শৃঙ্খলায় ফিরে আসুক ঢাকার গণপরিবহন
প্রকাশ : ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ
রাজধানী ঢাকার জনজীবনে যানজট ও গণপরিবহন সংকট দীর্ঘদিনের সমস্যা। প্রতিদিন কর্মস্থল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও নানা প্রয়োজনে লাখো মানুষকে বাসে যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু অপরিকল্পিত রুট, একই সড়কে অসংখ্য পরিবহন কোম্পানির প্রতিযোগিতা, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা এবং নির্ধারিত স্টপেজ না মানার কারণে বাসযাত্রা অনেক ক্ষেত্রেই দুর্ভোগের নাম। এ বাস্তবতায় ঢাকার ৯৮টি সচল বাস রুট পুনর্বিন্যাস করে ৩২টি সমন্বিত রুটে নিয়ে আসার উদ্যোগ নিঃসন্দেহে একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। বাস রুট রেশনালাইজেশন শুধু রুটের সংখ্যা কমানোর বিষয় নয়। এর মূল লক্ষ্য হলো যাত্রীদের চাহিদা, সড়কের ধারণক্ষমতা ও যানবাহন চলাচলের বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে একটি সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা। বাসের চলাচলের পথ, সংখ্যা, স্টপেজ, সময়সূচি ও পরিচালনাপদ্ধতিতে শৃঙ্খলা আনা গেলে রাজধানীর যানজট কমার পাশাপাশি যাত্রীসেবার মানও উন্নত হবে।
বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এ পরিকল্পনা তথ্য-উপাত্ত ও দীর্ঘ পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। ২০২৪ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সচল ৯৮টি বাস রুটে যাত্রীদের ওঠানামা, যাত্রার শুরু ও গন্তব্যসহ বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে যানবাহন গণনা এবং প্রায় ৪০০ কিলোমিটার বাস নেটওয়ার্কের অবকাঠামোগত অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, সিটি করপোরেশন, বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের সঙ্গে আলোচনা করেও ৩২টি রুটের বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানো হয়েছে। ফলে পরিকল্পনাটি বাস্তবভিত্তিক হওয়ার প্রত্যাশা করা যায়। প্রাথমিক পর্যায়ে ছয়টি রুটের যাত্রা শুরু হওয়া এ কার্যক্রমের একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। নতুন ব্যবস্থায় একটি নির্দিষ্ট রুটে সমন্বিত ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাস পরিচালনার চিন্তা করা হচ্ছে। এতে যাত্রী তোলার অসুস্থ প্রতিযোগিতা কমতে পারে এবং সড়কে বাসের অযথা দৌড়ঝাঁপ ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায় বাসের সংকট রয়েছে, সেখানে যাত্রী চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বাস নিশ্চিত করার সুযোগ তৈরি হবে। তবে পরিকল্পনা প্রণয়ন আর তার সফল বাস্তবায়ন এক বিষয় নয়। অতীতে ঢাকার বাস রুট পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। তাই এবার শুরুতেই কার্যকর তদারকি নিশ্চিত করা জরুরি। নির্ধারিত স্টপেজে বাস থামানো, যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করা, চালক ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া এবং যাত্রীদের জন্য সহজবোধ্য তথ্যব্যবস্থা চালু করতে হবে।
বাসের সংখ্যা কমিয়ে যাত্রীদের অপেক্ষা বাড়িয়ে দেওয়া যাবে না; বরং চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত ও মানসম্মত বাস নিশ্চিত করতে হবে। রাজধানীর গণপরিবহন ব্যবস্থার উন্নতি কেবল বাস মালিক বা সরকারি সংস্থার বিষয় নয়; এটি নগরবাসীর জীবনমানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। সুষ্ঠু পরিকল্পনা, কঠোর তদারকি এবং সব পক্ষের সহযোগিতায় বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যক্রম সফল করা সম্ভব। ছয়টি রুট দিয়ে শুরু হওয়া এ উদ্যোগ পর্যায়ক্রমে পুরো শহরে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধ, নিরাপদ ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তুলবে— এটাই নগরবাসীর প্রত্যাশা।
