ঢাকা ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা

দিনদিন বাড়ছে পরীক্ষার্থী অনুপস্থিতির সংখ্যা!

গত বছরের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে অনুপস্থিতি
দিনদিন বাড়ছে পরীক্ষার্থী অনুপস্থিতির সংখ্যা!

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয়েছে গত ৩০ জুন থেকে। এদিন বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষার প্রথম দিনেই অনুপস্থিত ছিলেন প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থী; যা গত বছরের প্রথম দিনের পরীক্ষার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গত বছর এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্রে ৫ হাজার ৫২২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, এবার এইচএসসি পরীক্ষার প্রথম দিন সকালে সিলেট বাদে ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রাজশাহী, যশোর, চট্টগ্রাম ও দিনাজপুর- এ আট বোর্ডের অধীনে ১ হাজার ৪৭২টি কেন্দ্রে এইচএসসির বাংলা প্রথমপত্র পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলা প্রথমপত্রে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৯ জন। এদের মধ্যে ৯ লাখ ২৩ হাজার ৭১৯ জন পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। তবে ৯ হাজার ৯৭০ জন পরীক্ষার্থীই ছিলেন অনুপস্থিত। ফলে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিতির হার ১ দশমিক শূন্য ৭ শতাংশ। এছাড়াও ২০ পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে সবচেয়ে বেশি অনুপস্থিত ছিলেন পরীক্ষার্থীরা। প্রথম দিনের বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় এই বোর্ডে ২ হাজার ৬০১ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এরপরই রাজশাহী বোর্ডের স্থান। সেখানে ১ হাজার ৫০৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া কুমিল্লায় ১ হাজার ১৫৬ জন, যশোরে ১ হাজার ৩২৮ জন, চট্টগ্রামে ৯৭৫ জন, বরিশালে ৭২৭ জন, দিনাজপুরে ১ হাজার ১৩ জন এবং ময়মনসিংহে ৬৬২ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন।

এদিকে মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের ৪২৬টি কেন্দ্রের অধীনে মোট পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৮৪৪ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন ৭৫ হাজার ৮৫৬ জন। ফলে অনুপস্থিত ছিলেন ২ হাজার ৯৮৮ জন পরীক্ষার্থী। ফলে মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে অনুপস্থিতির হার ৩ দশমিক শূন্য ৭৮ শতাংশ।

এদিকে গত মঙ্গলবার সাধারণ আটটি বোর্ডে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৯ লাখ ৩২ হাজার ৫০৯ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ৯ লাখ ২২ হাজার ৬২ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ১০ হাজার ৪৪০ জন। আট বোর্ডে অনুপস্থিত হার ছিল ১ দশমিক ১২ শতাংশ। অন্যদিকে, মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডে (সিলেট বিভাগ বাদে) আরবি দ্বিতীয়পত্রের পরীক্ষা ছিল। এই বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭৮ হাজার ২৭৮ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৭৫ হাজার ৯ জন। অনুপস্থিত ছিলেন তিন হাজার ২৬৯ জন। এই বোর্ডে অনুপস্থিত হার ৪ দশমিক ১৭ শতাংশ। বহিষ্কার হয়েছে চারজন। আর কারগরি শিক্ষাবোর্ডে মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ১ লাখ পাঁচ হাজার ১৩৫ জন। এর মধ্যে পরক্ষীয় অংশ নিয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৭৫১ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৪ হাজার ৬৫৩ জন। অনুপস্থিতির হার ছিল ২ দশমিক ৫৪ শতাংশ। বহিষ্কার হয়েছেন ১৪ জন।

এইচএসসি ও সমমানের তৃতীয় দিনের পরীক্ষা গত বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। এদিন অনুপস্থিত ছিল মোট ১৬ হাজার ২৭০ পরীক্ষার্থী। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে জানানো হয়, চলমান এইচএসসির ৮টি বোর্ডে গত বৃহস্পতিবার ইংরেজি প্রথম পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ পরীক্ষায় ১২ হাজার ৪৫৯ পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। এছাড়া অসদুপায় অবলম্বনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ৪৩ জনকে। ইংরেজি প্রথমপত্রের পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী ছিলেন ১০ লাখ ২ হাজার ২২৬ জন। এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ৯ লাখ ৯০ হাজার ২২৬ জন। অর্থাৎ ১২ হাজার ৪৫৯ জন অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি (৩ হাজার ২২৭ জন) অনুপস্থিত ছিলেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বোর্ডে ১ হাজার ০৫৫ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১ হাজার ৮৮৩, বরিশাল বোর্ডে ৮৩৭, দিনাজপুর বোর্ডে ১ হাজার ৪৭১, কুমিল্লা বোর্ডে ১ হাজার ১১০, ময়মনসিংহ বোর্ডে ৯৭০ এবং যশোর বোর্ডে ১ হাজার ৯০৬ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। অন্যদিকে, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে (সিলেট বিভাগ বাদে) মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭৮ হাজার ৪৬৩ জন। অনুপস্থিত ছিলেন ৩ হাজার ৩৩০ জন।

দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিনে বাংলা প্রথমপত্রের পরীক্ষায় অনুপস্থিতির হার বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছে ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্র। এক প্রশ্নের জবাবে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক তপন কুমার সরকার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এবার অনুপস্থিতি কিছুটা বেশি। সেক্ষেত্রে প্রতিকূল আবহাওয়া একটি কারণ হতে পারে। আবার এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও কিছু বেশি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা বৃষ্টির পূর্বাভাস পাওয়ায় একটি জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছি। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে কোনো পরীক্ষার্থী দেরিতে কেন্দ্রে আসলে, তাকে সময় সমন্বয় করে দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছি। আশা করি, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা হাতে সময় নিয়ে পরীক্ষার কেন্দ্রে আসবেন।’

কেউ কেউ বলছেন, অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে পরীক্ষার বিষয়ে পূর্ণ প্রস্তুতির অভাব, অসুস্থতা বা দেশের বাইরে যাওয়ার কারণে ও অনেক সময় ফরম ফিলাপ করা শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন না।

উল্লেখ্য, বন্যার কারণে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা আগামী ৮ জুলাই পর্যন্ত স্থগিত করা হয়েছে। সিলেট শিক্ষা বোর্ড বাদে বাকি আটটি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা চলছে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত