ঢাকা ২০ জুলাই ২০২৪, ৫ শ্রাবণ ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

চার দিনের চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী

চার দিনের চীন সফরে প্রধানমন্ত্রী

চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে চীন সফরে গিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের বিনিয়োগ ও বাণিজ্য, আর্থিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্য গতকাল চার দিনের সফরে বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে চীনের স্থানীয় সময় বিকাল ৬টায় বেইজিং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে ২০টির মত সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে এবং কিছু উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ঘোষণা হবে বলে গত রোববার এক ব্রিফিংয়ে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল ইকোনমি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রভৃতি খাতে সহায়তা, ষষ্ঠ ও নবম বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ নির্মাণ, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পিপল টু পিপল কানেক্টিভিটি প্রভৃতি রয়েছে সমঝোতা স্মারকের তালিকায়। তবে আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনায় চীনের অর্থায়নের বিষয়টি এ সফরে চূড়ান্ত হবে কি না, সে বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

সফরের দ্বিতীয় দিন মঙ্গলবার সকালে এশিয়ান ইনফ্রাস্ট্রাকচার ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিন লিকুনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। একই দিন সাং-গ্রি-লা সার্কেলে অনুষ্ঠেয় বাণিজ্য, ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্মেলনে যোগ করবেন শেখ হাসিনা। ওই সম্মেলনে অংশ নিতে বাংলাদেশ থেকে একটি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল চীন সফর করছে। ওইদিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী চায়নিজ পিপলস পলিটিক্যাল কনসাল্টেটিভ কনফারেন্সের (সিপিপিসিসি) চতুর্দশ জাতীয় কমিটির চেয়ারম্যান ওয়াং হুনিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। আজ মঙ্গলবার বিকালে ঐতিহ্যবাহী তিয়েনআনমেন স্কয়ারে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর রাতে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন।

সফরের তৃতীয় দিন বুধবার চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধান লি কিয়াংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাৎ হবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে একটি অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। সেখানে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধিদলসহ দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হবেন। এরপর শেখ হাসিনা ও লি চিয়াংয়ের উপস্থিতিতে ২০টির মতো সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে এবং কিছু প্রকল্প উদ্বোধনের ঘোষণা দেওয়া হবে।

১০ জুলাই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রিমিয়ার লি কিয়াংয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত হবে।

এ সময় তাদের উপস্থিতিতে সমঝোতা স্মারকসহ (এমওইউ) বেশ কিছু নথিতে সই করা হবে। পরে তিনি চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ সভায় যোগ দেবেন। ১১ জুলাই বাংলাদেশ বিমানের একটি বিশেষ ফ্লাইটে চীন ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। দুপুর ২টায় তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর নিয়ে গত রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছিলেন, চীনের সঙ্গে আমাদের বাণিজ্য বৈষম্য অনেক বেশি। এই বৈষম্য মেটানোর জন্য আমরা যাতে আরো বেশি করে কৃষি এবং অন্যান্য পণ্য রপ্তানি করতে পারি, এ ক্ষেত্রে অশুল্ক বাধাসহ অন্যান্য যে বাধাগুলো আছে, সেগুলো যাতে তুলে নেওয়া হয় এবং তাদের আমদানিকারকদের যাতে উৎসাহিত করা হয়, সেটি আমরা বলব।

বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আর ২০২৫ সালে বাংলাদেশ ও চীনের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি হবে। এ উপলক্ষ্যে বছরব্যাপী রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি ও দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগ হবে বলে উল্লেখ থাকতে পারে। টাকা ও রেনমিনবিতে লেনদেন সম্ভাব্যতা যাচাই করার বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। জলবায়ু পরিবর্তন, ডিজিটাল ও স্বাস্থ্য সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে আসতে পারে।

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীকে চীনের পক্ষ থেকে সরকারি সফরের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়। চীন বাংলাদেশের অবকাঠামোগত এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একজন গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী হিসেবে কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালে বঙ্গবন্ধুর চীন সফর এবং পরে ১৯৭৫ সালের বাংলাদেশকে চীন স্বীকৃতি দেয়। এছাড়াও বাংলাদেশের উন্নয়নে অংশীদার হিসেবে কাজ করছে চীন। এর ধারাবাহিকতায় দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে উন্নয়নের পথে অগ্রসরমান আছে। ২০১৬ সালে শি জিনপিংয়ের ঢাকা সফরের সময় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ‘কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদারত্বে’ উন্নীত হয়।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত