ঢাকা ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী

আজকের শিশুরাই আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর

আজকের শিশুরাই আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর

আজকের শিশুরাই হবে আগামীর স্মার্ট বাংলাদেশের কারিগর এমন মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আমরা যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব, তোমরাই হবে তার স্মার্ট নাগরিক, যারা দেশ চালাবে। তোমাদের মাঝ থেকেই বের হয়ে আসবে আমার মতো প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, তোমরা বড় বড় জায়গায় যাবে, গবেষণা করবে, বিজ্ঞানী হবে। আর আমরা একসময় চাঁদেও যাব, কাজেই সবাইকে এখন থেকে সেভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, পড়াশোনা করতে হবে।

গতকাল শনিবার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এই স্কুলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছেলে বেলায় চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন। ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত স্কুলটিতে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের আঁকা ‘এসো বঙ্গবন্ধুকে জানি’ শীর্ষক অ্যালবামেরও মোড়ক উন্মোচন করেন শেখ হাসিনা।

স্বাধীনতার পর দেশ গঠনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের করা কাজগুলো সবার সামনে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পঁচাত্তর পরবর্তী সময়ে এদেশের ইতিহাস মুছে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে, এটাই দুর্ভাগ্য। দেশের মানুষের জানা উচিত কীভাবে স্বাধীনতা এল। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য আলাদা একটা দরদ ছিল। ছোটবেলা থেকেই তিনি মানুষের জন্যই কাজ করতেন। নিজের জীবনের কোনো সুখ, সুবিধা কিছুই দেখেননি। শুধু একটাই চিন্তা ছিল এদেশের মানুষকে কীভাবে দারিদ্র্যের হাত থেকে মুক্তি দেবেন। কীভাবে একটা উন্নতজীবন দেবেন এবং ছোট্ট শিশুরা যাতে একটা সুন্দর জীবন পেতে পারে, সেটাই তার লক্ষ্য ছিল।

প্রধানমন্ত্রী এই উদ্যোগের জন্য শিক্ষক, প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আমার ছোট্ট সোনামণি, তোমাদের জন্য দোয়া ও আশীর্বাদ রইল। আজ যে উদ্যোগ এখানে নেওয়া হয়েছে অথবা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন যেসব শিশু তাদের আঁকা ছবি দিয়ে অ্যালবাম করা বা ছবির মাধ্যমে ইতিহাসকে যে তুলে ধরা-আসলে ছবি তো কথা বলে এবং এর মাধ্যমে শিশুদের ইতিহাস জানার সুযোগ হচ্ছে।

এরআগে টুঙ্গিপাড়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি সেখানে ফাতেহা পাঠ করেন এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের সদস্য ও ১৫ আগস্টের শহীদদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করে মোনাজাতে যোগ দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অধ্যয়নকৃত বিদ্যালয়ে পৌঁছালে শিক্ষার্থীরা তাকে স্বাগত জানায়। গিমাডাঙ্গা টুঙ্গিপাড়া মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘বঙ্গবন্ধু কর্নার’ উদ্বোধন করেন। শেখ হাসিনা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। তিনি সেখানে কিছুক্ষণ সময় কাটান এবং শিক্ষার্থীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধু কর্নার ঘুরে দেখেন। যেখানে জাতির ওপর রচিত বিভিন্ন বই রাখা হয়েছে। পরে তিনি টুঙ্গিপাড়া মাল্টিপারপাস পৌর সুপার মার্কেট পরিদর্শন করেন। পরে টুঙ্গিপাড়া মাল্টিপারপাস পৌর সুপার মার্কেট পরিদর্শন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা এবং মার্কেটের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত শুক্রবার বিকালে মাওয়ায় পদ্মা বহুমুখী সেতু নির্মাণ প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় যান।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত