প্রিন্ট সংস্করণ
০০:০০, ০৯ মার্চ, ২০২১
বাংলাদেশ এখনও একটি কৃষিপ্রধান দেশ। সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য, পুষ্টি, ব্যবসা-বাণিজ্য কৃষির ওপর নির্ভরশীল। জনসংখ্যার প্রায় ৪১ ভাগ এখনও কৃষির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত। জিডিপিতে কৃষির অবদান ১৩ দশমিক ৬। পাট, চিনি, চা, বস্ত্র, চামড়াসহ বিভিন্ন শিল্পের কাঁচামালের জোগানদাতাও কৃষি। কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে এ খাতটির অবদানের কথা বলে শেষ করা যাবে না। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনেও কৃষি খাতের গুরুত্ব অপরিসীম।
১৯৭১ সালে যে দেশকে বলা হয়েছিল তলাবিহীন ঝুড়ি, সেই তলাবিহীন ঝুড়ি আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এক সম্ভাবনাময় দেশ। দেশটি ফসলের জাত উদ্ভাবনে প্রথম, পাট ও কাঁঠাল উৎপাদনে দ্বিতীয়, সবজি ও চাল উৎপাদনে তৃতীয়, মাছ উৎপাদনে চতুর্থ, আম উৎপাদনে সপ্তম, পেয়ারা ও আলু উৎপাদনে অষ্টম এবং খাদ্য উৎপাদনে দশম স্থান অধিকার করে কৃষি উন্নয়নের এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে সারা বিশ্বে। এসব অর্জনের প্রশ্নই উঠত না, যদি বাংলাদেশ স্বাধীন না হতো। বঙ্গবন্ধু বলতেন, ‘আমাদের সমাজের চাষিরা হলো সবচেয়ে দুঃখী ও নির্যাতিত শ্রেণি এবং তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য আমাদের উদ্যোগের বিরাট অংশ, অবশ্যই তাদের পেছনে নিয়োজিত করতে হবে।’
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সময় থেকেই কৃষি উন্নয়নে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়। তিনি ২৫ বিঘা পর্যন্ত কৃষিজমির খাজনা মওকুফ করে দেন। পাকিস্তান আমলে দাখিলকৃত সার্টিফিকেট মামলার অভিশাপ থেকে ১০ লাখ অসহায় কৃষককে মুক্তি দেন। তার সময়ে ৩ হাজারটি অগভীর নলকূপ স্থাপন করা হয়। মোট বাজেট ৫ হাজার কোটি টাকার মধ্যে কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতে বরাদ্দ করা হয় ১০০ কোটি টাকা। প্রথম পঞ্চম বার্ষিক পরিকল্পনার শতকরা ৩১ ভাগ ছিল কৃষি খাতে। ওই সময়ে কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও কীটনাশক বিতরণ করা হতো। তার সময়ে কৃষি উন্নয়নে বিএডিসি ও উদ্যান উন্নয়ন বোর্ড গঠন করা হয়। কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার জন্য পাট, তুলা, আখসহ বেশ কয়েটি প্রধান কৃষি পণ্যের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হয়।
কৃষিতে জাতির পিতার গৃহীত পদক্ষেপের পদাঙ্ক অনুসরণ করে তার সুযোগ্য কন্যা শেখ হাসিনার শাসনামলে সারের মূল্য চারবার কমানো হয়। সেচে ভর্ভুকি দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর কৃষি পুনর্বাসনে প্রচুর নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান করা হয়। নতুন নতুন ফসলের জাত উদ্ভাবন করা হয়। লাগসই কৃষিপ্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়। এসব কর্মকা-ের ফলে দেশের চালের উৎপাদন ১১ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ মিলিয়ন টনে। আলুর উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ১০ লাখ টনে। সবজির উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় পোনে ২ কোটি টনে। ফলের উৎপাদনও কম বাড়েনি। মাঠ ফসল ছাড়া মাছ, মাংস, দুধ ও ডিম উৎপাদনেও ঘটেছে একক অভাবনীয় বিপ্লব। এটা সম্ভব হয়েছে শেখ হাসিনা সরকারের কৃষিবান্ধব নীতি ও সহায়তার কারণে।
দেশে কৃষিপণ্যের উৎপাদন বাড়লেও কৃষকের ভাগ্যের কোনো উন্নতি হয়নি। কৃষক এখনও তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য পান না। উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা আসল টাকাও ওঠাতে পারেন না অনেক কৃষক। ফলে তাকে ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হয়। কৃষকের শতকরা ৮৫ ভাগই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক। তারাই কৃষি উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। তাদের হেক্টরপ্রতি ফলন বেশি। অথচ তারাই সরকারি কৃষি ঋণ থেকে থাকেন সম্পূর্ণ বঞ্চিত। তাদের ফসল ফলানোর জন্য সুদখোর মহাজন, এনজিওগুলোর কাছে থেকে শতকরা ৩০ থেকে ৬১ শতাংশ সুদে কৃষি ঋণ গ্রহণ করতে হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বিশেষ করে বন্যা, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের কারণে মাঠের ফসল বিনষ্ট হলে এইসব প্রান্তিক কৃষকের কষ্টের সীমা থাকে না। করোনা অতিমারির সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয় কৃষি খাত ও কৃষক। জরবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবের ফলে প্রান্তিক কৃষকই সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন। যদিও এ ব্যাপারে তাদের কোনো দায় নেই। বাংলাদেশের মতো কৃষিপণ্যের বাজার ব্যবস্থাপনায় এত মধ্যস্বত্বভোগী আর কোনো দেশে নেই। নেই অসাধু ব্যবসায়ীদের শক্তিশালী সিন্ডিকেট। ফড়িয়া, দালাল, আড়তদার, পাইকারি ব্যবসায়ী ও খুচরা ব্যবসায়ী এসব মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্যে কৃষক তার উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হন। কৃষক শুধু মাথার ঘাম পায়ে ফেলে কৃষিপণ্যই উৎপাদন করেন। কিন্তু ওই কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য তার নিজস্ব কোনো ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে কৃষক মহাজনের কাছে থেকে ধারদেনা করে এবং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে বাকিতে উৎপাদন উপকরণ ক্রয় করে পণ্য উৎপাদন করেন, যা ফসল কাটার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে পানির দামে মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হতে হয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, গত বছর ব্যবসায়ীরা ৮ টাকা কেজি দরে কৃষকের কাছ থেকে আলু কিনে তা বিক্রি করে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে। এবছর করোনার কারণে ভারত থেকে সময় ও পরিমাণ মতো পাট বীজ আমদানি হতে পারেনি। কয়েকবারের উপর্যুপরি বন্যায় পাটের ফলন মারাত্মকভাবে কমে যায়। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মজুদদার ও ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা মণ দরে ক্রয় করা পাট এখন বিক্রি করছে ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা মণ দরে। শোষণ আর কাকে বলে? গত দুটি কোরবানি ঈদে পশু চামড়া নিয়ে চামড়া ব্যবসায়ী ও শিল্প মালিকরা সিন্ডিকেট গঠনের মাধ্যমে এতিম শিশুদের ভাগ্য নিয়ে যে ছিনিমিনি খেলেছে, তা চামড়া শিল্পের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত অধ্যায় হয়ে থাকবে। শুধু চামড়া কেন, চাল, ডাল, ভোজ্যতেল নিয়েও কী কম সিন্ডিকেটিং হচ্ছে? কম কষ্ট দেওয়া হচ্ছে স্বল্প আয়ের গরিব, দুঃখী মেহনতি মানুষকে? সরকারি গুদামে চালের স্বল্প মজুদের সুযোগ নিয়ে মিলমালিক ও চাল ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। গত ৪৩ বছরেও চাল নিয়ে এ রকম চালবাজি করতে পারেনি এসব ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। কৃষি শ্রমিকের অপ্রতুলতা ও মজুরি বৃদ্ধিজনিত সমস্যা সমাধানে সরকার ৫০ থেকে ৭০ ভাগ ভর্তুকিতে ৩ হাজার কোটি টাকার কৃষি যান্ত্রিকীরণের প্রকল্প গ্রহণ করলেও তা ক্ষুদ্র ও প্রান্ত্রিক কৃষকের খ-িত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র জমিতে তেমন কাজে লাগছে না। এটিও বাংলাদেশের কৃষির জন্য একটি বড় সমস্যা। এছাড়া কৃষিতে বিনিয়োগ কম এবং কৃষি গবেষণা খাতে বাজেট বরাদ্দও অপ্রতুল।
ভারতে বর্তমান মোদি সরকারের সময়ে পাস হওয়া কৃষি আইনের তিন দফা বাতিলের জন্য ভারতজুড়ে চলছে ঐতিহাসিক কৃষি আন্দোলন। কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বাতিলের মাধ্যমে মাল্টিনেশনাল কোম্পানির কাছে কৃষির ভাগ্য সঁপে দেওয়ার বিরুদ্ধে এই আন্দোলনে সারা পৃথিবীতে বিরাট আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। জলবায়ু আন্দোলনে অগ্রদূত গ্রেটা থুনবার্গ থেকে শুরু করে বাংলাদেশের সব বামপন্থি রাজনৈতিক দলের নেতারা এ আন্দোলনের প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করেছেন। সহানুভূতি জ্ঞাপন করেছেন এই আন্দোলনে আত্মদানকারী কৃষকদের প্রতি। আমার মনে হয়, কৃষকদের এ আন্দোলন একদিন সিকাগোর ‘হে’ মার্কেটে পুলিশের গুলিতে নিহত শ্রমিকের আত্মহুতির আগুনের শিখার মতো সারাবিশ্বে জ্বলে উঠবে। বাংলাদেশসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ভারতের কৃষি আন্দোলনের ঢেউ লেগেছে। অবশ্য এরই মধ্যে ভারতের কৃষিমন্ত্রী নরেন্দ্র সিং তোমার বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার বিতর্কিত তিন কৃষি আইন সংশোধনে প্রস্তুত আছে। বিক্ষোভরত কৃষকদের আবেগের প্রতি শ্রদ্ধ জানিয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। এখানেও বিভিন্ন কৃষক সংগঠনের উদ্যোগে কৃষিভিত্তিক ভারি পাট ও চিনি শিল্প বন্ধের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করেছে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি ও বাংলাদশের সমাজতান্ত্রিক দলের মতো আরও