্য দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়নের বহুমুখী পরিকল্পনা সামনে এসেছে। বিশেষ করে এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তর ও দক্ষিণ রুট এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-জয়দেবপুর রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর উদ্যোগ দেশের পরিবহন ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট ও গণপরিবহনের চাপ কমাতে মেট্রোরেল সম্প্রসারণের বিকল্প নেই। বিমানবন্দর থেকে কমলাপুর পর্যন্ত এমআরটি লাইন-১ এবং হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫-এর উত্তর রুটের পাশাপাশি গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত দক্ষিণ রুট বাস্তবায়িত হলে নগরীর বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে যোগাযোগ সহজ হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে কর্মঘণ্টার সাশ্রয়, যাতায়াতের স্বাচ্ছন্দ্য এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বাড়তে পারে।
একইভাবে ৫২ দশমিক ৩২ কিলোমিটার রেলপথে বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালুর উদ্যোগ দেশের রেল যোগাযোগে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। আধুনিক রেলব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব পরিবহনব্যবস্থা সম্প্রসারণেও এ উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ এবং বিভিন্ন অঞ্চলের সড়ক উন্নয়ন দেশের আঞ্চলিক যোগাযোগ ও পণ্য পরিবহনের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ সৃষ্টি করবে।
তবে এসব প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি ও বাস্তবায়নের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা, ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, নির্মাণের মান বজায় রাখা এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া জরুরি।
যোগাযোগ অবকাঠামোয় বিনিয়োগ তখনই প্রকৃত অর্থে সার্থক হবে, যখন এর সুফল রাজধানী থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত সাধারণ মানুষের জীবনে পৌঁছাবে। পরিকল্পিত বাস্তবায়ন, জবাবদিহি ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে অনুমোদিত প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
