বাংলাদেশের প্রস্তুতি

জলবায়ু ক্ষয়ক্ষতির হিসাব থেকে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন

রিয়াসাত আমিন

প্রকাশ : ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মাত্র পাঁচ দিন। নেপালের লেগেছিল এইটুকুই। ২৬ আগস্ট লাংটাং উপত্যকার অনেক উঁচুতে পাহাড় থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও বরফ ধসে পড়ে। সেই ধস থেকে সৃষ্ট প্রবল ঢল ভোতে কোশি ও ত্রিশূলী নদী ধরে নিচের জনপদে আছড়ে পড়ে। ৩১ আগস্টের মধ্যেই নেপালের অর্থমন্ত্রী স্বর্ণিম ওয়াগলে ও পরিবেশ মন্ত্রী গীতা চৌধুরী জরুরি সহায়তা চেয়ে ফান্ড ফর রেসপন্ডিং টু লস অ্যান্ড ড্যামেজ (এফআরএলডি) এর কাছে চিঠি পাঠান।

১০ সেপ্টেম্বর তহবিলের দুই সহ-সভাপতি জানান, সহায়তার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে তারা প্রস্তুত। এরপর ২২ অক্টোবর তহবিলের ইতিহাসে প্রথম বিশেষ বোর্ডসভায় নেপালের জন্য দুই কোটি মার্কিন ডলার এবং তদারকি ব্যয়ের জন্য আরও ১৬ লাখ ডলার সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত হয়। কোনো দেশের জন্য এ তহবিলের অর্থ সংরক্ষণের সিদ্ধান্ত এটাই প্রথম। একই সঙ্গে এটি প্রস্তুতির গুরুত্ব সম্পর্কে বড় এক শিক্ষা। বাংলাদেশের উচিত ঘটনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করা। নেপালের বন্যায় সহায়তার আবেদন দেখিয়ে দিল, প্রস্তুতি থাকলে জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির তহবিল কত দ্রুত সাড়া দিতে পারে। বাংলাদেশ দুই দশক ধরে জলবায়ু পরিকল্পনা তৈরি করছে। এবার পরীক্ষা হলো, জরুরি মুহূর্তে ক্ষয়ক্ষতির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ কত দ্রুত তুলে ধরতে পারি আমরা। নেপাল কী নিয়ে হাজির হয়েছিল : নেপাল শুধু সহানুভূতি চেয়ে একটি চিঠি পাঠায়নি। প্রাথমিক মূল্যায়ন, সরকারি তথ্য, স্যাটেলাইট চিত্র এবং ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক হিসাব নিয়েই দেশটি আবেদন করেছিল। সেসব হিসাব ছিল বেশ উল্লেখযোগ্য : ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি নিহত, পাঁচ হাজারের বেশি নিখোঁজ এবং পুনর্গঠনে প্রায় ৪৭৮ কোটি মার্কিন ডলারের প্রয়োজন।

বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণও দ্রুত সামনে আসে। কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশনের বিজ্ঞানীরা জানান, হিমবাহের পশ্চাদপসরণ ও স্থায়ীভাবে জমে থাকা মাটির বরফ গলে যাওয়ার মাধ্যমে উষ্ণায়ন সম্ভবত পাহাড়ের ঢালকে আরও অস্থিতিশীল করেছে। ভূতাত্ত্বিক গঠন এবং ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের প্রভাবে ওই ঢাল আগে থেকেই দুর্বল ছিল। তারা স্পষ্ট করেন, জলবায়ু পরিবর্তনই একমাত্র কারণ নয়। এ সততাই তাদের বক্তব্যকে দুর্বল না করে বরং বিশ্বাসযোগ্য করেছে। সীমাবদ্ধতা স্বীকার করে দেওয়া দাবি সাধারণত বেশি আস্থা অর্জন করে। দ্রুত পদক্ষেপ, নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান, গ্রহণযোগ্য বিজ্ঞান এবং সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট আবেদন। এই চারটি বিষয়ই একটি জাতীয় বিপর্যয়কে অর্থায়নের সিদ্ধান্তের পর্যায়ে নিয়ে গেছে।

দুই দশকের প্রস্তুতি : বাংলাদেশের প্রস্তুতি একেবারে শূন্য থেকে শুরু হচ্ছে না। জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করে আসা দেশগুলোর অন্যতম বাংলাদেশ। ২০০৫ সালে প্রণীত হয় ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্রোগ্রাম অব অ্যাকশন, যেখানে জরুরি অভিযোজন চাহিদাগুলো চিহ্নিত করা হয়। ২০০৯ সালে আসে বাংলাদেশ ক্লাইমেট চেঞ্জ স্ট্র্যাটেজি অ্যান্ড অ্যাকশন প্ল্যান। উন্নয়নশীল বিশ্বের প্রথম দিককার পূর্ণাঙ্গ জলবায়ু কৌশলগুলোর একটি এই পরিকল্পনা। খাদ্য নিরাপত্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা থেকে গবেষণা এবং সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ছয়টি স্তম্ভের ওপর এটি দাঁড়িয়ে আছে। একই সময়ের কাছাকাছি সরকার নিজস্ব বাজেটের অর্থে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করে। ২০২২ সাল নাগাদ এই তহবিলের সহায়তায় প্রায় ৮০০টি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে ২০২৩ থেকে ২০৫০ সাল পর্যন্ত ন্যাশনাল অ্যাডাপ্টেশন প্ল্যান বা জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ঘঅচ) দীর্ঘমেয়াদি কর্মপথ নির্ধারণ করে, যার আনুমানিক ব্যয় ২৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলার। পাশাপাশি প্যারিস চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ ২০১৫ সালে জলবায়ু অঙ্গীকার জমা দেয়, ২০২১ সালে তা হালনাগাদ করে এবং ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে তৃতীয় জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান বা এনডিসি ৩.০ প্রকাশ করে। প্রতিটি উদ্যোগ আলোচনাকে এক ধাপ এগিয়েছে। প্রথম পরিকল্পনাগুলোতে গুরুত্ব পেয়েছিল, এখনই কী করতে হবে। পরবর্তী পরিকল্পনাগুলোতে প্রশ্ন এসেছে, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় সরকারের সব প্রতিষ্ঠানকে কীভাবে সমন্বিত করা যায়। কিন্তু এসব প্রচেষ্টার পেছনে অভিযোজনের মাধ্যমে ক্ষতির সঙ্গে তাল মেলানো সম্ভব এমন আশাবাদী ধারণা ছিল।

বাস্তবে তা সব সময় হয় না। বাঁধ ভেঙে গেলে কিংবা লবণাক্ততায় জমি স্থায়ীভাবে অনাবাদি হয়ে পড়লে এমন ক্ষতি ঘটে, যা শুধু অভিযোজন দিয়ে ফিরিয়ে আনা যায় না। সেখান থেকেই জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্নটি সামনে আসে। বাঁধ ভেঙে গেলে কিংবা লবণাক্ততায় জমি স্থায়ীভাবে অনাবাদি হয়ে পড়লে এমন ক্ষতি ঘটে, যা শুধু অভিযোজন দিয়ে ফিরিয়ে আনা যায় না। সেখান থেকেই জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্নটি সামনে আসে। এনডিসি ৩.০-তে বিষয়টি স্পষ্টভাবে স্বীকার করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশের জলবায়ুজনিত বার্ষিক ক্ষতি প্রায় ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার, অর্থাৎ মোট দেশজ উৎপাদনের আনুমানিক এক-শতাংশ হিসাবে উল্লেখ করা হয়েছে। দেশের জলবায়ু অঙ্গীকারের মূল আলোচনায় প্রথমবারের মতো ক্ষয়ক্ষতিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে জাতীয় ক্ষয়ক্ষতি পরিকল্পনা, জাতীয় ক্ষয়ক্ষতি তহবিল এবং উপকূলীয় জেলা ও হাওর অঞ্চলের জন্য পূর্বনির্ধারিত সূচকভিত্তিক বা প্যারামেট্রিক বিমা চালুর অঙ্গীকার রয়েছে। তবে এগুলোর বাস্তবায়ন এফআরএলডিসহ আন্তর্জাতিক উৎস থেকে অনুদান ভিত্তিক সহায়তা পাওয়ার ওপর নির্ভরশীল।

এ অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের ভিত্তি তৈরি করছে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্লাইমেট-ইনডিউসড লস অ্যান্ড ড্যামেজ অ্যাসেসমেন্ট ফ্রেমওয়ার্ক, অর্থাৎ জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জাতীয় কাঠামো। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পরিবেশ অধিদপ্তরের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের অর্থায়নে এটি প্রণয়ন করা হচ্ছে। কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)। কাঠামোটি এখনও উন্নয়নাধীন; সাতক্ষীরা ও বরিশালে পরীক্ষামূলকভাবে প্রয়োগ করা হবে। এর লক্ষ্য শুনতে সহজ, বাস্তবায়নে কঠিন: প্রতিটি দুর্যোগে দেশের প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি পরিমাপের একটি অভিন্ন ও নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি গড়ে তোলা। বাংলাদেশের যে চারটি বিষয়ে প্রস্তুতি আবশ্যক : আগামী বছর সিডরের মতো শক্তিশালী কোনো ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানলে বাংলাদেশ কী নেপালের মতো পাঁচ দিনের মধ্যে আবেদন করতে পারবে? বাস্তবতা হলো, এখনও পুরোপুরি পারবে না। সেই সক্ষমতা অর্জনে অন্তত চারটি বিষয়ে প্রস্তুতি আবশ্যক। প্রথমত, ত্রাণের প্রয়োজনের বাইরেও ক্ষয়ক্ষতির একটি পূর্ণাঙ্গ প্রাথমিক হিসাব ৩০ দিনের মধ্যে প্রস্তুত করতে হবে। বর্তমান ডি-ফরমে ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি ও ফসলের সংখ্যা উঠে আসে। জরুরি ত্রাণ কার্যক্রমে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়নের দাবি প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট নয়। প্রস্তাবিত কাঠামোয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের বিদ্যমান তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দ্রুত মূল্যায়নের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। সমান্তরাল নতুন ব্যবস্থা না গড়ে বিদ্যমান ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার পরামর্শই খসড়া পর্যালোচনায় দিয়েছিল জাতিসংঘের দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসবিষয়ক দপ্তর (ইউএনডিআরআর)। দ্বিতীয়ত, দুর্যোগে জলবায়ু পরিবর্তনের ভূমিকা যাচাইয়ের পদ্ধতি আগেই প্রস্তুত রাখতে হবে। এ কাঠামোয় দুই ধাপের পরীক্ষা রয়েছে। প্রথমে দেখতে হবে, ঘটনাটি নদীর স্বীকৃত বিপৎসীমার মতো কোনো বাস্তব ঝুঁকির সীমা অতিক্রম করেছে কি না। পরে পরিসংখ্যানগত বিশ্লেষণে নির্ণয় করতে হবে, উষ্ণায়নের কারণে এমন ঘটনার সম্ভাবনা কতটা বেড়েছে। সেই হিসাবের অনিশ্চয়তাও সঠিকভাবে জানাতে হবে। দেশের প্রধান নদী ও উপকূলের জন্য এ ভিত্তিমূলক কাজ পরবর্তী দুর্যোগের আগেই শেষ করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, অর্থমূল্যে প্রকাশ করা যায় না এমন ক্ষতিও যথাযথভাবে নথিভুক্ত করতে হবে। প্রাণহানি, শিক্ষাজীবনে ছেদ, বাস্তুচ্যুতি, কবরস্থান কিংবা উপাসনালয়ের ক্ষতি: এসবের সবকিছুর বাজারদর নেই, কিন্তু মানুষের জীবনে গভীর প্রভাব রয়েছে। এফআরএলডি অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতিকেও বিবেচনায় নেয়। জাতীয় কাঠামোটি তাই এসব ক্ষতি বাদ না দিয়ে নথিবদ্ধ করার জন্য তৈরি হচ্ছে। চতুর্থত, নেতৃত্বের দায়িত্ব স্পষ্ট করতে হবে। জলবায়ুজনিত ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পরিবেশ অধিদফতর, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড, পরিসংখ্যান ব্যুরোসহ বহু প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে আছে। জাতীয় কাঠামোটিকে দুর্যোগ বিষয়ক স্থায়ী আদেশে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। একই সঙ্গে নির্দিষ্ট নেতৃত্বদানকারী সংস্থা, আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মদল এবং নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। চাহিদা বিপুল, তহবিল এখনও সীমিত : প্রস্তুতির গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ আন্তর্জাতিক এই তহবিলের পরিসর এখনও তুলনামূলক ছোট। প্রাথমিক কার্যক্রমের নিয়ম, যা বার্বাডোস ইমপ্লিমেন্টেশন মডালিটিজ নামে পরিচিত, তার আওতায় প্রতিটি আবেদনের পরিমাণ ছিল ৫০ লাখ থেকে দুই কোটি মার্কিন ডলার। ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত প্রথম আহ্বানে ১১৯টি দেশ থেকে মোট ১৭৬টি যোগ্য আবেদন জমা পড়ে, যার সম্মিলিত চাহিদা প্রায় ২৮০ কোটি মার্কিন ডলার।

