প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০২ নভেম্বর, ২০২৬
আগের মতন আর রাজনীতি নেই। রাজনৈতিক বৈরীতা সবখানেই। অহরহ রাজনীতির করালগ্রাস। দুর্বিষহ প্রতিদিনের প্রতিচ্ছবি। অনাচার অবিচার আস্থাহীনতা। সাধারণ জনগণের সুখ কোথায়? ক্ষমতার পালাবদল। সহিংস রাজনীতি। পারস্পরিক মতবিরোধ। মানুষের বিরুদ্ধে মানুষ, নেতার বিরুদ্ধে নেতা। কিন্তু চায় শুধু ক্ষমতার চেয়ার। ঘরে বাইরে আড়ালে আবডালে ওঁৎ পেতে আছে দেশ ধ্বংসকারী তৃতীয় পক্ষ। প্রিয় বিদগ্ধ পাঠক, আজকের কলামের শিরোনাম দিয়েছি 'সহনশীল রাজনীতি ও বিবেকের প্রশ্ন 'অবশ্য আজকের লেখাটি পাঠকের অনুরোধে লিখছি।
এখন মূল আলোচনায় আসা যাক, স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এবং ক্ষমতার পালাবদল করে বিভিন্ন চড়াই উৎরাই পেরিয়ে আজকের সবুজ সোনালী বাংলাদেশ। জাতীয় রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন আলোচিত দেশ হিসেবে বেশ পরিচিতি পেয়েছে। মাতৃভূমি মা মাটির প্রতি গভীর ভালোবাসা থেকেই দেশপ্রেমের আলোর দিগন্ত উন্মোচিত হয় জীবনের প্রতি পদে পদে। দেশের জন্য অগাধ ভালোবাসা থেকেই একজন ব্যক্তি সুনাগরিক হয়ে ওঠে।
মাতৃভূমির প্রতি টান দেশ রক্ষা এবং দেশের উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত থাকে একজন দেশপ্রেমিক সুনাগরিক। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের দিকে তাকালে মনে হয় রাজনীতি কলুষিত। দেশের রাজনৈতিক নেতাদের বেঁফাস মন্তব্য। রাজনৈতিক অস্থিরতা। খুন, সিন্ডিকেট যেন নিত্যনৈমিত্ত ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। সরকারে বিএনপি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের আদর্শিক রাজনীতি এবং সহনশীল রাজনীতি যেন বিবেকের প্রশ্ন। পারস্পরিক দায়বদ্ধতা রাজনৈতিক নেতাদের জবাবদিহিমূলক রাজনীতি জনগণের মধ্যে অনেকটাই পরিষ্কার।
বর্তমান সরকারের রাজনীতি পরিবর্তনের রাজনীতি। সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম নেতাদের লাগাম টেনে ধরা, জবাবদিহির রাজনীতিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অথচ সরকারকে বিব্রত করতে কিছু রাজনৈতিক মহল উঠে পড়ে লেগেছে। এতে সরকার অবশ্য সামলে নিচ্ছে। কিন্তু সহনশীল রাজনীতি ও বিবেকের প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। রাজনীতি কার জন্য, এদেশ কার? রাজনৈতিক দলগুলো কাদের নিয়ে গঠিত। নিশ্চয়ই জনগণ নিয়ে। সহনশীল রাজনীতি ও বিবেকের রাজনীতিতে সবাইকে সবার প্রতি আন্তরিক ও সহনশীল হওয়া উচিত।
রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে সুন্দর সুফলা সবুজ সোনালী বাংলাদেশ গড়তে নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। নিজ নিজ দলের বিরোধ নিরসন, জাতীয় রাজনৈতিক সংকট নিরসন, সহনশীল রাজনীতি, জাতীয় ঐক্য গড়ে, দেশীয় এবং আন্তর্জাতিক সমস্যা নিরসন করে দেশীয় স্বার্থে উন্নয়ন করতে হবে। কৃষকদের প্রয়োজনীয় সংকট নিরসন, স্বজনপ্রীতি, দুর্নীতি, রাজনৈতিক অস্থিরতা বিভেদের রাজনীতি পরিহার করা অত্যান্ত জরুরি বলে মনে করছি। প্রতিহিংসার রাজনীতি পরিহার করে দেশের উন্নয়ন করতে সরকারের ভূমিকা অতি প্রশংসনীয়। তাই সহনশীল রাজনীতি ও বিবেকের প্রশ্ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর জনবান্ধব রাজনীতি সহাবস্থানের মাধ্যমে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রেখে দেশীয় স্বার্থে রাজনৈতিক ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। বহির্বিশ্বের সঙ্গে তালমিলিয়ে আধুনিক রাষ্ট্রচিন্তা এবং আধুনিক নিয়মে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক দায়বদ্ধতা, শৃঙ্খলা রক্ষা করে দেশ এক দেশীয় নীতি এক এবং পররাষ্ট্রনীতির ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। ক্ষমতায় দেশের যে দলই আসুক দেশীয় শৃঙ্খলা রক্ষা করে দেশের উন্নয়ন করতে পররাষ্ট্রনীতির প্রতি গুরুত্বের বিকল্প নেই। তাই সবার প্রতি আন্তরিক ও সহনশীল রাজনীতি ও বিবেকের প্রশ্নে রাজনীতি হোক মানবিক বাংলাদেশের হাতিয়ার।
লেখক : কবি, সাহিত্যিক ও কলামিস্ট