ভোগান্তির শিকার গ্রাহক—

মৃত ব্যক্তির সিম তুলতে যত জটিলতা

মুহাম্মদ জাভেদ হাকিম

প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

একজন মৃত ব্যক্তির ব্যবহার করা গ্রামীণফোন অপারেটরের নষ্ট বা হারিয়ে যাওয়া সিম পুনরায় তুলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন স্বজনরা। সিমটি নিজের নামে বা পুনর্নিবন্ধনের জন্য অপারেটর অফিসে গেলে মৃত ব্যক্তির ওয়ারিশ সার্টিফিকেট, মৃত্যু নিবন্ধন, এনআইডির পুরোনো ও স্মার্ট কার্ড— সবকিছুর মূল কপি জমা দেওয়ার শর্তজুড়ে দেওয়া হচ্ছে। এমনকি এত কড়াকড়ির পরও সামান্য টাইপো বা নামের আংশিক পার্থক্যের কারণে আটকে যাচ্ছে সেবা। আমি নিজেই এর ভুক্তভোগী। মৃত ব্যক্তির এনআইডি কার্ডে নামের পূর্বে 'হাজী' এবং ওয়ারিশের সনদে 'আলহাজ' থাকার মতো সামান্য শব্দের ফের বা বানানের অমিলের কারণেও নানা জটিলতা তৈরি করা হচ্ছে। অথচ বর্তমানে জন্ম নিবন্ধন, মৃত্যু সনদ থেকে শুরু করে এনআইডি— সবকিছুই অনলাইনে যাচাইযোগ্য। এ ছাড়া 'হাজী' বা 'আলহাজ' শব্দ দুটি মূল নামের অংশও নয় এবং উভয়ের অর্থও সবার জানা।

আরও প্রশ্ন হচ্ছে, যেখানে সবকিছু অনলাইনে থাকার পরও এ অতিরিক্ত নথিপত্রের বোঝা চাপানো হচ্ছে, সেখানে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধনের নম্বর সংবলিত মূল ওয়ারিশ সনদ জমা নেওয়ার মাধ্যমেই তো পুরো বিষয়টি যাচাই করা সম্ভব। অপরাধীরা যখন ভুয়া সিম ব্যবহার করে প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষকে হুমকি দিচ্ছে কিংবা বিকাশ অ্যাকাউন্ট হ্যাকিং ও নানা প্রতারণায় লিপ্ত রয়েছে, তখন একজন প্রকৃত গ্রাহক ও তার ওয়ারিশদের জন্য এমন জটিল ও দীর্ঘসূত্রিতাপূর্ণ নিয়ম কতটা যৌক্তিক— তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সচেতন মহল। নিরাপত্তার নামে প্রকৃত গ্রাহকদের যেন অযথা হয়রানি না করে প্রক্রিয়াটি আরও সহজ ও জনবান্ধব করা হোক।