বিপাশা বেছে নিয়েছিলেন 'জিসম'

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  বিনোদন ডেস্ক

'এ সিনেমা করলে ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে।' বলিউডে তখন বিপাশা বসুকে এমন সতর্কবার্তাই শুনতে হয়েছিল। অভিনয় জীবনের মাত্র তিন বছর। 'রাজ' ও 'আজনবী'র মতো সিনেমায় সাফল্য পেয়ে এরই মধ্যে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন তিনি। এমন সময়ে প্রস্তাব এলো 'জিসম'-এর। গল্পে ছিল প্রেম, বিশ্বাসঘাতকতা এবং এক নারীর ধূসর চরিত্র। প্রচলিত হিন্দি সিনেমার নায়িকার ছকে এমন প্রাপ্তবয়স্কের জন্য নির্মিত চরিত্র তখনো বেশ অস্বস্তিকর।

কিন্তু সবাই যখন পিছিয়ে যেতে বলছিলেন, বিপাশা তখন উল্টো সিদ্ধান্ত নিলেন। সম্প্রতি 'এল' ম্যাগাজিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সেই সময়ের কথা মনে করে অভিনেত্রী বলেছেন, তাকে বলা হয়েছিল, সামান্য যৌন আবেদন বা 'ইরোটিকা' থাকা কোনো সিনেমায় অভিনয় করলে তার ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে। বিপাশার উত্তর ছিল সরল, তিনি প্রাপ্তবয়স্ক, আর 'জিসম'ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য তৈরি একটি প্রেমের গল্প। চরিত্রটির নানা স্তর তার ভালো লেগেছিল, তাই ঝুঁকি নিতে পিছপা হননি।

২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া 'জিসম' পরিচালনা করেছিলেন অমিত সাক্সেনা, চিত্রনাট্য লিখেছিলেন মহেশ ভাট। বিপাশার সঙ্গে সিনেমাটিতে জুটি বেঁধেছিলেন জন আব্রাহাম। গল্পের কেন্দ্র সোনিয়া; আবেগ, আকর্ষণ ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার জটিলতায় আটকে থাকা একজন নারী। প্রচলিত অর্থে তিনি আদর্শ নায়িকা নন। তাঁর মধ্যে আছে প্রলোভন, হিসাবি বুদ্ধি, দুর্বলতা ও অন্ধকার দিক। সেই সময় হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের অধিকাংশ চরিত্রই ছিল তুলনামূলকভাবে নিরাপদ; নায়কের প্রেমিকা, স্ত্রী কিংবা নৈতিকতার প্রতীক।

বিপাশার সোনিয়া সেই কাঠামোয় ফাটল ধরিয়েছিল। চরিত্রটি একই সঙ্গে আকর্ষণীয় ও বিপজ্জনক। দর্শক তাকে শুধু নায়িকা হিসেবে দেখেননি; গল্পের চালিকা শক্তি হিসেবেও দেখেছেন। বিপাশা পরে এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, 'জিসম' করার সময় তিনি প্রচলিত 'হিন্দি সিনেমার নায়িকা' তাই তার ম্যানেজার পর্যন্ত মনে করেছিলেন, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া পাগলামি। ভয়কে পাত্তা না দেওয়ার ফল বিপাশার সেই ঝুঁকির ফল শেষ পর্যন্ত তার পক্ষেই যায়। 'জিসম' বাণিজ্যিক সাফল্য পায়।