কিছু প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল। গত বছর দেশের সরকারি ২৫টি পাট কলবন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এবার ছয়টি চিনিকলে উৎপাদন বন্ধ করা হয়েছে এবং আগামী বছর আরও দুটি চিনিকল বন্ধের কথা রয়েছে। চিনিকলগুলো বন্ধের কারণে এরই মধ্যে চিনিকল এলকায় আখ চাষ বন্ধ হয়ে গেছে বললে ভুল হবে না। আখের অভাবে দু-তিনটি ছাড়া বাকি চিনিকলগুলো স্বাভাবিক নিয়মেই বন্ধ হয়ে যাবে। এতে হাজার হাজার শ্রমিক-কর্মচারী তাদের কর্ম হারবে। আখচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আখ থেকে চিনি উৎপাদন না হওয়ার কারণে দেশের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে গ্রামীণ অর্থনীতির ওপর প্রবল চাপ পড়বে। কৃষি শ্রমিকের কর্ম এলাকা সংকুচিত হবে। গ্রামীণ এলাকায় অর্থ প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।
১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু সরকার শ্রমিক-কর্মচারী ও আখচাষিদের স্বার্থেই চিনিকলগুলো জাতীয়করণ করেন। একই সঙ্গে পাটকলগুলোও জাতীয়করণ করা হয়। কিন্তু শ্রমিক-কর্মচারীদের ন্যায্য পাওনা পরিশোধ না করে হঠাৎ করে কৃষিভিত্তিক এ মিলকারখানাগুলো বন্ধ করা কোনো অবস্থাতেই উচিত হয়নি। কৃষি ও কৃষক তথা জাতীয় স্বার্থে পাটকল ও চিনিকল বন্ধের ঘোষণা অতিসত্বর প্রত্যাহার করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে নিম্নবর্ণিত সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করাও দরকার।
সুপারিশগুলো হলো ১. ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের স্বল্প সুদে সময় মতো কৃষিঋণ প্রদান করতে হবে। ২. কৃষি পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকল্পে কৃষক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে কৃষিপণ্যের জাতীয় মূল্য কমিশন গঠন করতে হবে। ৩. দানাশস্য বিশেষ করে উৎপাদিত ধান, গম ও ভুট্টার কমপক্ষে শতকরা ১০-১৫ ভাগ সরকারিভাবে ক্রয় করতে হবে। এজন্য প্রয়োজনে ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্য গুদাম নির্মাণ করতে হবে। ৪. উৎপাদন খরচের সঙ্গে শতকরা ২০ ভাগ লাভ যোগ করে কৃষিপণ্যের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণ করতে হবে। ৫. বিষমুক্ত ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের জন্য সব ধরনের জৈব বালাইনাশক এবং পোকা-মাকড় ও ইঁদুর দমন ফাঁদের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করে নামমাত্র মূল্যে এসব পরিবেশবান্ধব কৃষি উপকরণ কৃষকের মধ্যে বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে। ৬. প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি হতে কৃষকদের বাঁচানোর জন্য অবিলম্বে কৃষিবিমা চালু করতে হবে এবং প্রিমিয়ামের টাকা সরকারকে বহন করতে হবে। ৭. ষাটোর্ধ্ব কৃষকদের পেনশন চালু এবং খেতমজুরদের সারা বছর কাজের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ৮. সারা দেশের জেলা-উপজেলা ও পৌর শহরগুলোতে ভোক্তার কাছে সরাসরি কৃষিপণ্য বিক্রয়ের জন্য কৃষক বাজার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। ৮. কৃষিপণ্য বিপণন প্রক্রিয়ায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। ৯. এলাকাভিত্তিক কৃষি পণ্য উৎপাদন এবং প্রক্রিয়াকরণ শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে হবে। ১০. কৃষিপণ্য পরিবহনের জন্য শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ভ্যান ও রেলওয়াগন ব্যবস্থা চালু করতে হবে। ১১. বন্ধকৃত সব কৃষিভিত্তিক শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালু করতে হবে। ১২. কৃষিজমির আশপাশে ইটভাটা নির্মাণ এবং ইট তৈরি কাজে টপ সয়েল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। ১৩. শিল্পকারখানার তরল বর্জ্য ফেলে কৃষিজমির উর্বরতা বিনষ্টের মতো আত্মঘাতী কাজ বন্ধ করতে হবে। ১৪. ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের নাম মাত্র ভাড়ায় ধান রোপণ এবং কাটা-মাড়াই-ঝাড়াই যন্ত্রের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। ১৫. কৃষি খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও বাজেট বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে। বাড়াতে হবে কৃষি গবেষণা খাতেও বাজেট বরাদ্দ। সে সঙ্গে টেকসই খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তায় গ্রামীণ কৃষির পাশাপাশি প্রতিটি নগরে পরিকল্পিত পরিবেশবান্ধব নগরীয় কৃষিব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।