ঢাকা ২৩ জুলাই ২০২৪, ৮ শ্রাবণ ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি

আলুর দাম ৭০ টাকা !

গতকাল রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, জুরাইন, শ্যামবাজার ও কারওয়ান বাজার ঘুরে প্রতিবেদনটি করেছেন মো. সাইফ আহমেদ সনি
আলুর দাম ৭০ টাকা !

বাজারে আলুর দাম চড়া। প্রতিদিনই যেন একটু একটু করে বাড়ছে। এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রায় সকল রান্নার এই পণ্যটির দাম বেড়েছে কেজিতে ৫ থেকে ১০ টাকা। খুচরায় প্রতি কেজি আলু ৬৫ থেকে ৭০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ৬০ টাকার আশপাশে ছিল। খুচরা ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিমাগার ফটকে আলুর দাম বাড়ায় এর প্রভাব পড়েছে ভোক্তা পর্যায়ে। হিমাগার মালিকরা বলছেন, মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে কম দামে আলু কিনে হিমাগারে রেখেছেন অনেক মজুতদার। তারাই এখন বেশি দামে আলু বিক্রি করছেন। মাসখানেক আগে ঢাকার খুচরা বাজারে আলুর কেজি ছিল ৫০ টাকার মধ্যে। কিন্তু গতকাল রাজধানীর মালিবাগ, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজারে প্রতি কেজি আলু ৬৫ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হয়। ছোট বাজার ও মহল্লায় ৭০ টাকার কমে এক কেজি আলু মিলছে না। তবে কারওয়ান বাজার ও যাত্রাবাড়ীর পাইকারি বাজারে গতকাল (প্রতি পাল্লা ৫ কেজি) আলু ৫৬ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়। গত বছরের অক্টোবরে প্রতি কেজি আলুর দাম ৭০ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল। তখন ভারত থেকে আলু আমদানি করা হয়। এবারও কিছু আলু আমদানি হয়েছে। তবে ডলারের দাম বেশি হওয়ায় ব্যবসায়ীদের আলু আমদানিতে আগ্রহ কম দেখা গেছে। সরকারি বিপণন সংস্থা ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, আলুর দর এক মাসে প্রায় ৯ ও এক বছরে ৬০ শতাংশ বেড়েছে। সংস্থাটির প্রতিবেদন বলছে, গত বছরের এ সময় খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ৩৮ থেকে ৪০ টাকা।

কারওয়ান বাজারের পাইকারি আলু ব্যবসায়ী ছলিম উদ্দিন বলেন, ‘হিমাগারেই আলুর দর চড়া। এক-দুই টাকা করে দু-এক দিন পর পরই দর বাড়ছে। সে কারণে খুচরায়ও দাম বেশি।’ তিনি বলেন, ‘মৌসুমে বেশি লাভের আশায় কৃষকরা তাড়াতাড়ি আলু তুলেছেন। এ জন্য ফলন কিছুটা কম। আর ভারত থেকে আলু না আসায় দেশি আলু দিয়েই বাজার চলছে।’ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৯ লাখ টনের বেশি। তবে এই হিসাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেন হিমাগার মালিকরা। তাদের হিসাবে আলু উৎপাদন হয়েছে ৭০ থেকে ৭৫ লাখ টন। দেশে বছরে আলুর চাহিদা ৯০ লাখ টনের কিছু বেশি। সেই হিসাবে এবার পণ্যটির ঘাটতি ১০ থেকে ১৫ লাখ টন। হিমাগার মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএসএ) সভাপতি মোস্তফা আজাদ চৌধুরী বাবু বলেন, আলুর উৎপাদন কিছু কম হয়েছে। বর্তমানে হিমাগারে মজুতদার ও কৃষকের ২৩ লাখ টনের কিছু বেশি আলু রয়েছে। এই আলু দিয়ে কমবেশি পাঁচ মাস চলা যাবে; যারা হিমাগারে আলু রেখেছেন তারা ‘ধীরে চলো’ নীতিতে খালাস করলে আলুর দর বেড়ে যাবে। এফবিসিসিআইর সাবেক এ সিনিয়র সহ-সভাপতি আরো বলেন, ‘২৪-২৫ টাকা কেজি দরে আলু কিনে হিমাগারে রেখেছেন অনেক মজুতদার; কিন্তু এখন তারা হিমাগার গেটে প্রতি কেজি আলু বিক্রি করছেন ৪৬ থেকে ৪৯ টাকা দরে। অথচ ৩৫ টাকা দরে পাইকারি বিক্রি করলেও তাদের মুনাফা থাকার কথা।’

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত