ডাকব্যবস্থা : আধুনিক যোগাযোগের শেকড় ও গুরুত্ব
শাবলু শাহাবউদ্দিন
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
মানবসভ্যতার দীর্ঘ বিবর্তনে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে চিঠিপত্র ও ডাকব্যবস্থার ভূমিকা অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী; কোনো সভ্য মানব সমাজ তা অস্বীকার করতে পারবে না। মনের ভাব প্রকাশ, খবর আদান-প্রদান কিংবা রাষ্ট্রীয় ও ব্যক্তিগত বার্তা প্রেরণের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হিসেবে ডাক বিভাগ যুগ যুগ ধরে তার সৃষ্টি লগ্ন থেকে কাজ করে আসছে। প্রযুক্তির এ দ্রুতগতির যুগেও ডাকসেবার ঐতিহ্য ও গুরুত্ব এতটুকুও ম্লান হয়নি। গতকাল ছিল বিশ্ব ডাক দিবস। প্রতি বছর ৯ অক্টোবর বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত উৎসাহ ও তাৎপর্যের সঙ্গে পালিত হয় বিশ্ব ডাক দিবস। ১৮৭৪ সালের ৯ অক্টোবর সুইজারল্যান্ডের বার্ন শহরে ২২টি দেশের প্রতিনিধিদের ঐতিহাসিক অংশগ্রহণে গঠিত হয় 'ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়ন'। এ সংস্থার মূল লক্ষ্য ছিল আন্তর্জাতিক ডাকসেবাকে আরও সুসংহত করা এবং বিশ্বজুড়ে একটি সুনির্দিষ্ট ও সুবিন্যস্ত ডাক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা। পরবর্তীতে ১৯৬৯ সালে জাপানের টোকিওতে অনুষ্ঠিত ইউনিভার্সাল পোস্টাল ইউনিয়নের কংগ্রেসে ৯ অক্টোবরকে আনুষ্ঠানিকভাবে 'বিশ্ব ডাক দিবস' হিসেবে ঘোষণা করা হয়। সেই থেকে বিশ্বজুড়ে দিনটি অত্যন্ত মর্যাদার সাথে উদযাপিত হয়ে আসছে। এক সময় ডাকসেবা মানেই ছিল পায়ে হেঁটে, ঘোড়ায় চড়ে বা দীর্ঘপথ পেরিয়ে প্রিয়জনের চিঠি পৌঁছে দেওয়া। খামের ওপর সুদৃশ্য ডাকটিকিট লাগিয়ে প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় উন্মুখ হয়ে দিন গোনার সেই নস্টালজিক দিনগুলো আজ আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে অনেকটাই পেছনে পড়েছে। ইমেইল, সোশ্যাল মিডিয়া এবং ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের যুগে কাগজের চিঠির প্রচলন অনেক কমেছে ঠিকই, কিন্তু সময়ের সাথে সাথে ডাক বিভাগের কাজের পরিধি ও ধরন আমূল বদলে গেছে। বর্তমান যুগে ডাক বিভাগ শুধু চিঠি বা খাম আদান-প্রদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বব্যাপী আধুনিক ই-কমার্স খাতের অভাবনীয় প্রসারের ফলে পার্সেল ও লজিস্টিক সার্ভিস সরবরাহের ক্ষেত্রে ডাক বিভাগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে। এ ছাড়া আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে মানি অর্ডার, সঞ্চয়পত্র বিক্রি, ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা এবং বিভিন্ন সরকারি সেবার তথ্য ও সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে ডাক বিভাগ আজও সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আস্থার সাথে সেবা পৌঁছে দিচ্ছে। প্রতি বছর ৯ অক্টোবর 'বিশ্ব ডাক দিবস' পালনের মাধ্যমে সমাজ ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে ডাক খাতের অসামান্য অবদান সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হয়। এ দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য হলো সেবার মানোন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নবায়ন করার পাশাপাশি বিশ্বব্যাপী ডাকসেবার নেটওয়ার্ক ও কর্মদক্ষতা আরও উন্নত করতে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করা।
লেখক : সাধারণ ডাককর্মী, বৈদেশিক ডাক, ঢাকা জিপিও
