আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস—

ঘর থেকেই শুরু হোক দুর্যোগ প্রতিরোধ

ড. মো. আনোয়ার হোসেন

প্রকাশ : ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভৌগোলিক অবস্থান ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাংলাদেশ আজ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতি বছর এ দেশের বুকে নেমে আসে নানা প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট অনাকাঙ্ক্ষিত ভয়াবহ বিপর্যয়। এসব দুর্যোগ গ্রাস করে আমাদের কষ্টার্জিত সামগ্রিক উন্নয়ন এবং জনজীবনকে করে তোলে বিপর্যস্ত ও স্থবির। ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের ঘরবাড়ি ও অর্থনীতিকে অনেকাংশে ধ্বংস করে দেয়। ১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বরের প্রলয়ঙ্করী গোর্কি ঘূর্ণিঝড়ে প্রায় ৫ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল। এমন দুর্যোগের ফলে সামাজিক কাঠামো ও রাজনীতি ব্যাপকভাবে প্রভাবিত হয় এবং পরিবেশের ক্ষতি সাধিত হয়। সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাস উপকূলের সোনার কৃষি জমি প্লাবিত করে গ্রামীণ অর্থনীতি পঙ্গু করে দেয়।

বন্যা অনেক সময় আমাদের কৃষি, গ্রামীণ অবকাঠামো ও জনজীবনকে লণ্ডভণ্ড করে দেয়। ১৯৮৮ সালের আগস্ট মাসে সংঘটিত ঐতিহাসিক বন্যায় দেশের প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা জলমগ্ন হয়েছিল। এ দুর্যোগ কোটি মানুষের ঘর সংসার ভাসিয়ে নিয়ে যায় এবং কর্মসংস্থান ধ্বংস করে অর্থনৈতিক মন্দা তৈরি করে। বন্যার ফলে পরিবেশ দূষিত হয় এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ব্যাহত হয়।

নদীভাঙন নিঃশব্দে হাজারো পরিবারের ঘরবাড়ি ও জমি গ্রাস করে সমাজকে ছিন্নভিন্ন করে। প্রতি বছর বিশেষ করে বর্ষাকালে পদ্মা ও যমুনা নদীর অববাহিকায় ভাঙন দেখা যায়। এ দুর্যোগের কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষ শহরে এসে বস্তিবাসী হতে বাধ্য হয়। এর ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয় এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যায়।

তীব্র খরা বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের কৃষি উৎপাদন ও পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ১৯৭৯ সালের দেশব্যাপী ভয়াবহ খরায় দেশের প্রায় ৪২ শতাংশ ফসল নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের ঘর সংসারে পানির সংকট দেখা দেয়। এ প্রাকৃতিক দুর্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিকে পঙ্গু করে এবং খাদ্য নিরাপত্তার অভাব সামাজিক অসন্তোষ সৃষ্টি করে।

ভূমিকম্প নগর সভ্যতা, সুউচ্চ অবকাঠামো ও মানবসমাজকে মুহূর্তের মধ্যে ধ্বংস করে দিতে পারে। ১৮৯৭ সালের ১২ জুনের গ্রেট আসাম ভূমিকম্পে সমগ্র বাংলাদেশ কেঁপে উঠেছিল। তীব্র এই কম্পনে বহু ভবন ধসে পড়েছিল। জনবহুল শহরে এমন দুর্যোগ ঘটলে তা অর্থনীতি ও রাজনীতিকে সংকটে ফেলবে। এর ফলে পরিবেশের আমূল পরিবর্তন ঘটবে এবং হাজারো পরিবার বিলীন হবে।

পাহাড়ধস বাংলাদেশের পাহাড়ি অঞ্চলের জীবনযাত্রা, পরিবেশ ও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। ২০১৭ সালের ১৩ জুনে রাঙামাটিতে ভয়াবহ পাহাড়ধসে প্রায় ১৬৮ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন। এই মানবসৃষ্ট ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে অসংখ্য পরিবার তাদের বাসস্থান হারায়। পাহাড়ধসের ফলে বনাঞ্চল ধ্বংস হয়, রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে যায় এবং স্থানীয় রাজনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি হয়।

লবণাক্ততা দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষি, পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করছে। ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানা ঘূর্ণিঝড় আইলার পর জমিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পায়। এর ফলে ফসলের উৎপাদন হ্রাস পেয়েছে এবং সুপেয় পানির অভাবে কোটি মানুষের ঘর সংসার সংকটে পড়েছে।

