আইন সংশোধন করে হলেও দলিল বিনষ্ট বন্ধ করুন
মো. মোশারফ হোসাইন
প্রকাশ : ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মানুষ তার কষ্টার্জিত সঞ্চয় দিয়ে জমি কেনেন এবং সরকারকে যথাযথ ফি ও ভ্যাট-টেক্স তথা কর পরিশোধের পরে রেজিস্ট্রি অফিসে দলিল নিবন্ধন করেন। ওই দলিলটি গ্রহীতার জীবনেতো বটেই তার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও জরুরি। অথচ ব্রিটিশ আমলের দলিল রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ৮৫ ধারায় উইল বা ইচ্ছাপত্র ব্যতীত অন্য যেকোনো নিবন্ধিত বা অনিবন্ধিত দলিল কোনো রেজিস্ট্রি অফিসে নকল বা সূচীকরণের কাজ শেষ হওয়ার পর দুই বছরের বেশি সময় ধরে দাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকলে তা বিনষ্ট বা ধ্বংস করা হয়। গ্রামের অনেকে বুঝেননা কখন কেমনে দলিল উঠাতে হয়। তাই তারা খোঁজ খবর নেননা। ফলে কোনো একসময় তাদের দলিল বিনষ্ট করা হয়। অথচ এমন এক সময় আসে যখন তার দলিলটি জরুরি হয়ে পড়ে। সেই দলিলের রেকর্ড খুঁজতে গিয়ে শুনতে পান তার দলির নেই এমনকি বালাম বই ছেঁড়া। তখন আর কোনো উপায় থাকেনা, শুরু হয় ভোগান্তি। জমি রেজিস্ট্রি করার সময় সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় করে থাকে; অথচ রেজিস্ট্রির পর জমির মতো গুরুত্বপূর্ণ সম্পত্তির মূল দলিল সংরক্ষণ ও তা নাগরিকের কাছে নিরাপদে পৌঁছে দেওয়া হয়না। জমি রেজিস্ট্রেশন করার সময় প্রয়োজনে গ্রহীতার নিকট ডাকযোগে দলিল পৌঁছানো বাবদ আগাম টাকা রেখে হলেও দলিলটি সংশ্লিষ্ট গ্রহীতার নিকট পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা উচিত। তথ্য-প্রযুক্তির অত্যাধুনিক এযুগে এসেও ব্রিটিশ আমলের আইন দ্বারা ভূমি ব্যবস্থাপনা কাম্য নয়। ভূমি ব্যবস্থাপনায় আরো আধুনিক, নিরাপদ ও জনবান্ধব করার সুযোগ রয়েছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে জমির দলিলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি সম্পত্তির নথি সংরক্ষণে আধুনিক প্রযুক্তি ও নিরাপদ বিতরণ ব্যবস্থা চালু করা এখন সময়ের দাবি। আমি একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি, জমির দলিলসহ সরকারি রেকর্ডের স্থায়ী, নিরাপদ এবং জবাবদিহিমূলক সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হোক। এক্ষেত্রে দলিল রেজিস্ট্রেশন আইন ১৯০৮ এর ৮৫ ধারাটি সংশোধন করে জমির দলিল নিরাপদে সংরক্ষণ এবং ডাকযোগে সংশ্লিষ্ট জমি গ্রহীতার ঠিকানায় জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) যাচাই করে মূল দলিল পৌঁছে দেওয়ার আইন করা যেতে পারে। এতেকরে ভূমি ব্যবস্থাপনায় গ্রাহক হয়রানি কমবে, পক্ষান্তরে বাড়বে সরকারের সুনাম।
নকলা, শেরপুর
