প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ : সুস্থ প্রজন্ম গড়ার অঙ্গীকার
প্রকাশ : ১০ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
একটি সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম। শুধু শরীরচর্চা নয়, খেলাধুলা শিশু-কিশোরদের মানসিক বিকাশ, শৃঙ্খলাবোধ, নেতৃত্বের গুণ, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহনশীলতা বাড়ায়। অথচ নগরায়ণ, অপরিকল্পিত স্থাপনা, দখল ও নানা ধরনের বাণিজ্যিক ব্যবহারের কারণে দেশের অনেক এলাকায় খেলার মাঠ ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে। এমন বাস্তবতায় প্রতিটি ইউনিয়নে অন্তত একটি খেলার মাঠ গড়ে তোলার নির্দেশ নিঃসন্দেহে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। আগামী দুই মাসের মধ্যে সারা দেশে অন্তত এক হাজার খেলার মাঠ স্থাপনের পরিকল্পনা এবং পর্যায়ক্রমে দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক। বিশেষ করে ২৭টি জেলায় ৪০৩টি খাসজমি মাঠের জন্য চিহ্নিত হওয়ার বিষয়টি উদ্যোগটিকে বাস্তবায়নের একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। তবে শুধু মাঠ নির্মাণ করলেই হবে না; মাঠগুলো যেন সত্যিকার অর্থে শিশু-কিশোর ও তরুণদের জন্য উন্মুক্ত থাকে, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অনেক মাঠ নির্মাণ বা সংস্কারের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আবার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কোথাও মাঠ দখল হয়ে যায়, কোথাও মেলা, বাজার কিংবা বিভিন্ন স্থাপনার কারণে খেলাধুলার সুযোগ সীমিত হয়। তাই নতুন মাঠ তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান মাঠগুলো সংরক্ষণ ও দখলমুক্ত করার বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। প্রতিটি উপজেলায় ক্রীড়া কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত এ ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে তাদের কার্যক্রম হতে হবে মাঠকেন্দ্রিক ও ফলাফলভিত্তিক। মাঠে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন খেলাধুলার আয়োজন করতে হবে। ইউনিয়ন ও বিদ্যালয় পর্যায়ে ক্রীড়া ক্লাবগুলো সক্রিয় করা গেলে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণও বাড়বে। আরেকটি বিষয় বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ— মাঠ নির্মাণের ক্ষেত্রে স্থানীয় মানুষের মতামত ও প্রয়োজনকে গুরুত্ব দেওয়া। যে মাঠটি স্থানীয় জনগণের জন্য তৈরি হবে, সেটির পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া সংগঠন এবং তরুণদের সম্পৃক্ত করা যেতে পারে। এতে মাঠের মালিকানাবোধ ও রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বও বাড়বে। দেশের আগামী প্রজন্মকে শুধু পরীক্ষার ফলাফল ও প্রযুক্তিনির্ভর জীবনে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তাদের প্রয়োজন খোলা আকাশ, সবুজ মাঠ, দৌড়ঝাঁপ, খেলাধুলা ও সামাজিক যোগাযোগের সুযোগ। তাই প্রতিটি ইউনিয়নে মাঠ গড়ে তোলার উদ্যোগকে একটি অবকাঠামোগত প্রকল্প হিসেবে নয়, বরং সুস্থ, মানবিক ও ক্রীড়াবান্ধব বাংলাদেশ গড়ার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে দেখতে হবে। প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও ধারাবাহিক নজরদারি নিশ্চিত করা গেলে এই উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য হয়ে উঠতে পারে একটি বড় সামাজিক অর্জন।
