বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা হোক সহজলভ্য
প্রকাশ : ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
সন্তান ধারণের অক্ষমতা কোনো দম্পতির ব্যক্তিগত বেদনার বিষয়ই নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি সামাজিক কটূক্তি, মানসিক চাপ ও হয়রানিরও কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অথচ আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতিতে বন্ধ্যাত্বের অনেক সমস্যারই চিকিৎসা সম্ভব।
তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।
ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের ইনফার্টিলিটি সেন্টারে আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের উদ্যোগ এ ক্ষেত্রে আশাব্যঞ্জক। দেশের হাসপাতালগুলোতে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে। বিশেষ করে, উন্নত প্রযুক্তি ও দক্ষ চিকিৎসকের সমন্বয়ে দেশে চিকিৎসার সুযোগ বাড়লে রোগীদের বিদেশমুখী প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।
নারীদের হরমোনজনিত ও বিপাকীয় সমস্যা পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) বন্ধ্যাত্বের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসমস্যা। এ বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণের সুযোগ তৈরি করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় দক্ষ চিকিৎসক তৈরিতে প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু রাজধানীকেন্দ্রিক সেবা নয়, জেলা ও গ্রাম পর্যায়েও সচেতনতামূলক কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণ জরুরি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসায় আধুনিক প্রযুক্তি আনা, চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ এবং দেশের মানুষের আস্থা অর্জনের যে প্রত্যয় উঠে এসেছে, তা বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন। আধুনিক যন্ত্রপাতি স্থাপনের পাশাপাশি সেগুলোর যথাযথ ব্যবহার, রক্ষণাবেক্ষণ, দক্ষ জনবল এবং সেবার ব্যয় সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে।
বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা শুধু সন্তান ধারণের সুযোগ তৈরির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি দম্পতির মানসিক সুস্থতা, সামাজিক মর্যাদা ও পারিবারিক জীবনের সঙ্গেও জড়িত। এ কারণে রোগীদের প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ এবং গোপনীয়তা রক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি। সন্তান না হওয়ায় কাউকে দোষারোপ বা হেয় করার প্রবণতা বন্ধেও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে হবে। দেশে আধুনিক বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারিত হলে বহু দম্পতির জন্য আশার আলো তৈরি হবে। এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে প্রয়োজন সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ, মানসম্মত চিকিৎসা এবং সবার জন্য সাশ্রয়ী সেবা নিশ্চিত করার আন্তরিক প্রচেষ্টা।
