ঢাকা ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩১ আষাঢ় ১৪৩১ | বেটা ভার্সন

চীনের সঙ্গে ২১ চুক্তিসহ ৭ প্রকল্প স্বাক্ষর

বাংলাদেশকে বিনা সুদে ঋণ দিতে প্রতিনিধি পাঠাবে চীন : সি জিনপিং
চীনের সঙ্গে ২১ চুক্তিসহ ৭ প্রকল্প স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার ২১টি নতুন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়া দুই দেশের অংশীদারিত্বে উন্নীত করতে আরও ৭টি প্রকল্পের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাত, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল ইকোনমি, অবকাঠামোগত উন্নয়নে চীনের অংশীদারিত্ব বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দুই দেশের ‘অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায়’ পৌঁছাতে সফরটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। শেখ হাসিনার সেই আহ্বান সাড়া দিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংও বাংলাদেশকে বিনা সুদে ঋণসহ আর্থিক খাতে সহযোগিতার জন্য শিগগিরই প্রতিনিধি দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং এবং প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেছেন। গতকাল চীনের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর। পরে গতকাল রাতেই ঢাকার উদ্দেশে চীনের রাজধানী বেইজিং ত্যাগ করেন শেখ হাসিনা।

রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে দুই সরকারের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে চীনের সম্পৃক্ততা আরো বেশি সংযুক্ত করতে উভয় দেশ বিদ্যমান ‘কৌশলগত অংশীদারিত্ব’ থেকে ‘বিস্তৃত কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশদারিত্বে’ উন্নীত করতে ২১টি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়। যার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) নবায়ন এবং আরো ৭টি প্রকল্পের ঘোষণা রয়েছে। বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপল-এ দুই দেশের মধ্যে প্রতিনিধি পর্যায়ের আলোচনার পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের উপস্থিতিতে চুক্তিগুলো স্বাক্ষর করা হয়।

এর আগে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের জন্য গ্রেট হল অব দ্য পিপলে পৌঁছালে তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী গ্রেট হল অব দ্য পিপল প্রাঙ্গণে পৌঁছালে চীনের প্রধানমন্ত্রী তাকে স্বাগত জানান।

দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় মূলত রোহিঙ্গা ইস্যু, ব্যবসা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের পাশাপাশি বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকের পর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী নথি বিনিময় প্রত্যক্ষ করেন।

অর্থনৈতিক ও ব্যাংকিং খাতে সহযোগিতা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ডিজিটাল অর্থনীতি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সহায়তা, ষষ্ঠ ও নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু নির্মাণ, বাংলাদেশ থেকে কৃষিপণ্য রপ্তানি এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে যোগাযোগের বিষয়ে চুক্তি সই হয়। চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ২১টি চুক্তি হলো- ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদার, চায়না ন্যাশনাল ফাইন্যান্সিয়াল রেগুলেটরি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এনএফআরএ) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মধ্যে ব্যাংকিং এবং বিমা নিয়ন্ত্রণ, বাংলাদেশ থেকে চীনে তাজা আম রপ্তানির জন্য উদ্ভিদ স্বাস্থ্য সম্পর্কিত (ফাইটোস্যানিটারি) উপকরণ বিষয়ে একটি প্রটোকল, অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতি সহায়তা, বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ সহায়তা, বাংলাদেশে প্রকল্পে চায়না-এইড ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টারের ‘সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা’ বিষয়ে আলোচনার একটি সাইনিং অব মিনিটস (কার্যবিবরণী), চীনের সহায়তায় ৬ষ্ঠ বাংলাদেশ-চায়না মৈত্রী সেতু সংস্কার প্রকল্পের চিঠি বিনিময়, নাটেশ্বর প্রত্নতাত্বিক স্থাপনা পার্ক প্রকল্পে চায়না-এইড কনস্ট্রাকশনের সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা বিষয়ে চিঠি বিনিময়, চীনের সহায়তায় নবম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতু প্রকল্প বিষয়ে চিঠি বিনিময়, মেডিকেল সেবা এবং জনস্বাস্থ্য বিষয়ে সহযোগিতা শক্তিশালী করতে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়। এছাড়াও অবকাঠামোগত সহযোগিতা জোরদার, গ্রিন অ্যান্ড লো-কার্বন উন্নয়নে সহযোগিতা, বন্যার মৌসুমে ইয়ালুজাংবু (ব্রহ্মপুত্র) নদীর হাইড্রোলজিক্যাল তথ্য বাংলাদেশ দেওয়ার বিধিবিষয়ক সমঝোতা, চীনের জাতীয় বেতার ও টেলিভিশন প্রশাসন এবং বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা, চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি) এবং বিটিভি’র মধ্যে সমঝোতা, সিনহুয়া নিউজ এজেন্সি ও বিটিভির মধ্যে সমঝোতা, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এবং বাংলদেশের জাতীয় সংবাদ সংস্থা বাসসের মধ্যেও একটি স্মারক সই হয়, সিনহুয়া সংবাদ সংস্থা এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) একটি স্মারক, একটি সমঝাতা স্মারক নবায়ন করে চীনের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়।

অন্যদিকে ৭টি ঘোষণা হচ্ছে- চীন-বাংলাদেশ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে যৌথ সম্ভ্যাবতা সমীক্ষা সমাপ্তি, চীন-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি ত্বরান্বিতকরণ নিয়ে আলোচনা, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি প্রকল্পের জন্য টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্কের আধুনিকীকরণের সমাপ্তি, ডাবল পাইপলাইন প্রকল্পের সাথে সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিং এর ট্রায়াল রান সমাপ্তি, রাজশাহী ওয়াসা সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট চালু, শানদং কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুরের মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর এবং বাংলাদেশে লুবান ওয়ার্কশপ নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া হয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট (বিজি-১৭০৪) রাত ১০টায় বেইজিং ক্যাপিটল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবে। বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ঢাকা পৌঁছে বিমান। চীন সফরে আগে থেকে চার দিন নির্ধারিত হলেও তার সফরসূচিতে পরিবর্তন এসেছে। রাষ্ট্রীয় সব কাজ শেষ হয়ে যাওয়ার পর বেইজিংয়ে না থেকে প্রধানমন্ত্রী দেশে ফিরেছেন।

আরও পড়ুন -
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত