ঢাকা ১৩ জুলাই ২০২৪, ২৯ আষাঢ় ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

বর্তমানে আমরা ৯৮ শতাংশ ওষুধ তৈরিতে সক্ষম

বর্তমানে আমরা ৯৮ শতাংশ ওষুধ তৈরিতে সক্ষম

দেশে বর্তমানে ৯৮ শতাংশ ওষুধ তৈরিতে আমরা সক্ষম। দেশে ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিষয়ে পড়ানো হয় এবং অসংখ্য মেডিকেল কলেজ রয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে যেখানে ১৭টি ওষুধ নিষিদ্ধ করা কঠিন হয়ে যায়, সেখানে ১ হাজার ৭৪২টি ওষুধ নিষিদ্ধ করে কমিটি। এমন তথ্য উঠে এসেছে ঢাকার সাভারে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে ‘জাতীয় ওষুধনীতি ১৯৮২ প্রণয়নের ৪২ বছর : অর্জন ও ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে। গতকাল সকাল ১০টায় সাভারের আশুলিয়ার মির্জানগর এলাকায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের পিএইচএ অডিটোরিয়ামে উবিনীগ এর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা আকতারের সঞ্চালনায় এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।

সেমিনারের আলোচক বিএসএমএমইউ-এর ফার্মাকোলজি ষ ১ম পৃষ্ঠার পর

বিভাগের চেয়ারপার্সন অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, জাফরুল্লাহ স্যারের দূরদৃষ্টি, দেশের প্রতি ভালোবাসা, দৃঢ় মনোবল সবগুলো অন্তর্ভুক্তির কারণে ওষুধ বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কমিটি শুধু টেকনিক্যাল কমিটিতে সীমাবদ্ধ না থেকে হয়েছে, গণমানুষের ওষুধ বিষয়ক কমিটি। আগে বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের ওষুধ সম্পর্কিত তথ্য গোপন রেখে অন্যায়ভাবে অধিক মুনাফা অর্জন করা হতো। ওষুধ নীতি ১৯৮২-এর মাধ্যমে নতুনভাবে নীতিমালা প্রণয়ন করে জনগণের কল্যাণে ক্ষতিকর ও অকার্যকর ওষুধ নিষিদ্ধ করা হয়। তিনি আরও বলেন, পৃথিবীর ইতিহাসে যেখানে ১৭টি ওষুধ নিষিদ্ধ করা কঠিন হয়ে যায় সেখানে ১ হাজার ৭৪২টি ওষুধ নিষিদ্ধ করে এই কমিটি। ৮২-এর ওষুধ নীতি যে লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে ৪২ বছর পর তা কতটুকু কার্যকর হচ্ছে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। ওষুধ নীতির কার্যকর করতে হবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি অনুষদের সাবেক ডীন ও বায়োলজিকাল রিসার্চ সেন্টারের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. আ ব ম ফারুক বলেন, স্বাস্থ্য ও ওষুধ এগুলো মুক্তিযুদ্ধের অংশ। বহুজাতিক কোম্পানিগুলোকে সরকার যেভাবে সাহায্য করেছিলেন তাতে সেসময় দেশীয় অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অনেক ক্ষতি হয়েছিল। ওষুধের ক্ষেত্রে সমাজতন্ত্রের প্রয়োজন ছিল না বলে ভাবা হতো। অতীতে আমাদের দেশে কাঁচামাল তৈরি হতো না অথচ বিদেশি কোম্পানিরা সরকারের কাছে চুক্তিবদ্ধ হয়েছিল দেশে কাঁচামাল বানানোর। কিন্তু তারা কথা রাখেনি। ১৯৮০ সালে তারা শুধু বলেছিল দেশে গ্লুকোজ তৈরি করা যাবে। তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ৯৮ শতাংশ ওষুধ তৈরিতে আমরা সক্ষম। দেশে ৩৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফার্মেসি বিষয়ে পড়ানো হয় এবং অসংখ্য মেডিকেল কলেজ রয়েছে। আমাদের সবারই এ নিয়ে কাজ করা দরকার। অনুষ্ঠানে মতামত প্রকাশ করেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. শিরিন হক, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ডা. লায়লা পারভিন বানু, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র ডায়ালাইসিস সেন্টারের সাবেক উপ-পরিচালক ডা. লিয়াকত আলী এবং ডা. হাবিবুল্লাহ তালুকদার। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন- বিআইডিএসের গবেষণা পরিচালক ডা. কাজী ইকবাল, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. আবুল কাশেম চৌধুরী, ডা. শিরিন হক, সৈয়দা রেজওয়ানা হাসান, ডা. মনজুর কাদির আহমেদ, ডা. কণা চৌধুরী, গণবিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আবুল হোসেন, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. সিরাজুল ইসলাম, রেজিস্ট্রার এস তাসাদ্দেক আহমেদ, গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের কমিউনিটি মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. আবুল বাশার, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. বিশ্বজিৎ, ওয়াটার এইডের রিজিওনাল পরিচালক ডা. মো. খায়রুল ইসলাম, গণবিশ্ববিদ্যালয় ও গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত