হারানো মোবাইল ফেরত

জনআস্থার দৃষ্টান্ত

প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মোবাইল ফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অনুষঙ্গ। যোগাযোগ, আর্থিক লেনদেন, শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রসহ নানা প্রয়োজনে মানুষ এর ওপর নির্ভরশীল। তাই একটি মোবাইল ফোন হারানো বা চুরি হওয়া শুধু আর্থিক ক্ষতি নয়, অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রয়োজনীয় যোগাযোগ হারানোরও কারণ। এমন পরিস্থিতিতে হারিয়ে যাওয়া ও চুরি হওয়া ৫৬টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করে প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে রাজশাহী জেলা পুলিশ। পুলিশের এ উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। রাজশাহীর আটটি থানায় মোবাইল হারানোর ঘটনায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন ৫৬ ব্যক্তি। তাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ সুপার কার্যালয়ের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) শাখা ফোনগুলো উদ্ধার করে। রোববার পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্ধার করা ফোনগুলো মালিকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। হারানো সম্পদ ফিরে পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত হয়েছেন তারা। এ ঘটনা প্রমাণ করে, নাগরিকের ছোট-বড় অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হলে পুলিশি সেবার প্রতি মানুষের আস্থা বাড়ে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্ব শুধু অপরাধ দমন বা অপরাধী গ্রেপ্তারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানুষের হারানো সম্পদ উদ্ধার এবং বিপদে পাশে দাঁড়ানোও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এ ধরনের সাফল্যকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। দেশের বিভিন্ন স্থানে মোবাইল ফোন হারানো ও চুরির ঘটনা ঘটে। এসব অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত নজরদারি, প্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহার এবং আন্তজেলা সমন্বয় জোরদার করা প্রয়োজন। চুরি হওয়া ফোনের অবৈধ কেনাবেচা বন্ধেও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। পাশাপাশি অভিযোগকারীরা যাতে সহজে ও দ্রুত সেবা পান, সে ব্যবস্থাও নিশ্চিত করা জরুরি। মোবাইল ফোন হারালে অনেকেই প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পর্কে না জানায় অভিযোগ করতে আগ্রহী হন না। এ ক্ষেত্রে থানায় সাধারণ ডায়েরি করার নিয়ম, ফোনের পরিচিতি নম্বর (আইএমইআই) সংরক্ষণের গুরুত্ব এবং ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষার বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানো দরকার। রাজশাহী জেলা পুলিশের এ উদ্যোগ অন্য এলাকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্যও অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত হতে পারে। উদ্ধার করা ৫৬টি ফোনের প্রতিটি একজন মানুষের স্বস্তি ও স্বাভাবিক জীবনে ফেরার গল্প। এ ধরনের জনবান্ধব কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। নাগরিকের আস্থা অর্জনই হোক পুলিশি সেবার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।