বজ্রপাত বর্তমানে বাংলাদেশে ভয়াবহ প্রাণঘাতী প্রাকৃতিক দুর্যোগ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ২০১৬ সালের মে মাসে মাত্র দুই দিনে বজ্রপাতে দেশব্যাপী ৮১ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এ আকস্মিক দুর্যোগে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা যাওয়ায় অনেক সংসার দারিদ্রের করাল গ্রাসে নিপতিত হয়ে যায়। এটি গ্রামীণ শ্রমবাজার, কৃষি অর্থনীতি এবং সামাজিক মনস্তত্ত্বে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

তীব্র শৈত্যপ্রবাহ দেশের উত্তর জনপদের দরিদ্র মানুষের স্বাস্থ্য, কৃষি ও অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে তোলে। ২০১১ সালের জানুয়ারি মাসে উত্তরবঙ্গে স্মরণকালের ভয়াবহ শৈত্যপ্রবাহে তাপমাত্রার পারদ ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমেছিল। এর ফলে তীব্র ঠাণ্ডায় বহু শিশু ও বৃদ্ধের প্রাণহানি ঘটে। এই দুর্যোগে দরিদ্র পরিবারের কর্মসংস্থান বন্ধ হয়ে যায় এবং রবিশস্যের ব্যাপক ক্ষতি অর্থনীতিকে আঘাত করে।

অগ্নিকাণ্ডে শহরাঞ্চলের শিল্পকারখানা, ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এবং বাণিজ্যিক এলাকার অর্থনীতি ও সমাজকে ছাই করে দেয়। ২০১৯ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭১ জন মানুষ পুড়ে মারা গিয়েছিলেন। এই মানবসৃষ্ট দুর্যোগে বহু সাজানো পরিবার ধ্বংস হয়ে যায়। অগ্নিকাণ্ডের ফলে শত কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতি হয় এবং পরিবেশ বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে।

দুর্যোগ প্রশমনে নিজের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত ব্যক্তিগত সচেতনতা এবং প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন করা। প্রতিনিয়ত আবহাওয়ার পূর্বাভাসের প্রতি খেয়াল রাখা এবং আপৎকালীন জীবন রক্ষাকারী কৌশলগুলো শিখে রাখা যেতে পারে। নিজের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় সবসময় পূর্বপ্রস্তুতি বজায় রাখলে যেকোনো আকস্মিক সংকটে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনা সম্ভব হয়। এটিই দুর্যোগ মোকাবিলার প্রথম ধাপ হতে পারে।

পরিবারের প্রতিটি সদস্যকে দুর্যোগের ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন করা দরকার এবং পারিবারিক আপৎকালীন পরিকল্পনা তৈরি করা যেতে পারে। প্রতিটি ঘরে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি এবং প্রয়োজনীয় জরুরি কাগজপত্র সবসময় একটি নির্দিষ্ট নিরাপদ স্থানে গুছিয়ে রাখা যেতে পারে। দুর্যোগের সময় পরিবারের নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের সুরক্ষায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা প্রতিটি গৃহপ্রধান গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে পারেন। প্রতিবেশীদের বিপদে পাশে দাঁড়ানো এবং সম্মিলিতভাবে দুর্যোগ মোকাবিলা করার মানসিকতা তৈরি করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো দুর্যোগের পূর্বাভাস পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আশেপাশের সকল প্রতিবেশীকে সতর্ক করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। আপৎকালীন সময়ে অসহায় বা একা থাকা প্রতিবেশীদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে সাহায্য করার মাধ্যমে আমরা একটি নিরাপদ ও সুসংহত সামাজিক পরিবেশ গড়ে তুলতে পারি।

সামাজিকভাবে দুর্যোগ প্রতিরোধে যুবসমাজ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকদের নিয়ে একটি দক্ষ সাড়াদান দল গঠন করা যেতে পারে। সমাজ থেকে কুসংস্কার দূর করে বৈজ্ঞানিক উপায়ে দুর্যোগ মোকাবিলার সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন উঠান বৈঠক ও সচেতনতামূলক সভাও আয়োজন করা যেতে পারে।

স্থানীয় সরকার বা ইউনিয়ন পরিষদের প্রধান কাজ হলো— গ্রামীণ অবকাঠামো, টেকসই বাঁধ এবং পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ ও সংস্কার করা। দুর্যোগের সঠিক পূর্বাভাস তৃণমূলের সাধারণ মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছে দিতে স্থানীয় প্রশাসনকে কার্যকর মাইকিংব্যবস্থা জোরদার করা দরকার। আপৎকালীন তহবিলের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে দুর্গতদের মাঝে দ্রুত ও সুষমভাবে সাহায্য পৌঁছানোও স্থানীয় সরকারের দায়িত্ব।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত দুর্যোগব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং অগ্নি নির্বাপণ সংক্রান্ত বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণ প্রদান করা যেতে পারে। বিদ্যালয়ের পাঠ্যসূচিতে দুর্যোগ সচেতনতার বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মানসিকভাবে সহনশীল ও প্রস্তুত করে তোলা সম্ভব হতে পারে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবনগুলোকে এমনভাবে নির্মাণ করা প্রয়োজন যেন তা যেকোনো সংকটের সময় স্থানীয়দের জন্য নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে।

গণমাধ্যমে দুর্যোগের সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রচার করা এবং কোনো ধরনের গুজব ছড়ানো রোধ করার কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে। টেলিভিশন, রেডিও এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জীবন রক্ষাকারী নানা সচেতনতামূলক বার্তা ও প্রামাণ্যচিত্র নিয়মিত প্রচার করা যেতে পারে। সঠিক সময়ে সঠিক তথ্য প্রচারের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে উদ্বুদ্ধ করা এবং জাতীয়ভাবে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে মিডিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখতে পারে।

বেসরকারি সংস্থাগুলো বা এনজিওদের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অবহেলিত মানুষের মাঝে দুর্যোগ সহনশীল গৃহ নির্মাণ ও জীবিকার বৈচিত্র?্যকরণে কাজ করা দরকার। জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য লবণাক্ততা ও খরা সহিষ্ণু ফসল চাষে কৃষকদের প্রয়োজনীয় কারিগরি ও আর্থিক সহায়তা প্রদান করা প্রয়োজন। দুর্যোগ পরবর্তী স্বাস্থ্যসেবা এবং মানসিক ট্রমা দূরীকরণে এনজিওগুলোর মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম ফলপ্রসূ অবদান রাখতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি ও বেসরকারি দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করে জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা নীতিমালা নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করা সহজ সহজ হবে। আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে নিখুঁত আগাম সতর্কবার্তা প্রদানের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা আবহাওয়া দপ্তরের উদ্যোগ নেওয়া দরকার। সকল বিভাগ একসঙ্গে কাজ করলে দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি কমিয়ে এনে একটি টেকসই ও দুর্যোগ সহনশীল ভবিষ্যৎ বিনিময় করা সম্ভব হবে।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২৬-এর মূল প্রতিপাদ্য হলো— জবংরষরবহপব ঝঃধৎঃং ধঃ ঐড়সব বা পরিবার ও ঘর থেকেই শুরু হোক দুর্যোগ প্রতিরোধ। এ প্রতিপাদ্যের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর ও সময়োপযোগী। একটি দেশের সামগ্রিক দুর্যোগ সহনশীলতা মূলত প্রতিটি ক্ষুদ্রতম একক অর্থাৎ আমাদের ঘরবাড়ি ও গৃহকোণের প্রস্তুতির ওপর নির্ভর করে। ঘর যদি সুরক্ষিত ও সচেতন হয়, তবে সমাজ তথা পুরো রাষ্ট্র যেকোনো বড় ধরনের প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট বিপর্যয় অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে মোকাবিলা করতে পারে।

আমার কাব্যিক অনুভূতি ও নিবেদন- মেঘের পরে আসবে আলো কাটবে আঁধার কালো, প্রকৃতির এই রুদ্ররূপে জাগবে আশা ভালো। ঘর থেকেই হোক শুরু আজ প্রতিরোধেরই গান, সচেতনতায় বাঁচবে তবে লক্ষ কোটি প্রাণ। হাতে হাত রেখে মোরা রুখবো দুর্যোগের ঝড়, সহনশীলতায় গড়ব মোরা মোদের প্রিয় ঘর। সবুজ পৃথিবী হাসবে আবার কাটবে সকল ভয়, মানবতার জয়গানে হবে দুর্যোগেরই ক্ষয়।

দুর্যোগ পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব না হলেও সঠিক পরিকল্পনা ও পূর্বপ্রস্তুতির মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি এবং জানমালের অপূরণীয় অবক্ষয় অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব। প্রথমেই আমাদের প্রিয় ঘর ও পরিবারকে কাজে লাগানো মাধ্যমেই একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধশালী এবং দুর্যোগ সহনশীল বাংলাদেশ বিনির্মাণ করা সম্ভব। আসুন, আমরা আজই আমাদের নিজেদের ঘর থেকে দুর্যোগ প্রতিরোধের এই মহৎ ও জাতীয় শপথ গ্রহণ করি।

লেখক : প্রাবন্ধিক ও কথা সাহিত্যিক