আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

মেয়র আতিকের নেতৃত্বে মানারাত ভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন

প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড অব ট্রাস্টিজ (বিওটি) পুনর্গঠন করেছে সরকার। সংশ্লিষ্ট আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে পুরোনো সবাইকে বাদ দিয়ে এ বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-ঢাকা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ এর ধারা ৬ (১০) সুস্পষ্ট লঙ্ঘন করায় উল্লিখিত আইনের ধারা ৩৫(৭) অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর কর্তৃক মেয়র, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনকে চেয়ারম্যান করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট বোর্ড অব ট্রাস্টিজ পুনর্গঠন করা হয়।

এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনির সভাপতিত্বে, উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী, পুনর্গঠিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যরা, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ট্রেজারার ও রেজিস্ট্রারের সমন্বয়ে এক সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করা হয়। এছাড়া পুনর্গঠিত বোর্ড অব ট্রাস্টিজের চেয়ারম্যানের সভাপতিত্বে গতকাল নতুন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রথম সভাও অনুষ্ঠিত হয়। এদিকে ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠনের খবর পেয়ে রাজধানীতে প্রতিবাদী মানববন্ধন করেছে প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি স্টুডেন্টস সাপোর্ট ফোরাম নামের একটি সংগঠন। মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিসহ অন্যান্য প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টির ‘অবৈধ দখল করার ষড়যন্ত্রের’ অভিযোগ এনে গতকাল দুপুরে গুলশান এলাকায় এই মানববন্ধন করেন তারা।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়েরই নিজস্ব ট্রাস্টি বোর্ড থাকে। তারই ধারাবাহিকতায় নর্থ সাউথ, শান্তা মরিয়াম, মানারাতেরও ছিল। সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এ ট্রাস্টি বোর্ড ভেঙে দিয়ে নিজস্ব লোকদের মাধ্যমে তা গঠনের উদ্যোগ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্ষতিসাধন করছে।

সূত্রমতে, মানারাত বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ছিলেন প্রফেসর মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ। আর ভিসি হিসেবে আছেন প্রফেসর ড. মো. নজরুল ইসলাম।

বিভিন্ন কারণে ভেঙে দেয়া ট্রাস্টি বোর্ডসহ বিশ্ববিদ্যালয়টির কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বর্তমান ভিসির সম্পর্কের কিছুটা অবনতি বিরাজ করছিল।

নতুন ট্রাস্টি বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন-সাবেক সিনিয়র সচিব হেদায়েতুল্লাহ আল মামুন ও সাজ্জাদুল হাসান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মশিউর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম ও অনারারী অধ্যাপক ড. খন্দকার বজলুল হক, কানাডিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী আরাফাত, ডা. মেখলা সরকার, ইঞ্জিনিয়ার মো. আবদুস সবুর, ড. সেলিম মাহমুদ, মারুফা আক্তার পপি, ইরাত জাহান নাসরিন ও মিহির কান্তি ঘোষাল।

নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন সংক্রান্ত আদেশে বলা হয়েছে, সরকারের বিভিন্ন আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার বিশেষ তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দেখা যায় যে, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির বোর্ড ট্রাস্টিজের সদস্যবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদ ও রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ ও প্রমাণ রয়েছে। মানারাত বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল এবং কলেজের কোমলমতি ছাত্রছাত্রীদের জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের পাশাপাশি জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক কাজে লিপ্ত করার জন্য বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় কর্মকর্তা তাদের রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপে অংশগ্রহণ করতে উস্কে দেয়াসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন। উগ্রবাদী জঙ্গিগোষ্ঠী ও জামায়াত-শিবিরের উচ্চ পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সাথে উক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নীতি নির্ধারকদের গোপন যোগাযোগ রয়েছে বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়। সন্ত্রাসবাদ, জঙ্গিবাদে উস্কানি দেয়া, পরিকল্পনায় সহযোগিতা করা দেশের প্রচলিত আইন ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০-এর ৬(১০) ধারার সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।