১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা প্রদান
শিক্ষকের সম্মান, শিক্ষার ভবিষ্যৎ
প্রকাশ : ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে শিক্ষকের ভূমিকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। একটি ভালো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হয়তো একজন শিক্ষার্থীকে জ্ঞান দিতে পারে; কিন্তু একজন আদর্শ শিক্ষক তার চিন্তা, মূল্যবোধ, মানবিকতা ও স্বপ্নকে গড়ে দিতে পারেন। তাই শিক্ষককে সম্মান করা মানে শুধু একজন ব্যক্তিকে সম্মান করা নয়; বরং একটি জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাতাকে সম্মান করা।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে দেশের প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের ১০২ জন গুণী শিক্ষককে বিশেষ সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সম্মাননাপ্রাপ্তদের হাতে ক্রেস্ট, সম্মাননাপত্রের পাশাপাশি দুই লাখ টাকা করে তুলে দেওয়া হয়েছে। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো— রাষ্ট্র তাদের অবদানকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে। একজন শিক্ষক যখন দেখেন তার দীর্ঘদিনের শ্রম, নিষ্ঠা ও অবদান সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছে মূল্যায়িত হচ্ছে, তখন তা শুধু তাকেই অনুপ্রাণিত করে না; অন্য শিক্ষকদেরও ভালো কাজের জন্য উৎসাহিত করে।
এবারের তালিকায় প্রাথমিক, মাধ্যমিক, কলেজ, মাদ্রাসা, কারিগরি, সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়, চিকিৎসা, কৃষি ও প্রকৌশল শিক্ষাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক রয়েছেন। এমনকি মরণোত্তর সম্মাননাও দেওয়া হয়েছে কয়েকজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদকে। বিশেষ ক্যাটাগরিতে রয়েছেন 'এক টাকার শিক্ষক' মো. লুৎফর রহমানের মতো নিবেদিতপ্রাণ মানুষ, যিনি ১৯৭৪ সাল থেকে বিনামূল্যে শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে আসছেন। এসব উদাহরণ প্রমাণ করে, শিক্ষকতা শুধু চাকরি নয়— এটি মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার এক মহৎ দায়িত্ব।
তবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা যেন শুধু একটি দিনের আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। দেশের অনেক শিক্ষক এখনও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, প্রশিক্ষণ, গবেষণার পরিবেশ ও সামাজিক মর্যাদার সংকটে রয়েছেন। বিশেষ করে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়ন, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং সম্মানজনক কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে শিক্ষক নির্বাচন ও সম্মাননা প্রদানের প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে হবে। কারণ একটি সম্মাননা তখনই মর্যাদাপূর্ণ হয়, যখন তা সত্যিকারের যোগ্য মানুষের হাতে পৌঁছে।
শিক্ষককে সম্মান করার সংস্কৃতি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান থেকে সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দিতে হবে। শিক্ষকের মর্যাদা বাড়লে শিক্ষার মর্যাদা বাড়বে, আর শিক্ষার মর্যাদা বাড়লেই শক্তিশালী হবে দেশের ভবিষ্যৎ। ১০২ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেওয়ার উদ্যোগ তাই প্রশংসার পাশাপাশি একটি বড় বার্তাও দেয়— জাতির ভবিষ্যৎ গড়ার কারিগরদের যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা দেওয়া এখন সময়ের দাবি।