অন্যদিকে উন্নত দেশগুলোর অঙ্গীকার ছিল প্রায় ৮২ কোটি ২০ লাখ ডলার; এপ্রিল নাগাদ বাস্তবে জমা পড়েছিল প্রায় ৪৪ কোটি ৯০ লাখ ডলার। নেপালের জন্য সংরক্ষিত দুই কোটি ডলার দেশটির পুনর্গঠন ব্যয়ের অর্ধশতাংশেরও কম। সিডরের মতো দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবিলায় একটি নয়, একাধিক সুপরিকল্পিত আবেদন প্রয়োজন হতে পারে। আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ কিন্তু তুলনামূলক নীরব সংকট রয়েছে। ১৭৬টি আবেদনের মধ্যে ১৩৭টি, অর্থাৎ প্রায় ৭৮ শতাংশ, ধীরে ধীরে প্রকট (স্লো অনসেট ইভেন্ট) হওয়া জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলার বিষয় অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাংলাদেশ এই ক্ষতির সঙ্গে খুব পরিচিত। বর্তমানে প্রায় ২৮ লাখ ৬০ হাজার হেক্টর জমি লবণাক্ততার প্রভাবে রয়েছে; ১৯৭৩ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে এর পরিমাণ প্রায় ২৭ শতাংশ বেড়েছে। এসব ক্ষতি সাধারণত কোনো জরুরি বোর্ডসভার কারণ হয় না। অথচ বন্যার মতোই একসময় পরিবারকে ভিটেমাটি ছাড়তে বাধ্য করে। আনাতোলিয়ায় বাংলাদেশের করণীয় : ৯ নভেম্বর তুরস্কের আনাতোলিয়ায় শুরু হচ্ছে কপ-৩১। বাংলাদেশ প্যাভিলিয়নে 'ফ্রম অ্যাসেসমেন্ট টু অ্যাকশন' শিরোনামে ৯০ মিনিটের একটি অধিবেশন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো 'ফ্রম ন্যাশনাল ফ্রেমওয়ার্কস টু গ্লোবাল অ্যাকশন: সাউথ-সাউথ কোলাবরেশন অন লস অ্যান্ড ড্যামেজ' শীর্ষক একটি আনুষ্ঠানিক ইউএনএফসিসিসি সাইড ইভেন্ট আয়োজনের আবেদন অনুমোদিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট প্রস্তুতিতে উল্লেখ রয়েছে। জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা অন্যান্য দেশ এবং আন্তর্জাতিক ক্ষয়ক্ষতি ব্যবস্থার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের উদ্যোগও রয়েছে। এ সময়টি গুরুত্বপূর্ণ। জুনে বন জলবায়ু আলোচনার আনুষ্ঠানিক আলোচ্যসূচিতে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি স্থান পায়নি। ফলে জলবায়ু ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোরই একে আবার গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে নতুন আইনগত ভিত্তিও রয়েছে। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত তার পরামর্শমূলক মতামতে প্যারিস চুক্তির আওতায় ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রগুলোর দায়িত্বের বিষয় তুলে ধরে এবং দায়ী রাষ্ট্রের সহায়তা দেওয়ার প্রশ্ন ব্যাখ্যা করে। বাংলাদেশের এনডিসি ৩.০-তেও ওই মতামতের উল্লেখ রয়েছে। আমাদের দাবিগুলো স্পষ্ট হওয়া উচিত। প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে ছাড় করতে হবে। ২০২৭ সালে প্রথম পুনঃঅর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে মিলিয়নে নয়, বিলিয়ন ডলারে। সহায়তা দিতে হবে ঋণের পরিবর্তে অনুদান হিসেবে। আবেদনের মূল্যায়ন ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে স্বচ্ছ মানদণ্ড প্রকাশ করতে হবে। আমাদের দাবিগুলো স্পষ্ট হওয়া উচিত। প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে ছাড় করতে হবে। ২০২৭ সালে প্রথম পুনঃঅর্থায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে মিলিয়নে নয়, বিলিয়ন ডলারে। সহায়তা দিতে হবে ঋণের পরিবর্তে অনুদান হিসেবে। আবেদনের মূল্যায়ন ও অগ্রাধিকার নির্ধারণে স্বচ্ছ মানদণ্ড প্রকাশ করতে হবে। স্থায়ী দ্রুত সহায়তাব্যবস্থা চালু করতে হবে, যাতে নেপালের পরবর্তী কোনো আবেদন শুনতে বিশেষ বোর্ডসভার অপেক্ষা না করতে হয়। জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর সরাসরি অর্থপ্রাপ্তির পথ খুলতে হবে এবং লবণাক্ততার মতো ধীরগতির ক্ষয়ক্ষতির জন্য কার্যকর অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। নেপাল দেখিয়েছে, এ তহবিলের দরজা খোলা সম্ভব। বাংলাদেশ গত দুই দশকে জলবায়ু মোকাবিলার নানা পরিকল্পনা তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন প্রতিটি ঝড়, বন্যা বা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তন আমাদের কাছ থেকে কী কেড়ে নিচ্ছে, তার বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ দ্রুত তুলে ধরার সক্ষমতা। পরবর্তী ঘূর্ণিঝড়; কিন্তু আমাদের প্রস্তুতির অপেক্ষায় থাকবে না।

 

লেখক : সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড

জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস)

ঢাকার একজন হাইড্রোলজিস্ট ও জলবায়ু পরিবর্তন বিশেষজ্ঞ