তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চাই কার্যকর উদ্যোগ

প্রকাশ : ০২ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তিস্তা উত্তরাঞ্চলের কোটি মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, অর্থনীতি ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি নদী। অথচ বছরের পর বছর নদীটির ভাঙন, নাব্যতা সংকট, শুষ্ক মৌসুমে পানির অভাব এবং বর্ষায় বন্যার কারণে বিপর্যস্ত হচ্ছে তিস্তা অববাহিকার মানুষ। নদীটির ওপর নির্ভরশীল রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধাসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন। এ অবস্থায় বর্তমান সরকারের উদ্যোগে প্রকল্পটির সম্ভাব্যতা সমীক্ষার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হওয়া আশাব্যঞ্জক।

প্রস্তাবিত মহাপরিকল্পনায় ১১০ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ ও ড্রেজিং, ৬৭টি গ্রোয়েন বা স্পার নির্মাণ ও সংস্কার, ২২৪ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এবং বাঁধের ওপর সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি নদীশাসনের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ বর্গকিলোমিটার জমি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যও নির্ধারণ করা হয়েছে। এসব পরিকল্পনা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে নদীভাঙন ও বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমানোর পাশাপাশি- কৃষি, শিল্প, যোগাযোগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

তবে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন শুধু অবকাঠামো নির্মাণের বিষয় নয়। এটি একটি জটিল নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প। তাই নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি, পানির প্রবাহ, পলি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের বিষয়গুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। বিশেষ করে উজানের পানিপ্রবাহ ও ভাটির পরিবেশগত প্রভাব বিবেচনায় না নিয়ে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হলে কাঙ্ক্ষিত সুফল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।

প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা আন্তর্জাতিক মানের বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সম্পন্ন করা জরুরি। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগণ, কৃষক, মৎস্যজীবী ও নদী বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করতে হবে। প্রকল্পের অর্থায়ন, ব্যয়, সময়সীমা এবং বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায়ও থাকতে হবে স্বচ্ছতা।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা কোনো দল বা সরকারের একক অর্জনের বিষয় নয়; এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এবং জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির গণ্ডি পেরিয়ে এর বাস্তবায়নে ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে হবে। পরিকল্পনা যেন শুধু কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থাকে, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন। তিস্তার সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তনের পাশাপাশি দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে।