সহশিক্ষা কার্যক্রমে সরকারি উদ্যোগ জরুরি
খন্দকার রামীম হাসান পায়েল
প্রকাশ : ২১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
বর্তমান প্রজন্ম যেসব সংকটের মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠছে, তার অন্যতম হলো একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা ও পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রমে অংশগ্রহণের সুযোগের অভাব। বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে, বিশেষ করে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে, এ প্রতিবন্ধকতা বেশি চোখে পড়ে। শিশুমন সব সময় অজানাকে জানতে চায়। সেই অনুসন্ধিৎসার সঙ্গী হতে পারে বিতর্ক, লেখালেখি, বিজ্ঞানমেলা, আবৃত্তি, কুইজ, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। কিন্তু বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই এসব কার্যক্রমকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয় না।
শিক্ষার্থীদের মধ্যে এসব কার্যক্রমের প্রতি আগ্রহ তৈরির ক্ষেত্রেও ঘাটতি রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শুধু শিক্ষকদের দায়ী করলে ভুল হবে; পরিবারের দৃষ্টিভঙ্গিও গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে অনেক অভিভাবক মনে করেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পড়াশোনায় মনোযোগী থাকতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে ভালো চাকরি করে তাঁরা বয়স্ক মা-বাবার দায়িত্ব নিতে পারে। কিন্তু এ চিন্তার সঙ্গে বর্তমান বাস্তবতার যথেষ্ট ব্যবধান রয়েছে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা ও পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রমে যুক্ত থাকার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের যোগাযোগ, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বিকশিত হয়। এসব কার্যক্রম তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতেও সহায়তা করে। অন্যদিকে, বর্তমান চাকরির বাজারে শুধু প্রথাগত শিক্ষাগত যোগ্যতা নয়, বরং জনসমক্ষে বক্তব্য দেওয়ার দক্ষতা, দ্রুত সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, যোগাযোগ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই, সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা ও পাঠ্যক্রমবহির্ভূত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে গৃহীত নির্দেশনাসহ আগামী পরিকল্পনাগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন, নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।
লেখক : শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
