মুক্তি হারলে আমি হেরে যাব : আনোয়ারা

প্রকাশ : ০৩ জুলাই ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বিনোদন প্রতিবেদক

বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন মানেই এক নতুন উত্তেজনা, প্যানেলে প্যানেলে লড়াই আর উৎসবের আমেজ। তবে এবারের ২০২৬-২৮ মেয়াদের নির্বাচনে সব আলোচনা আর প্রচারণাকে ছাপিয়ে গেছে মাতৃত্বের আবেগ ও অশ্রু। ঢাকাই চলচ্চিত্রের শক্তিশালী অভিনেত্রী আনোয়ারা বেগমের জীবনের শেষ ইচ্ছা- তার সুযোগ্য কন্যা রুমানা ইসলাম মুক্তি যেন শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে সাধারণ শিল্পীদের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেন।

গত বুধবার রাতে আরমান-মুক্তি পরিষদের প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানে আসেন আনোয়ারা। তার উপস্থিতিতে পিনপতন নীরবতা নেমে আসে। যা রূপ নেয় আবেগঘন মুহূর্তে। ঢালিউডের সোনালী যুগের অন্যতম জনপ্রিয় এ অভিনেত্রী মেয়ে মুক্তির জন্য ভোট চাইতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। জানা গেছে, মুক্তি নিজে থেকে এই নির্বাচনে আসতে চাননি; মায়ের স্বপ্নপূরণ করতে ভোটে দাঁড়িয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে চলচ্চিত্রে পর্দার আড়ালে থাকা এই মায়ের একটাই চাওয়া- তার মেয়ে যেন চলচ্চিত্র জগতের মানুষদের পাশে দাঁড়াতে পারে এবং তাদের কল্যাণে কাজ করতে পারে। প্যানেল পরিচিতি অনুষ্ঠানের মঞ্চে পুরোনো দিনের স্মৃতিরোমন্থন করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন আনোয়ারা। এফডিসির সঙ্গে তার জীবনের বহু বছরের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে। জীবনের এই শেষ সময়ে এসে মেয়ের জন্য সবার কাছে ভোট ও দোয়া প্রার্থনা করার সময় তিনি কান্না চেপে রাখতে পারেননি। মাইক্রোফোনের সামনেই তিনি ডুকরে কেঁদে বলেন, ‘আমার মেয়ে আপনাদেরই বোন, মেয়ে এবং সহকর্মী। ও আমার স্বপ্নপূরণ করতে এখানে এসেছে। আপনাদের জন্য কাজ করতে চায়। আপনারা ওকে ফিরিয়ে দেবেন না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার অস্তিত্ব আমার মেয়ে। মুক্তি শিল্পীদের জন্য কতটা উপযুক্ত তা আপনারা এরইমধ্যে প্রমাণ পেয়েছেন। আশা করি, আমার শিল্পী সমিতির ভালোবাসার মানুষরা মুক্তিকে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবেন। সবাই আরমান-মুক্তি প্যানেলের সঙ্গে থাকবেন। আমার মেয়েকে ভোট দেওয়া মানে আমাকে ভোট দেওয়া। আমার মেয়ের বিজয় মানে আমার বিজয়। মুক্তি হারলে আমি হেরে যাব। তাই আমার প্রাণের শিল্পীরা আমার সম্মান রাখবেন।’ কিংবদন্তি অভিনেত্রী আনোয়ারা এখন বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় ভুগছেন। বয়সের ভারে আগের মতো এফডিসিতে নিয়মিত আসতে না পারলেও মেয়ের জন্য তার মন পড়ে থাকে চলচ্চিত্রের আঙিনায়। তিনি বলেন, চলচ্চিত্রের মানুষরাই তার আসল পরিবার। আর এই পরিবারের কল্যাণে তার মেয়ে মুক্তি যেন আজীবন কাজ করে যেতে পারে, সেটাই তার জীবনের শেষ আকাঙ্ক্ষা। একজন মায়ের এই কান্নায় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছেন সাধারণ ভোটার থেকে শুরু করে ঢাকাই সিনেমার তারকারাও।