ঢাকা রোববার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ | বেটা ভার্সন

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে ১২ উদ্যোগ

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়নে ১২ উদ্যোগ

দেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের ৭০ ভাগই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের। সরকারি-বেসরকারি কলেজে অধ্যায়নরত প্রায় ৩৫ লাখ শিক্ষার্থী নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানটি চলছে নানা সংকট ও সমস্যা নিয়ে। প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ ৩০ বছরেও মান সম্মত পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে পারেনি অন্যতম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়টি। মূলত, অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ না পাওয়া এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সামর্থ না থাকা দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীরাই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেগুলোতে পড়ালেখা করেন। তবে এসব শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার মান এবং চাকরির বাজারে তাদের অবস্থান নিয়েও নানা প্রশ্ন রয়েছে। নানা বঞ্চনা, ক্ষোভ ও হতাশা রয়েছে শিক্ষকদের মাঝেও।

তবে আশার সংবাদ হচ্ছে বিরাজমান সংকট কাটিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষার এই বৃহৎ অংশের মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক যুগোপযোগী শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে নানা পরিকল্পনা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এরই ধারাবাহিকতায় অনার্স কোর্স সীমিত করার পাশাপাশি আগামী বছর থেকেই চালু হচ্ছে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা কোর্স। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, একাডেমিক মাস্টার প্লান প্রণয়ন, ব্লেন্ডেড এডুকেশন, শিক্ষকদের জন্য গবেষণা তহবিলসহ বেশ কিছু উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যদিও এসব উদ্যোগের পাশাপাশি দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করা ও তাদের সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের ক্লাসমুখী করা এবং শিক্ষা খরচ কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩০ বছর পূর্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে নিয়ে নানা উদ্যোগের কথা জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষাকে মানসম্পন্ন ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিয়ত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। অনেক সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।

তিনি জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশনায় ১৯৭২ সালের ২৬ জুলাই গঠিত ড. কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনের সুপারিশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ থাকলেও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ফলে সে পরিকল্পনা বাস্তবায়ন থমকে যায়। পরবর্তীতে ১৯৯২ সালের ২১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত হয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। প্রতিষ্ঠালগ্নে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের সংখ্যা ছিল ৪৫৫টি। বর্তমানে ২ হাজার ২৫৭টি কলেজের বিশাল এক পরিবার আমাদের, যার শিক্ষার্থী সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ।

দেশের উচ্চশিক্ষার এই বৃহৎ অংশের মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষাদান নিশ্চিত করতে এরইমধ্যে বহু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান উপাচার্য মশিউর রহমান। সেগুলো হচ্ছে-

দক্ষতা ভিত্তিক পোস্টগ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা (পিজিডি) কোর্স প্রবর্তন: উচ্চশিক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি তাদেরকে আরও দক্ষ, যোগ্য ও পেশাজীবী হিসেবে গড়ে তুলতে ১২টি বিষয়ে পোস্ট গ্রাজুয়েট ডিপ্লোমা (পিজিডি) কোর্স চালু করা হচ্ছে। বিষয়গুলো হচ্ছে-ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন টেকনোলজি (আইসিটি), ল্যাংগুয়েজ ইংলিশ অ্যান্ড অ্যারাবিক, অন্ট্রাপ্রেনারশিপ, ফার্মিং টেকনোলজি, ডাটা অ্যানালাইসিস, ট্যুরিজম অ্যান্ড ট্রাভেল ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট, ডিজিটাল মার্কেটিং, ক্যাপিটাল মার্কেট অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, সার্টিফাইড অ্যাকাউন্টিং, টেকনিশিয়ান, সাইবার সিকিউরিটি ও সিকিউরিটি ম্যানেজমেন্ট। এরই মধ্যে উক্ত কোর্সসমূহের পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী বছরের শুরুতে কোর্সগুলো চালু করা হবে।

পাঠ্যক্রম উন্নয়ন: বাংলাদেশ অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ ন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস ফ্রেমওয়ার্ক-এর আলোকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ¯œাতক (সম্মান) কোর্সের ৩১টি বিষয়ের সিলেবাস পরিমার্জনের কাজ চলছে। এরইমধ্যে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকরা সম্মান কোর্সের খসড়া সিলেবাস প্রস্তুত করেছেন। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রদত্ত ‘আউটকাম বেজড এডুকেশন (ওবিই) টেমপ্লেট’ অনুসরণপূর্বক বিষয়ভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ¯œাতক (সম্মান) কোর্সের সিলেবাস পরিমার্জন সম্পন্নœ করা হবে। আগামী ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে নতুন সিলেবাস কার্যকর করা হবে। নতুন সিলেবাসে আইসিটি ও সফটস্কিলসহ কয়েকটি নতুন কোর্স অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ণ: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাক্রমকে যুগোপযোগী ও কর্মমুখী করার লক্ষ্যে নতুন ধারার শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। এমতাবস্থায় প্রচলিত বিষয়ভিত্তিক জ্ঞানকে আরও দক্ষতাসমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়নের কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ লক্ষ্যে একাধিক সেমিনার, ওয়ার্কশপ ও সভার আয়োজন করা হয়েছে। দেশের প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ ও স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত পেশাজীবীদের সমন্বয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি এ নিয়ে কাজ করছে। একাডেমিক মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও তা ক্রমান্বয়ে বাস্তবায়িত হলে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার গুণগত পরিবর্তন সাধিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

ব্লেন্ডেড এডুকেশন কর্মপরিকল্পনা: উদ্ভাবনী বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব উপযোগী গুণগত শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়নে তৈরি হচ্ছে ব্লেন্ডেড শিক্ষা মহাপরিকল্পনা, যা শিক্ষার্থীদের চাহিদা অনুযায়ী অনলাইন-অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে শিক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করবে। এ লক্ষ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় স্টেকহোল্ডার হিসেবে জাতীয় টাস্কফোর্সের সাথে ব্লেন্ডেড শিক্ষা মহাপরিকল্পনার খসড়া প্রণয়নে কাজ করে যাচ্ছে। এরইমধ্যে সারাদেশের ২২৫৭টি কলেজের জন্য ১০ বছরের কর্মপরিধি নির্ধারণ ও বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

শিক্ষকদের জন্য গবেষণা তহবিল প্রবর্তন: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং এর অধিভুক্ত কলেজসমূহের শিক্ষকরা যাতে মানসম্মত গবেষণা পরিচালনা করতে পারে সে লক্ষ্যে একটি গবেষণা তহবিল গঠন করা হয়েছে। শিক্ষকদের নিকট থেকে প্রাপ্ত গবেষণা প্রস্তাবনাসমূহ মূল্যায়ণপূর্বক এরইমধ্যে এর প্রথম কিস্তির অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা হয়েছে।

আঞ্চলিক অফিস স্থাপন প্রকল্প: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচালন ব্যবস্থা বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন প্রকল্পের কাজ এগিয়ে চলছে। এরইমধ্যে রংপুর, বরিশাল ও চট্টগ্রামের প্রতিটিতে এক একর ভূমি অধিগ্রহণ করে ১০তলা অফিস ভবন ও আনুষঙ্গিক নির্মাণ কাজ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছে। এছাড়া ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে অঞ্চলভিত্তিক কলেজ ও শিক্ষার্থী সংখ্যার ভিত্তিতে ‘জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬টি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে হবিগঞ্জ, নাটোর, ঝিনাইদহ, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ-এই ৫টি স্থানের প্রতিটিতে এক একর জমি প্রাথমিকভাবে নির্বাচন করা হয়েছে। পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রকল্প প্রস্তাব প্রণয়ন ও সম্ভাব্যতা যাচাই কাজ সম্পন্ন করার জন্য চলতি অর্থ বছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) প্রকল্প: বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান অনলাইন শিক্ষাকার্যক্রম একটি অভিন্ন প্লাটফর্মের মাধ্যমে পরিচালনার জন্য প্রস্তাবিত ‘ডেভলেপমেন্ট অফ ইনফ্রাসট্রাকচার ফর ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) ইন অ্যাফিলিয়েটেড কলেজ আন্ডার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি প্রজেক্ট’ শীর্ষক প্রকল্পের ফিজিবিলিটি স্টাডি ও ডিপিপি প্রণয়নকল্পে সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অঙ্গীভূত প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তিপত্র সম্পাদিত হয়েছে। এরইমধ্যে চুক্তি অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটি ইনসেপশন রিপোর্ট দাখিল করেছে।

সিইডিপি প্রকল্প: কলেজ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্প ‘কলেজ এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (সিইডিপি)’-এর কাজ চলমান রয়েছে। কলেজ পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে একটি ১৫ বছর মেয়াদি জাতীয় কৌশলগত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে। পরিকল্পনাটি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে জাতীয় পর্যায়ের বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে ৬টি থিমেটিক এরিয়ায় ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডি সম্পন্ন করা হয়েছে। এই ব্যাকগ্রাউন্ড স্টাডিসমূহের আলোকে একাধিক কর্মশালার মাধ্যমে কৌশলগত পরিকল্পনা দলিলটির কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে রয়েছে। নির্বাচিত ১২০টি কলেজের শিক্ষা ও পাঠদানের পরিবেশ উন্নতকরণের লক্ষ্যে ৯০টি সরকারি ও ৩০টি বেসরকারি কলেজে ছাড়কৃত আইডিজি গ্র্যান্ট-এর অর্থে ইনস্টিটিউশনাল ডেভলেপমেন্ট প্লান (আইডিপি) অনুযায়ী উপ-প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। আইডিজিপ্রাপ্ত ১২০টি কলেজে উপ-প্রকল্প বাস্তবায়ন টিমকে প্রকল্পের মনিটরিং ও ইভাল্যুয়েশন বিষয়ে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে এই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে। সিইডিপি প্রকল্পটি শেষ হওয়ার সাথে সাথে সিইডিপি-২ শীর্ষক প্রকল্প গ্রহণে এরইমধ্যে সরকার ও দাতা সংস্থার সাথে আলোচনা এগিয়ে চলছে। এ প্রকল্পের আওতায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে ৫০টি ব্যাচে ৮ হাজার শিক্ষকের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে। এরইমধ্যে ৩ হাজার ৭৭ জন শিক্ষককে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়েছে।

ভারতের বাংলা ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তি সম্পাদন: শিক্ষা ও গবেষণায় সম্পর্ক উন্নয়নে ভারতের বাংলা ওয়ার্ল্ড ওয়াইডের সঙ্গে জাতীয় বিশ্ব^বিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারক গত ৫ মার্চ স্বাক্ষরিত হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের সহযোগিতা এবং ক্রীড়া-সাংস্কৃতিক ও নানাবিধ বিষয়ে পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পর্ক উন্নয়ন হবে। মুজিববর্ষ আন্তঃকলেজ সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের একটি টিমকে নিয়ে ভারতে অনুষ্ঠান করার পরিকল্পনা এবছরেই রয়েছে।

বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের গবেষক ভর্তি: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বাংলাদেশ সমাজ চাহিদা ও উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, জাতি-রাষ্ট্র গঠন প্রক্রিয়া, মহান মুক্তিযুদ্ধ, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও সামাজিক চ্যালেঞ্জসমূহের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গবেষণাকর্মকে অগ্রাধিকার দিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অঙ্গীভূত ‘বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ বাংলাদেশ গবেষণা ইনস্টিটিউটে’র অধীনে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে এমফিল লিডিং টু পিএইচডি কোর্সে পূর্ণকালীন গবেষক ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ২০২১-২০২২ শিক্ষাবর্ষে এমফিল লিডিং টু পিএইচডি কোর্সে ভর্তিকৃত ৭ জন গবেষকের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করে তাদের নিয়মিত ক্লাস পরিচালনা করা হচ্ছে।

ইএমএস: জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা পরিচালনা সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রমকে আরও সুশৃঙ্খল করার জন্য এক্সামিনেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ইএমএস) নামে একটি সফ্টওয়্যার ডেভেলপ করা হয়েছে। এ সফ্টওয়্যারে প্রচলিত ওএমআরের পরিবর্তে ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহারের মাধ্যমে কেন্দ্র থেকে পরীক্ষার্থীর হাজিরা এবং উত্তরপত্র মূল্যায়নের পর পরীক্ষকদের নিকট থেকে গোপনীয়তা সহকারে তাৎক্ষণিকভাবে নম্বর সংগ্রহ করা যায়। এরইমধ্যে পাইলটিং হিসেবে এ সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে ৬টি প্রফেশনাল (বিএফএ, বিএড, টিএইচএম, এএএস, এমপিএড ও এএএম) কোর্সের পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পরীক্ষার ক্ষেত্রেও এ সফ্টওয়্যার ব্যবহার করা হবে।

অনলাইন সার্ভিস ও ই-ফাইলিং: ইন্টিগ্রেটেড সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে বিগত ছয় মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ৫৩ হাজার ৪২টি অনলাইন সার্ভিস প্রদান করা হয়েছে। এছাড়াও কলেজ পরিদর্শন দপ্তরের অধিভুক্তি নবায়নের মোট ৬৬৭টি অনলাইন সেবা প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তরে ই-ফাইলের মাধ্যমে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এতে কাজের গতি বৃদ্ধি ও ব্যয় সাশ্রয় নিশ্চিত হচ্ছে।

বিভিন্ন উদ্যোগ প্রসঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান আরও বলেন, উপাচার্য হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণের পর প্রায় দেড় বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক উন্নয়নে সহকর্মীদের নিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আগের দুই উপাচার্যের সময়ে যেসব ইতিবাচক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল আমরা সেগুলোর ধারাবাহিকতা যেমন রক্ষা করছি, একইসাথে অনেকগুলো নতুন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।

তিনি বলেন, সেশনজট মুক্ত রেখে নতুন অবয়বে পিজিডি প্রোগ্রাম চালু, বিভিন্ন মেয়াদের শর্টকোর্স প্রবর্তন, শিক্ষার্থীদের আইসিটি দক্ষতা বৃদ্ধি, সফটস্কিল বৃদ্ধি, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি, ভাষাজ্ঞান ও দক্ষতা সৃষ্টি, শিক্ষক ও অধ্যক্ষদের নিয়ে শিক্ষা সমাবেশ আয়োজন, দ্বিতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান আয়োজন, অঞ্চলভিত্তিক বিজ্ঞান মেলার আয়োজন, আন্ত:কলেজ ক্রীড়া, সংস্কৃতি ও বিতর্ক প্রতিযোগিতার আয়োজন, কলেজ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের পরিসর বৃদ্ধি, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই গঠনসহ বেশ কিছু কর্মপরিকল্পনা আমাদের রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো কার্যক্রম আমরা এরইমধ্যে শুরু করেছি।

তবে নানা সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বলেন, সূচারুরূপে কাজ সম্পন্ন করা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। আমরা সম্মিলিতভাবে তা করার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখছি। পাশাপাশি একথাও মনে রাখা প্রয়োজন কাজের জন্য পর্যাপ্ত রিসোর্স আমাদের সব সময়ের জন্য থাকে না। আশানুরূপ অবকাঠামো গড়ে তোলা একদিনের বিষয় নয়, এটি সময় সাপেক্ষ বিষয়ও বটে। সেসব চ্যালেঞ্জের বাস্তবতা মেনে নিয়েই আমরা আমাদের পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি।

এদিকে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক এসব উদ্যোগ স্বাগত জানানোর পাশাপাশি শিক্ষক সংকটসহ বিরাজমান অন্যান্য সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধে নজর দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ একাডেমিক ও অন্যান্য বিষয়ে যেসব সিদ্ধান্ত নেন বা নোটিশ দেন তা অনেকটাই বাস্তব চিত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। যেমন ক্লাস-কোর্স শেষ না হলেও পরীক্ষার তারিখ দেয়া হয়। বিভিন্ন কলেজে অনার্সে শিক্ষার্থী ভর্তির তুলনায় ক্লাসরুমের ক্যাপাসিটি কম থাকে। এতে অনেকে ক্লাস করতে পারেন না। একপর্যায়ে ক্লাসে উপস্থিতির সংখ্যা কমে যায়। শিক্ষক সংকটেও ক্লাস কম হয়। তাছাড়া শিক্ষার্থীরা গাইড ও সাজেশন নির্ভর করে পরীক্ষা দেয়ায় তাদের শিক্ষার মান কমে যাচ্ছে। সম্প্রতি সিইডিপি প্রকল্পে শিক্ষকদের যে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে তা দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে তেমন প্রয়োগ নেই বলে জানা গেছে।

শিক্ষকরা জানান, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পরীক্ষার খাতা দেখা, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, মডারেশন, ভাইভাগ্রহণ, পরীক্ষার হলে ডিউটি-ইত্যাদির সম্মানি দেয়া হয় খুব কম। এতে মানসম্মত শিক্ষকরা এসব কাজে আগ্রহ হারাচ্ছেন। ফলে শিক্ষার্থীদের যথাযথ মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এছাড়া বেসরকারি কলেজের অনেক শিক্ষক এমপিওর বাইরে থাকায় তাদের মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করছে বলে জানা গেছে। তাই শিক্ষার মানোন্নয়নে এসব সংকট দূর করার উদ্যোগ নেয়ারও আহবান জানান সংশ্লিষ্টরা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত