সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত হোক, গণমাধ্যমের স্বাধীনতাও সুরক্ষিত থাক
প্রকাশ : ০১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
ডিজিটাল প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে সাইবার অপরাধও ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে। ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, অনলাইন প্রতারণা, হয়রানি, ভুয়া তথ্য ছড়ানো, পরিচয় জালিয়াতি থেকে শুরু করে বিভিন্ন ধরনের সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় কার্যকর আইন ও সক্ষমতা প্রয়োজন। তবে সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নামে যেন মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ণ না হয়— এ বিষয়টিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। প্রস্তাবিত 'সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬' নিয়ে সরকারের সাম্প্রতিক পরামর্শ প্রক্রিয়ায় এ ভারসাম্যের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে, যা আশাব্যঞ্জক।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রস্তাবিত আইনকে কোনোভাবেই দমনমূলক আইনে পরিণত হতে দেওয়া হবে না এবং সাইবার আইনের অপব্যবহার থেকে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সরকার জানিয়েছে, আইনটি চূড়ান্ত করার আগে আইটি বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন অংশীজনের মতামত নেওয়া হবে। খসড়াটি সরকারি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে জনমত সংগ্রহের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
এ ধরনের অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়া আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সাইবার অপরাধের ধরন যেমন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি ডিজিটাল মাধ্যমে সাংবাদিকতা, অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ও জনস্বার্থের তথ্য প্রকাশের পরিধিও বাড়ছে। ফলে আইনের কোনো অস্পষ্ট বা অতিরিক্ত বিস্তৃত ধারা যেন সাংবাদিকতার বৈধ কর্মকাণ্ডকে অপরাধ হিসেবে বিবেচনার সুযোগ না দেয়, সেটি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা গ্রেপ্তারের আগে আদালতের অনুমতির প্রস্তাবও এসেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের আনুষ্ঠানিক সুপারিশ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি মামলা ও আপিল নিষ্পত্তিতে নির্দিষ্ট সময়সীমা নির্ধারণের পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। এসব প্রস্তাব নিয়ে যথাযথ আইনগত ও বাস্তবভিত্তিক পর্যালোচনা প্রয়োজন।
তবে শুধু আশ্বাস যথেষ্ট নয়; আইনের চূড়ান্ত ভাষায় সুরক্ষার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে প্রতিফলিত হতে হবে। বিশেষ করে সাংবাদিকতা, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশ, মতপ্রকাশ ও সমালোচনার ক্ষেত্রে কোনটি অপরাধ এবং কোনটি বৈধ কর্মকাণ্ড— তা দ্ব্যর্থহীনভাবে নির্ধারণ করা জরুরি। একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত সাইবার অপরাধ ও ক্ষতিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতাও থাকতে হবে। সরকার তাড়াহুড়ো না করে আরও আলোচনা, আন্তঃমন্ত্রণালয় পর্যালোচনা এবং সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আইনটি চূড়ান্ত করার কথা জানিয়েছে। এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নই এখন গুরুত্বপূর্ণ। সাইবার নিরাপত্তা ও নাগরিকের অধিকার— দুটিকে পরস্পরের প্রতিপক্ষ না বানিয়ে এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ আইনই প্রয়োজন, যেখানে অপরাধী আইনের আওতায় আসবে, কিন্তু সাংবাদিকতা ও বৈধ মতপ্রকাশ অযথা হয়রানির শিকার হবে না।
