ঢাকা ২১ জুলাই ২০২৪, ৬ শ্রাবণ ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

কোটা ও প্রত্যয় স্কিম ইস্যুতে ফখরুল

শিক্ষকদের দাবি ও কোটাবিরোধী আন্দোলন সমর্থন করছি

শিক্ষকদের দাবি ও কোটাবিরোধী আন্দোলন সমর্থন করছি

সরকারি চাকরিতে কোটাবিরোধী ছাত্র-তরুণদের দাবি ন্যায্য ও যৌক্তিক বলে মনে করছে বিএনপি। তাই চলমান আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে দলটি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ?‘প্রত্যয়’ স্কিম প্রত্যাহারের দাবির প্রতিও সমর্থন জানিয়েছে দলটি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের এ অবস্থানের কথা জানান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় বিএনপির আগামীদিনের কর্মসূচি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ফখরুল বলেন, আগামী সোমবার (৮ জুলাই) আমাদের স্থায়ী কমিটির বৈঠক রয়েছে। তারপর এ বিষয়ে জানানো হবে।

শিক্ষকদের আন্দোলন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, সর্বজনীন পেনশন ‘প্রত্যয়’ স্কিম প্রত্যাহারের দাবিতে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলন করছেন। তাদের এই যৌক্তিক আন্দোলন সমর্থন করছি এবং অবিলম্বে এই পেনশন স্কিম প্রত্যাহারের আহ্বান জানাচ্ছি। তিনি বলেন, আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মচারীরা সম্প্রতি শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছেন। সর্বজনীন পেনশন স্কিমে শিক্ষক-কর্মচারীদের সম্পৃক্ত করায় এ অন্দোলনে নেমেছেন তারা। এতে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এটা জাতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। প্রকৃত পক্ষে এটি হলো- এই দেউলিয়া সরকারের দুর্নীতির জন্য আরো একটি পথ খুলে দেওয়া। যেহেতু দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম সংকটাপন্ন তাই অন্যান্য খাতের মতো শিক্ষকদের কাছ থেকেও অন্যায়ভাবে এ পেনশনের টাকা তুলে নিতে চাচ্ছে সরকার- দাবি করেন মির্জা ফখরুল।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্বলতাকে পুঁজি করে শাসকগোষ্ঠীর আশীর্বাদপুষ্ট একশ্রেণির ব্যবসায়িক লুটেরা সিন্ডিকেট ও কিছু কিছু সরকারি দুর্নীতিবাজ, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সীমাহীন লুটপাট করছে। ব্যাংকসহ সব আর্থিক খাত সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে তারা বিদেশে অর্থ পাচার করছে। সরকার তাদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নিতে দিচ্ছে না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও কর্মচারীদের এই যৌক্তিক আন্দোলন সমর্থন করছি। কোটাবিরোধী আন্দোলনেও সমর্থন রয়েছে। মুক্তিযোদ্ধারা জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান। তাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মাননা প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রীয় আচার অনুষ্ঠানে, এমনকি তাদের মৃত্যুর পরও রাষ্ট্রীয় সম্মানের সঙ্গে দাফনসম্পন্ন করা হয়। এগুলো তাদের প্রাপ্য, এছাড়া মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতাসহ নানান সুবিধা আছে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রধান অঙ্গীকার ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার নিশ্চিত করা উল্লেখ করে ফখরুল বলেন, সাংবিধানিকভাবে ও আইনের দৃষ্টিতে সব নাগরিক সমান। কিন্তু সংবিধানের ২৮ (৪) এবং ২৯ (৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী নারী ও নাগরিকদের পিছিয়ে পড়া অংশ এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা ও শারীরিক প্রতিবন্ধীর বাইরে ব্যতিক্রম হিসেবে কিছু সংরক্ষণ ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। ৫৬ শতাংশ কোটাব্যবস্থা বহাল রেখে প্রযুক্তি ও মেধানির্ভর বিশ্বব্যবস্থায় জাতি হিসেবে টিকে থাকা প্রায় অসম্ভব বলে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি বা কোনো শ্রেণিতেই কোটা পদ্ধতি মেধা-বিকাশে সহায়ক হতে পারে না। এটি মেধাভিত্তিক বৈষম্যহীন জাতি ও সমাজ বিনির্মাণের মুক্তিযুদ্ধের অঙ্গীকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সরকার বিচার বিভাগকে ব্যবহার করে জনগণের ন্যায্য দাবিগুলো দমিয়ে রাখার ঘৃণ্য পুরোনো কৌশলে ছাত্রসমাজের ন্যায্য আন্দোলনকে দমানোর অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। মির্জা ফখরুল বলেন, আইন ও বিচার বিভাগের দোহাই দিয়ে ছাত্রসমাজের যৌক্তিক দাবিগুলো দমানোর সব অপচেষ্টা ব্যর্থ হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি। কারণ ইতিহাসের শিক্ষা হচ্ছে জনগণের ন্যায়সংগত আন্দোলন কখনোই দমানো যায় না। আমরা আশা করি, সরকার সময় থাকতে ছাত্রসমাজের যৌক্তিক ও ন্যায্য দাবিগুলো মেনে নেবে।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত